০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

‘বেলিংহ্যামের মতো মিডফিল্ডার বিশ্বে আর নেই’

জুড বেলিংহ্যামের মতো সব দিক থেকে এতটা পরিপূর্ণ মিডফিল্ডার গোটা বিশ্বেই আর দেখেন না জুজে মরিনিয়ো।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Nov 2026, 01:18 PM

Updated : 05 Nov 2026, 01:18 PM

পরিপূর্ণ মিডফিল্ডার হিসেবে স্তুতি পাওয়া জুড বেলিংহ্যামের জন্য নতুন কিছু নয়। এবার তাকে সর্বোচ্চ প্রশংসাতেই ভাসালেন জুজে মরিনিয়ো। রেয়াল মাদ্রিদ কোচ বললেন, বেলিংহ্যামের মতো সব দিক থেকে এতটা পরিপূর্ণ মিডফিল্ডার গোটা বিশ্বেই আর দেখেন না তিনি।

মিডফিল্ডার হিসেবে নিজের মান ম্যাচের পর ম্যাচ ধরেই মেলে ধরছেন বেলিংহ্যাম। গোল তৈরি করা, গোল করা, মাঠজুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো, রক্ষণে ভূমিকা রাখা, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়া, ডিফেন্স ভেদ করে নান্দনিক সব পাস দেওয়া, কোনো দিকেই যেন কোনো ঘাটতি নেই তার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার এইকে এথেন্সের বিপক্ষে ম্যাচেও দেখা গেছে তার সেই রূপ।

ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত খেলার পাশাপাশি দারুণ একটি গোলও করেন বেলিংহ্যাম। দ্বাদশ মিনিটে পিছিয়ে পড়া রেয়াল ৩২তম মিনিটে সমতায় ফেরে ইংলিশ তারকার দৃষ্টিনন্দন গোলে। পরে ৭৫তম মিনিটে আবার পিছিয়ে পড়া দলটি শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে ম্যাচ জিতে নেয় কিলিয়ান এমবাপের গোল ও শেষ সময়ে ফেভে ভালভের্দের অসাধারণ গোলে।

শেষের নায়ক ভালভের্দে হলেও ম্যাচের নায়ক বেলিংহ্যাম। ম্যাচসেরার ট্রফি তার হাতেই উঠেছে। ম্যাচের পর ২৩ বছর বয়সী ফুটবলারকে নিয়ে মুগ্ধতার কথা বলতে গিয়ে যেন উপযুক্ত ভাষা পাচ্ছিলেন না মরিনিয়ো।

“সে অনন্য এক ফুটবলার। তার মতো মিডফিল্ডার বিশ্বের নেই, যে সব দিক থেকেই এত পরিপূর্ণ। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি, কারণ আমার কাছে সে একেবারেই অসাধারণ।

“এমনকি যখন কোনো ম্যাচ তার ভালো যায় না... তখনও সে কঠোর পরিশ্রম, নেতৃত্ব, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, গুণমান, আক্রমণাত্মক দৌড়, গোল—সবকিছুই উপহার দেয়। সে অসাধারণ এক ফুটবলার। আমি আবারও বলছি, এই স্কোয়াডটি পেয়ে আমি খুবই ভাগ্যবান।”

শেষ সময়ে ভালভের্দের গোলটি না হলে অবশ্য গোটা ম্যাচের বাস্তবতাই অন্যরকম হতো। বদলি নামা রেয়াল অধিনায়ক ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে গোলার মতো শটে বল জালে জড়ান।

মরিনিয়ো অবশ্য জানালেন, দূর থেকে শট নেওয়ার নির্দেশনা ভালভের্দের প্রতি ছিল না।

“ফেদের সেই সামর্থ্য আছে (দূর থেকে গোল করার)। যখন সে রাইট ব্যাক হিসেবে খেলে, তখন ওই পজিশন থেকে কাজটা জটিল হয়ে যায়। আমি আজ তাকে শট নিতে বলিনি। তাকে যা বলেছিলাম তা হলো, খেলাটা ছিল উন্মুক্ত, এটা ছিল দ্রুত গতিতে খেলার মতো একটি ম্যাচ, এবং উভয় দলই ইতোমধ্যে শারীরিকভাবে ক্লান্ত ছিল। সেখানে ফেদের মতো একজন সতেজ ফুটবলার, যার ক্ষমতা আছে দ্রুত জায়গা কভার করার, তাকে বলেছিলাম ফাঁকা জায়গায় আক্রমণ করতে এবং বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছাতে।”

বেলিংহ্যাম-ভালভের্দেরা দারুণ প্রভাব রাখলেও ভিনিসিউস জুনিয়রের কার্যকারিতা ততটা চোখে পড়েন্ বরং বল হারিয়েছেন তিনি কয়েকবার, আক্রমণেও ছিলেন না খুব সক্রিয়। এক পর্যায়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়। তবে কোচ বললেন, ব্রাজিলিয়ান তারকার খেলায় তিনি সন্তুষ্ট।

“আমার মনে হয়, সে ভালো খেলেছে। এরপর আমি দুজন বদলি নামিয়ে বাম প্রান্তটাকে সতেজ করার সিদ্ধান্ত নিই। কুকুরাইয়া হলুদ কার্ড পেয়েছিল এবং আলভারো (কাররেরাস) সতেজ ছিল। আলভারো প্রান্ত দিয়ে অনেক সামনে এগিয়ে যায় এবং ব্রাহিম মাঝখানে খুব ভালো খেলে। আমি সেখানে কিছু নতুন ফুটবলার আনতে চেয়েছিলাম বলে বদলি করেছি। কিন্তু আমার মতে, ভিনি বেশ ভালো খেলেছে।”

লা লিগায় ভিনিসিউসের নিষেধাজ্ঞায় গত কিছুদিনে লেফট উইংয়ে খেলে দারুণ নজর কেড়েছেন ইয়ান ডিওমান্ডে। দলের আক্রমণের ধার বাড়াতে সহায়তা করেছেন তিনি, আক্রমনভাগে অন্যদের সঙ্গে তার সমন্বয়ও ছিল চমৎকার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভিনিসিউস থাকায় ডিওমান্ডেকে খেলতে হয়েছে রাইট উইংয়ে। আক্রমণভাবে সেই প্রভাব বোঝা গেছে।

মরিনিয়ো অবশ্য ভিনিসিউসের দিকে এজন্য আঙুল তুলতে চান না।

“ভিনিসিউস কোনো সমস্যা তৈরি করেনি। (ডিওমান্ডেকে ডান উইংয়ে ঠেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে)। ডিওমান্ডে রেয়াল মাদ্রিদে এসেছে শুধু একটি উইংয়ে নয়, বরং দুই উইংয়ে খেলার জন্যই। এটা তার কাছে কোনো ব্যাপার নয়। কোন উইংয়ে সে খেলছে, তাতে বিন্দুমাত্র পার্থক্য হয় না।”