Published : 21 Jun 2026, 08:05 AM
বিশ্বকাপে বাজে শুরুর পর, পর্তুগাল দল ও অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে সমালোচনা হচ্ছে ব্যাপক। সমালোচকদের পাল্টা জবাব দিয়ে দলটির ডিফেন্ডার দিয়োগো দালোত বলছেন, কিছু মানুষ সক্রিয়ভাবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযানের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
উত্তর আমেরিকা আসরে প্রথম ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব (ডিআর) কঙ্গোর বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও ১-১ ড্র করে শিরোপাপ্রত্যাশী পর্তুগাল। ম্যাচ শেষের পর থেকে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
দ্বিতীয় ম্যাচে মঙ্গলবার উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে সমালোচনার প্রসঙ্গে দালোত বলেন, এসব নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না তারা।
“সমালোচনা হবেই, কিন্তু আমাদের বার্তা হলো, লাখ লাখ মানুষ চায় পর্তুগাল জিতুক এবং এমনও অনেকে আছে যারা চায় না পর্তুগাল জিতুক। আমি ফুটবলের সঙ্গে অনেক দিন ধরে যুক্ত আছি, তাই আমি জানি, সমালোচনা এই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ এবং আমরা তা এড়াতে পারি না। তবে গঠনমূলক সমালোচনাও রয়েছে।”
“আমাদের বার্তা স্পষ্ট: আমরা দল হিসেবে ঐক্যবদ্ধ, আমরা শক্তিশালী এবং জয়ের জন্য আমরা সবকিছু করতে প্রস্তুত।”
পর্তুগালের জয় না চাওয়া মানুষেরা কারা, এমন প্রশ্নের উত্তরে রহস্য রেখে দেন ২৭ বছর বয়সী দালোত।
“আমি এক বা দুজন মানুষের নাম বলতে পারব না, তবে এমন কিছু মানুষ আছে যারা চায় না পর্তুগাল জিতুক। আমার কাজ হলো মাঠে নেমে খেলা এবং এই বার্তা দেওয়া যে ফলাফল যাই হোক না কেন, এই দল শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ। সবাই আরও ভালো করতে চায়।”
সমালোচনা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে নিয়ে। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে একেবারেই নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের পাশেও দাঁড়ালেন দালোত।
“সমালোচনা সামলানোর ব্যাপারে ক্রিস্তিয়ানোর দক্ষতার কথা সবাই জানে। তিনি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। আমার মনে হয়, তিনি দলকে যা দেন, তা আমাদের এই বার্তা দেয় যে, সমালোচনা খেলারই একটি অংশ এবং সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে খেললে সমালোচনা সবসময়ই থাকবে।”
“তিনি আমাদের যে আত্মবিশ্বাস দেন এবং আমরা তাকে যে আত্মবিশ্বাস দিই, তা সবসময় একই ছিল এবং থাকবে, যতদিন তিনি জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন।”
দালোত জানালেন, বিশ্বকাপের আগে তারা সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে রেখেছিলেন নিজেদের।
“ব্যক্তিগত আলাপে আমরা কী বলি, তার খুব বেশি কিছু প্রকাশ না করেই বলছি, বিশ্বকাপের আগে সামাজিক মাধ্যম ও সমালোচনা নিয়ে আমাদের মধ্যে একটি আলোচনা হয়েছিল।”
“যখন এমন একটি দল থাকে, বিশেষ করে দলে ক্রিস্তিয়ানোর মতো খেলোয়াড় থাকলে, আমাদের এমন সমালোচনা, যা স্বাভাবিক নয়, তা সামলাতে শিখতে হবে। এ কারণেই দলকে সামাজিক মাধ্যমের সমালোচনা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল।”