Published : 16 Jul 2026, 12:40 PM
আবেগের ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দিয়ে ভীষণ আপ্লুত হয়ে গেলেন লাউতারো মার্তিনেস। চোখে জল নিয়ে বললেন, ছোট বেলার কথা। বেড়ে উঠার সময়টার স্বপ্নের কথা। স্বপ্ন সত্যি করা গোল তিনি উৎসর্গ করলেন নিজের মাকে।
আটলান্টায় দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। বক্সের বাইরে থেকে এন্সো ফের্নান্দেসের চোখধাঁধানো গোলে ম্যাচে ফেরে তারা। পরে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেন মার্তিনেস।
আরও একটি অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফাইনালে উঠতে আবেগের জোয়ারে ভেসে যান আর্জেন্টিনার সবাই। ম্যাচ শেষে টিওয়াইসিকে মার্তিনেস বললেন, তার ছোট বেলার স্বপ্ন পূরণ হলো আজ।
“সত্যি বলতে আমি জানি না (কীভাবে অনুভূতি বর্ণনা করব)… এটা খুবই শক্তিশালী অনুভূতি… প্রথমবার বাবা যখন আমাকে এক জোড়া জুতা এনে দিয়েছিলেন, তখন থেকেই আমি এই গোল করার স্বপ্ন দেখতাম।”
কথা বলার সময় আবেগাপ্লুত মার্তিনেসের গলা ধরে আসছিল। পরে তিনি তার মায়ের কথাও বলেন, “আমার মায়ের জন্য (এটা), যিনি আমি রেসিং ক্লাবে যোগ দেওয়ার দিন থেকে কখনোই আমার বিছানা গুছিয়ে রাখা বন্ধ করেননি। আমার কাছে সেটার মূল্য একটি গোল বা একটি ফাইনালের চেয়েও বেশি।”
শুধু এই ম্যাচেই নয়, কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও যোগ করা সময়ে জালের দেখা পান মার্তিনেস। আর গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেন ইন্টার মিলান অধিনায়ক। মুহূর্তগুলো উপভোগ করছেন তিনি।
“আমার দুই সন্তান, তারা দুনিয়াতে আসার পর আমার জীবন বদলে দিয়েছে। আমি স্থির হয়েছি। এখন আমি এসব মুহূর্ত উপভোগ করি। আজ আমি একজন পরিণত মানুষ এবং জীবনকে উপভোগ করছি।”
চার বছর আগে কাতারে বিশ্বকাপ জেতা আর্জেন্টিনা দলের অংশ ছিলেন মার্তিনেস। কিন্তু ওই আসরে একটি গোলও করতে পারেননি তিনি। এবার গোল পাওয়ায় আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। সতীর্থদের বলেছিলেন, বদলি নেমে তিনিই গড়ে দেবেন ব্যবধান।
“শপথ করে বলছি, এমন একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম। আলেক্সিসকে (মাক আলিস্তের) বলেছিলাম, আমি একটি গোল করব। ফাকুকেও (ফাকুন্দো মেদিনা) বলেছিলাম, আমি মাঠে নামব এবং ম্যাচটি জেতাব।”
পরে কিছুটা শান্ত হয়ে ম্যাচ নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন ২৮ বছর বয়সী মার্তিনেস।
“এই দলটি দেখিয়েই যাচ্ছে, আমরা কী দিয়ে তৈরি। তারা (ইংল্যান্ড) ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, তারা ৬০ মিনিট পর্যন্ত চাপ সৃষ্টি করেছিল, এরপর তারা আর পেরে ওঠেনি। যখন তারা গোল পায়, তখন তারা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে, যা আমাদের বল নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলার ক্ষেত্রে কিছুটা মানসিক স্বস্তি দেয়। আমরা গোলগুলো পেয়েছি এবং আমরা আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে।”
টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে আগামী ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম) স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।