Published : 20 Jul 2026, 04:11 PM
আসরের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার গোল্ডেন গ্লাভ জিতে কৃতিত্ব সতীর্থদের দিলেন উনাই সিমন। রক্ষণ সামলানোয় ডিফেন্ডারদের পাশাপাশি মিডফিল্ডার এমনকি ফরোয়ার্ডরাও ভূমিকা রাখায় অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক মনে করেন, তার কাজটা খুব সহজ ছিল।
তার কথায় মনে হতে পারে, তেমন কিছু না করেই বুঝি গোল্ডেন গ্লাভ জিতেছেন তিনি। ব্যাপারটা মোটেও তেমন নয়। অনেক গোলরক্ষকের মতো হয়তো অনেক বেশি সেভ করতে হয়নি তাকে। তবে প্রায় মাঝমাঠে উঠে গিয়ে পাউ কুবার্সিরা রক্ষণ সামলানোয় প্রায়ই ডি বক্স ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে বল ক্লিয়ার করতে হয়েছে তাকে।
আসরে সুইপার-কিপারের ভূমিকায় দারুণ সফল সিমন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয় পাওয়া ফাইনালে কোনো সেভ নেই সিমনের। লিওনেল স্কালোনির দল স্রেফ দুটি শট নিতে পারে, সেগুলো ছিল না লক্ষ্যে। তবে সিমনের যে কোনো ভূমিকা নেই তা নয়।
কয়েকবার ডি বক্স ছেড়ে বাইরে এসে বল ক্লিয়ার করেছেন। লিওনেল মেসি বা হুলিয়ান আলভারেসরা বলের নাগাল পেয়ে গেলে বিপদ হতে পারত। একটি ক্রস মাঝপথেই ডাইভ দিয়ে থামিয়েছেন তিনি।
তবে নিজের অবদানকে বড় করে দেখছেন না আসরে স্রেফ এক গোল হজম করা সিমন। দোভাষীর মাধ্যমে এই গোলরক্ষক বলেছেন, “অন্য গোলরক্ষকদের মতো (আমার হাতের) আসলে তেমন কাজ করতে হয়নি।”
সাত ম্যাচে ক্লিনশিট রাখেন সিমন। একমাত্র গোল হজম করেন বেলজিয়ামের বিপক্ষে। ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ের পথে স্পেন হজম করেছিল দুই গোল। সেই আসরের গোলরক্ষক ইকের কাসিয়াসের কীর্তি ছাপিয়ে গেলেন সিমন।
কেবল ফাইনালেই ১১টি সেভ করেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। সেখানে ৮ ম্যাচে সিমনের সেভ কেবল ১৪টি। অর্থাৎ কেবল ১৫টি শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে আট প্রতিপক্ষ। রক্ষণের দুর্দান্ত দৃঢ়তার জন্যই সেটা সম্ভব হয়েছে। আসরের নানা সময়ে সেই কথা নিজেই বলেছেন সিমন। সেই কথাই এবার ফের বললেন রূপকের সাহায্যে।
“টুর্নামেন্টে যেসব গ্লাভস ব্যবহার করেছি, সেগুলো যদি কথা বলতে পারত, তাহলে দিনশেষে বলতো, ‘অন্যান্য গোলরক্ষকের মতো তোমাকে এতো বেশি পরিশ্রম করতে হয়নি।’
“আমি মনে করি, এই জয়ে (গোল্ডেন গ্লাভ) সতীর্থদের সবার ভূমিকা আছে। আর এ জন্যই আমরা সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি।”