Published : 17 Jun 2026, 08:25 PM
গোল শূন্য ড্রয়ের পর কেপ ভার্দ ভাসছে উচ্ছ্বাসের জোয়ারে আর স্পেন ডুবে আছে আঁধারে। তাদের হতাশা এতো বেশি যে সেটাকে ‘শোক’ বলে মনে হচ্ছে মিকেল মেরিনোর। তবে আর্সেনাল তারকা নিশ্চিত, বাজে শুরুর এই প্রবল ধাক্কা সামলে ঠিকই এগিয়ে যাবে স্পেন। যেমনটা ২০১০ আসরে পেরেছিল তাদের পূর্বসূরিরা কিংবা গত আসরে আর্জেন্টিনা।
‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে গত সোমবার স্পেনের তারকা সমৃদ্ধ দলকে রুখে দেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভজিনিয়া। লক্ষ্যে থাকা প্রতিপক্ষের আট শটের সবকটি ঠেকান তিনি।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল এখন প্রস্তুত হচ্ছে নিজেদের পরের ম্যাচের জন্য। আগামী রোববার সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে মেরিনো বললেন, আগের ম্যাচের ভুলগুলো সংশোধনের কাজ করছেন তারা।
“প্রত্যেকের হতাশা কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার ভিন্ন। কেউ ভিডিও দেখে ভুল শুধরাতে চায়। কেউ হয়তো সবকিছু থেকে আলাদা থেকে নিজের মতো সময় কাটাতে চায়। পূর্ণ তিন পয়েন্ট না পাওয়ার হতাশাজনক মুহূর্ত এটি। আমরা ইতোমধ্যে কোথায় উন্নতি করতে হবে, সেটা নিয়ে কাজ শুরু করেছি।”
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র-কে কেন শোক বলেছেন, সেটার ব্যাখ্যাও দেন মেরিনো। তিনি বলেছেন, রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন এই শব্দ।
“আমি নিজেকে ঠিকমতো প্রকাশ করতে পারিনি। এটা রূপক অর্থে ব্যবহার করার চেষ্টা ছিল।”
“কেউ মারা যায়নি, সেই অর্থে এটা শোক না। কিন্তু মাঝে মাঝে এমন হার বা ড্র-গুলো তেমন অনুভূতি দেয়। যখন আপনি বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ মানসিকতার হবেন, তখন সব সময় সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলে বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গেও কথা বলতে মন চাইবে না। ওই অর্থে এটা শোক।”
বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হোঁচট খেয়েও শিরোপা জিতে নেওয়া নতুন কিছু নয়। তাই এক ম্যাচেই আশা হারানোর কিছু দেখছেন না মেরিনো।
“অনেক দূর্দান্ত গল্পের শুরু হয়েছে এমন ম্যাচ দিয়ে, যেখানে কেউ প্রত্যাশিত শুরু পায়নি। সবশেষ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ২০২২ সালে সৌদি আরবের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করে শিরোপা জিতেছে। টুর্নামেন্ট মাত্র শুরু হয়েছে, এখনো আমাদের উন্নতির অনেক জায়গা আছে।”
এছাড়া ২০১০ সালে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে শিরোপা জেতে স্পেন। সেখান থেকেও অনুপ্রেরণা নিতে চান আর্সেনালের এই ফুটবলার।
“২০১০ সালে (দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ) আমাদের সোনালি প্রজন্ম প্রথম ম্যাচ হেরেছিল। এতে তাদেরকে কঠিন সময় পার করার পাশাপাশি সমালোচনার শিকার হতে হয়। এরপরেই তারা ঘুরে দাঁড়ায়। সামনে এগোতে তারা দারুণ উদাহরণ। আমাদের অনুপ্রেরণাও হতে পারে।”
কেপ ভার্দ ম্যাচে পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নিকো উইলিয়ামস ও লামিন ইয়ামাল। স্পেন আশাবাদী, সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের আগে পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন তারা দুজন। মেরিনো বললেন, দ্বিতীয় ম্যাচে নামতে উন্মুখ হয়ে আছেন তারা।
“যখন আপনি জিতবেন না, প্রথম ব্যাপার হলো আবার খেলতে চাইবেন। যেন তেতো অভিজ্ঞতাটা দ্রুত সরিয়ে ফেলা যায়। এখনো পর্যাপ্ত সময় আছে (পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে) ভাবনার, এ কারণে এটা এখন মানসিক চ্যালেঞ্জ।”
“লামিনকে দেখে ঠিকঠাকই মনে হয়েছে। একটু আগেও ওর সঙ্গে ছিলাম। বরাবরের মতো খানিকটা মজাও করেছে। স্বভাবসুলভ ব্যাপারটা হারিয়ে ফেলেনি। তরুণ তারকারা আমাদেরকে শক্তি দিচ্ছে। আমরা অভিজ্ঞরা তাদের মধ্যে শান্ত মেজাজটা ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি মাঝেমাঝে। মাঠে অনেক সময় এটা দরকার হয়। এই স্কোয়াডের সবচেয়ে ভালো দিক হলো- দলটা খুবই ভারসাম্যপূর্ণ।”