Published : 10 Jul 2026, 05:10 PM
দুটি লাল কার্ডের ঘটনায় ফিফার দুই রকম ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কুয়ান্সা যে কারণে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন, একই ফাউলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারাইন বালোগন নিষেধাজ্ঞার স্থগিত করেছে ফিফা।
বৈশ্বিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো সামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছেন না সাবেক রেফারিরা।
মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন ইংল্যান্ডের কুয়ান্সাকে। ডিআর পর্যবেক্ষণে তার স্লাইডিং ভয়ঙ্কর ফাউল বলে বিবেচিত হয়, এতে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন তিনি।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ফাউলের কারণে লাল কার্ড পান যুক্তরাষ্ট্রের বালোগন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ফোন করেন ফিফা প্রেসিডেন্টকে, এরপর ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দেয় ফিফা।
এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ফিফা জানায়, শৃঙ্খলাবিধির ২৭ নং ধারা অনুযায়ী বালোগন নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি সংস্থাটি। পরে, ট্রাম্পের ফোনের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে, সমালোচনা পায় তীব্র মাত্র। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সাবেক রেফারি কিথ হাকেট সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ফিফার অবস্থান নিয়ে নিজের ভাবনা জানান।
“বালোগনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ফিফা খেলার প্রতি তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বাইরের হস্তক্ষেপকে সুযোগ করে দিয়েছে, প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে।
,
“ফিফা যেহেতু প্রধান আইন প্রণেতাতারাই দোষী। কিন্তু উভয় খেলোয়াড়ই (বালোগন ও কুয়ান্সা) গুরুতর ফাউল করেছিলেন এবং তাদের লাল কার্ডের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।”
২০০২ সাল থেকে, ১৬ বছর ফিফার রেফারি ছিলেন জোনাস এরিকসন। তিনিও মনে করেন, একই অপরাধে বালোগন ও কুয়ান্সার সমান শাস্তি পাওয়া উচিত ছিল।
“রেফারিদের কাছ থেকে সবাই সঠিক সিদ্ধান্ত চায়। কিন্তু এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধারাবাহিকতা। আপনাকে এটা নিশ্চিত করতে হবে, খেলোয়াড়-এ’র শাস্তি খেলোয়াড়-বি’র শাস্তির সমান হবে। দল-এ ও বি-র শাস্তি সমান হবে, এটাই প্রত্যাশা করা হয়। কিন্তু বালোগন ও কুয়ান্সার ক্ষেত্রে সেটা হয়নি।”
ইংল্যান্ডের গণমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট দ্রুত এই দুটি ঘটনার তুলনা ধরে শিরোনাম করে, “ফোলারাইন বালোগন নিষ্কৃতি পাওয়ার কয়েক দিন পর জ্যারেল কুয়ান্সার নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করেছে ফিফা ।”
বালোগনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের বিষয়ে ফিফা কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায়, এই বিতর্কের জন্ম হয়েছে বলে মনে করেন এরিকসন।
“যদি তারা সিদ্ধান্ত কীভাবে নিয়েছে, সেটা ব্যাখ্যা না করতে পারে- এটা রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, নাকি খেলার আইনের ভুল প্রয়োগ ছিল-আমরা সেটা জানি না। এটা শুধু আমার, আপনার ও বাকি সবার অনুমান করে নেওয়ার বিষয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও, কুয়ান্সার লাল কার্ড ও তার নিষেধাজ্ঞা আমার কাছে কেবলই রহস্য।”