Published : 16 Jul 2026, 01:32 PM
১৪ বলে ফিফটি নিকোলাস পুরানের, ৩১ বলে সেঞ্চুরি। ১৭ বলে ফিফটি কাইরন পোলার্ডের। দলের রান ২০ ওভারে ২৬৬। সেই রান তাড়ায় প্রতিপক্ষ শুরুতেই টালমাটাল সাকিব আল হাসানের জোড়া ধাক্কায়। এরপর ম্যাচে আর থাকে কী! স্টিভেন স্মিথ ও আন্দ্রিয়েস হাউস দেখালেন, এরপরও ম্যাচে থাকে ইতিহাস, থাকে রেকর্ড, থাকে অবিস্মরণীয় নানা কীর্তি। এই দুজনের বিস্ফোরক সেঞ্চুরি আর রেকর্ড জুটিতে ম্যাচটি হয়ে উঠল অনন্য।
মেজর লিগ ক্রিকেটের প্রথম এলিমিনেটরে এমআই নিউয়র্কের রানের পাহাড় টপকে ফাইনালের লড়াইয়ে টিকে রইল ওয়াশিংটন ফ্রিডম। ২৬৬ রান টপকে ৬ উইকেটের এই জয় টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রান তাড়ার বিশ্বরেকর্ড।
সেই জয়টি কোনোরকমে জয় নয়, রোমাঞ্চ ছড়িয়ে জয় নয়, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয় নয়, বরং দাপুটে রান তাড়ায় অনায়াস জয়। খেলা শেষ ৮ বল বাকি রেখেই!
দুই দল মিলিয়ে ম্যাচে ছক্কা হয়েছে ৫১টি। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এই প্রথম এক ম্যাচে ছক্কার ফিফটি হলো। আগের রেকর্ড ছিল ৪২ ছক্কা। স্মিথ ও হাউসের ২৪১ রানের জুটিতেও হয়েছে রেকর্ড।
এক ম্যাচে তিন সেঞ্চুরি এই প্রথমবার দেখল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট।
ওকল্যান্ডে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে এই ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ ইয়র্ক দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার মোনাঙ্ক প্যাটেলকে হারায় রান আউটে। দ্বিতীয় উইকেটে ৪২ বলে ১১৮ রানের জুটি গড়েন কুইন্টন ডি কক ও পুরান।
২৪ বলে ৫১ রান করে আউট হন ডি কক। পুরান ফিফটি করেন ১৪ বলে, শতরানে পা রাখেন ৩১ বলে। দুটিই মেজর লিগ ক্রিকেটে দ্রুততম। শেষ পর্যন্ত আউট হন ১৩ ছক্কায় ৩৩ বলে ১০৬ রান করে।
এরপর ৮ ছক্কায় ২৫ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন পোলার্ড। সাকিব আউট হয়ে যান ৫ বলে ৪ রান করে। শেষ দিকে ট্রেন্ট বোল্ট করেন ১০ বলে ২২।
রান রানের জোয়ারের মধ্যেও অষ্টম বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে ৪ ওভারে ২৯ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন রাচিন রাভিন্দ্রা।
২০ ওভারে ২৬৬ রান মেজর লিগ ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ২৬৯ রানের রেকর্ড স্যান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের। গত বছর সেই ম্যাচটি তারা জিতেছিল ১২৩ রানে। কিন্তু এবার নিউ ইয়র্কের হলো উল্টো অভিজ্ঞতা।
বোলিংয়ে তাদের শুরুটা যদিও ছিল চমৎকার। নতুন বল হাতে ইনিংসের প্রথম ওভারেই আগ্রাসী ব্যাটসম্যান মিচেল ওয়েনকে আর্ম ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন সাকিব। বাংলাদেশের অলরাউন্ডার পরের ওভারে বিদায় করে দেন রাভিন্দ্রাকেও।
১০ রানে ২ উইকেট হারানো ওয়াশিংটন এরপর মেলে ধরে পাল্টা আক্রমণের চোখধাঁধানো প্রদর্শনী।
সাকিবের ওই ওভারেই ছক্কা মেরে স্মিথ বুঝিয়ে দেন তাদের মনোভাব। এরপর চার-ছক্কার প্লাবন বয়ে যায়। ১৯ বলে ফিফটি করেন স্মিথ।
হাউসের ফিফটি আসে ২৯ বলে। এরপর স্রেফ তাণ্ডব চালিয়ে পরের পঞ্চাশ করে ফেলেন তিনি স্রেফ ১১ বলেই!
মেজর লিগ ক্রিকেটে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি এটিই।
হাউসের মতো ঠিক ৪০ বলে শতরান পূরণ করেন স্মিথও। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি এটি, তার সবচেয়ে দ্রুতগতির শতরানও।
লক্ষ্য বিশাল বলে এমন ঝড়ের পরও সংশয় ছিল জয় নিয়ে। ১২ ওভার শেষে রান ছিল ১৪৪। তখনও ৮ ওভারে লাগে ১২৩ রান।
অবিশ্বাস্যভাবে পরের তিন ওভারে ৮১ রান তুলে স্মিথ ও হাউস দলকে এগিয়ে নেন জয়ের পথে।

ত্রয়োদশ ওভারে রোমারিও শেফার্ডের বলে টানা চার ছক্কার পর বাউন্ডারি মারেন হাউস। ওভার থেকে আসে ২৯ রান। পরের ওভারে পোলার্ডকে দুটি ছক্কা মারেন স্মিথ, একটি হাউস। ওভার থেকে আসে ২১ রান।
এরপর তাজিন্দার সিংয়ের বোলিংয়ে তিন ছক্কা ও এক চার মারেন হাউস, একটি ছক্কা স্মিথ। ওই ওভার থেকে আসে ৩১ রান!
ব্যস, তিন ওভারেই সমীকরণ চলে আসে নাগালে।
দলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে আউট হন হাউস। ৫১ বলে ১৩২ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ১২ ছক্কা ও ১০টি চার মারেন ৩২ বছর বয়সী মার্কিন ব্যাটসম্যান।
৮৯ বলে ২৪১ রানে থামে জুটি।
তৃতীয় উইকেটে এটিই বিশ্বরেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল ২০১৯ সালে সিকিমের পিক্ষে মুম্বাইয়ের শ্রেয়াস আইয়ার ও সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের ২১৩।
সব জুটি মিলিয়ে এর চেয়ে বড় বন্ধন আছে কেবল একটিই। ২০২৪ সালে চীনের বিপক্ষে জাপানের দুই ওপেনার কেন্ডেল কাডোওয়াকি-ফ্লেমিং ও লাচলান ইয়োমোতো-লেইক পুরো ২০ ওভার অপরাজিত থেকে রান তোলেন ২৫৮।
হাউসের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ান নিখিল চৌধুরি আউট হন ২ রানে। দুই অস্ট্রেলিয়ান স্মিথ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ফেরেন জয়কে সঙ্গী করে।
৯ ছক্কায় ৪৮ বলে ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন স্মিথ। ম্যাক্সওয়েলের ছক্কায় শেষ হয় ম্যাচ। ৪ উইকেটে ২৭০ রান, মেজর লিগ ক্রিকেটে দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।
৪ ওভারে ৩৪ রানে ২ উইকেট নেন সাকিব।
টি-টোয়েন্টি রান তাড়ার আগের রেকর্ডটি খুব বেশি দিন পুরোনো ছিল না। এবারের আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের ২৬৪ রান টপকে ৭ বল বাকি থাকতে জিতে যায় পাঞ্জাব কিংস।