ফুটবলার দে মিয়েলের মৃত্যুতে শোকে ভাসছে স্পেন
প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে স্ট্রাইকার হেসুস দে মিয়েলের মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে তেনেরিফে।
মাঠে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে হেসুস দে মিয়েলের মৃত্যুতে শোকের সাগরে ভাসছে স্পেন। ৩০ বছর বয়সি স্ট্রাইকারের জন্য শোক প্রকাশ করেছে বার্সেলোনা, রেয়াল মাদ্রিদসহ বিভিন্ন ক্লাব। ব্যক্তিগতভাবে শোক জানিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে, রদ্রিসহ অনেক ফুটবলার।
স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগে সোমবার এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচে বলের দখল নিয়ে গোলরক্ষক হেসুস ওনোর সঙ্গে সংঘর্ষ হয় তেনেরিফের স্ট্রাইকার দে মিয়েলের। সে সময় মাথা ও বুকে আঘাত পান তিনি। ওই ফাউলের জন্য লাল কার্ড দেখেন ওনো।
মাঠে কিছুক্ষণ শুশ্রূষা দেওয়ার পর দে মিয়েলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তার অবস্থা স্থিতিশীল কিন্তু গুরুতর। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে দ্রুত অবনতি হতে থাকে। স্থানীয় সময় সকাল আটটার দিকে মারা যান এই স্প্যানিশ ফুটবলার।
এক বিবৃতিতে দে মিয়েলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তার ক্লাব তেনেরিফে।
ওই সংঘর্ষের সময় ম্যাচে ছিল ২-২ সমতা। দে মিয়েলে মাঠে জ্ঞান হারালে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। সে সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের বিধ্বস্ত দেখায়, অনেকের চোখে ছিল জল। সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েন ওনো। ড্রেসিং রুমে কাঁদছিলেন তিনি এবং দে মিয়েলের জন্য প্রার্থনা করছিলেন।
কয়েকটি স্প্যানিশ গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন দে মিয়েল।
তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে আন্দোরা।
“ভাঙা হৃদয় ও গভীর শোক নিয়ে, আমরা হেসুস দে মিয়েলের পরিবার, তার সতীর্থ, বন্ধু ও তেনেরিফের প্রতি আমাদের অত্যন্ত আন্তরিক সমবেদনা জানাতে চাই।”
বার্সেলোনার সাবেক ডিফেন্ডার ও আন্দোরার মালিকদের একজন জেরার্দ পিকেও গভীর শোক জানান।
“আমি আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। শান্তিতে ঘুমাও, হেসুস।”
লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাসও শোক জানিয়েছেন।
“আজ, আমরা সবাই এই অপূরণীয় ক্ষতির এক ভয়াবহ বেদনা ভাগ করে নিচ্ছি। তার পরিবার, প্রিয়জন, সতীর্থ এবং পুরো ক্লাবের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা।”
স্পেন ও ইউরোপের সফলতম ক্লাব রেয়াল মাদ্রিদ বলেছে, “অসীম বেদনা, প্রকাশ করার মতো কোনো ভাষা নেই।”
দে মিয়েলের মৃত্যুতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় স্প্যানিশ কাপের (নারী ও পুরুষ) সব ম্যাচ স্থগিত করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচগুলোতে এক মিনিট নীরবতা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা উয়েফা।
দে মিয়েলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশের ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন বার্সেলোনা মিডফিল্ডার পেদ্রি।
“হেসুস দে মিয়েলের মৃত্যু আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। তার পরিবার ও তেনেরিফে পরিবারের জন্য ভালোবাসার আলিঙ্গন। আর তার প্রতি আমার গভীর ও বিনম্র শ্রদ্ধা। শান্তিতে ঘুমাও।
ফ্রান্স অধিনায়ক ও রেয়াল তারকা এমবাপেও শোকাহত মর্মান্তিক এই খবরে।
“খুবই দুঃখজনক, প্রকাশ করার মতো কোনো ভাষা নেই। ওপারে শান্তিতে থাকুন।”
এছাড়া রেয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনের সময় দে মিয়েলের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
