০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

দে মিগেলের শেষকৃত্যে অংশ নিলেন স্পেন কোচ ও রেয়াল মাদ্রিদ সভাপতি

মাঠে সংঘর্ষের ঘটনায় মারা যাওয়া ফুটবলালের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে, ফ্লোরেন্তিনো পেরেস ও স্প্যানিশ ফুটবলের শীর্ষ কর্তাদের অনেকে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Nov 2026, 01:06 PM

Updated : 06 Nov 2026, 01:07 PM

মাঠে সংঘর্ষের ঘটনায় মারা যাওয়া ফুটবলার হেসুস দে মিগেলের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেন স্পেন জাতীয় ফুটবল কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে, রেয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেস ও স্প্যানিশ ফুটবলের শীর্ষ কর্তাদের অনেকে। প্রয়াত ফুটবলারের পরিবার ও সতীর্থদের সমবেদনা জানান তারা।

গত সোমবার দ্বিতীয় বিভাগের একটি খেলায় প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরদিন মারা যান ৩০ বছর বয়সী দে মিগেল।

দে মিগেলের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার উপস্থিত শত শত মানুষের মধ্যে ছিলেন তেনেরিফের ফুটবলাররাও। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ থেকে এসে যোগ দেন তারা।

শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতার আগে দে লা ফুয়েন্তে সাংবাদিকদের বলেন, “গভীর দুঃখ ও আন্তরিক আবেগের সঙ্গে আমরা আমাদের সমবেদনা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। ফুটবল অঙ্গন যে ঐক্যবদ্ধ, তা প্রকাশ করার সেরা উপায় হলো তার সব প্রিয়জনকে উষ্ণ আলিঙ্গন পাঠানো।”

ফুলে সজ্জিত শবযাত্রার গাড়িটি মধ্য স্পেনের নাভাহেরমোসা শহরের গির্জায় ধীরে ধীরে এসে পৌঁছায়। গাড়ির পেছনে ছিল অনেক মানুষ, তাদের হাতে হাতে ছিল মোমবাতি। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর শববাহকরা দে মিগেলকে স্থানীয় কবরস্থানে নিয়ে যান।

দে মিগেলের বাবা-মা জন্মগ্রহণ করেছিলেন মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণে দুই ঘণ্টারও কম দূরত্বের শহর এই নাভাহেরমোসায় । প্রায় ৩ হাজার বাসিন্দার এই শহরটি তিন দিনের শোক ঘোষণা করে এবং টাউন হলে পতাকা অর্ধনমিত রাখে।

তার পরিবার একটি বিবৃতি দিয়ে শোক প্রকাশকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধও করেছে।

“এই পরিস্থিতির জন্য যে প্রশান্তি প্রয়োজন, তা নিয়েই আমাদের শোক পালন করতে হবে। হেসুস এমন এক শূন্যতা রেখে গেছেন, যা পূরণ করা অসম্ভব, কিন্তু আমাদের সকলের মনে তিনি এক অপার স্মৃতি হয়ে থাকবেন, যারা তার সাঙ্গে জীবন কাটানোর সৌভাগ্য লাভ করেছিলাম।”

গত সোমবার দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে আন্দররা ও তেনেরিফের লড়াইয়ের ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে একটি উঁচু বল দখলের লড়াইয়ের সময় দে মিগেলের ওপর আছড়ে পড়েন প্রতিপক্ষ গোলকিপার হেসুস ওউনো। দে মিগেল মাঠের ঘাসের ওপর লুটিয়ে পড়েন। চিকিৎসাকর্মীরা পাঁচ মিনিট ধরে তার শুশ্রূষা করার পর তাকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যান। পরে আর তিনি ফিরে আসেননি।

ওউনো এই ঘটনার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন এবং দে মিগেলের স্ত্রী ও এক বছরের কন্যাসহ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

স্পেনের জাতীয় পুলিশ সম্ভাব্য অনিচ্ছাকৃত হত্যার বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু করেছে - যা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখবেন যে, ওউনোর ধাক্কাটি খেলার স্বাভাবিক গতির বাইরে ছিল কিনা।