Published : 23 Jun 2026, 03:30 PM
লিওনেল মেসিকে একটু ছুঁতে পেলে বর্তে যান অনেকে। সেখানে, টিওয়াইসির সাংবাদিক হোয়াকিন ব্রুনো মহা সৌভাগ্যবান। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলের উদযাপন যে, এই মহাতারকা করলেন ব্রুনোর সঙ্গে!
ডালাসে মঙ্গলবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ দিকের ঘটনা। শেষের বাঁশিও বাজার অপেক্ষা। ওই মুহূর্তেই দ্বিতীয় গোলটি করলেন মেসি। এরপর ডাগআউটের দিকে না গিয়ে ছুটলেন, পোস্টের পেছনে।
সেখানেই ব্রুনো উল্লাস করছিলেন তীব্র চিৎকারে। মেসি তার দিকেই ছুটে গেলেন। ‘হাই-ফাইভ’ দিলেন। মুহূর্তেই ওই মুহূর্তটি হয়ে গেল ক্যামেরাবন্দি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ল দ্রুতই। সেই থেকে আলোচনা শুরু, কার সাথে মেসির উদযাপন করলেন গোলটি?
টিওয়াইসির সাংবাদিক হিসেবে, ব্রুনো অনেকের কাছেই চেনা মুখ। কিন্তু ওই উদযাপনের পর, এখন তিনি হাজারো ফুটবলপ্রেমীর পরিচিত হয়ে উঠেছেন। মেসির সঙ্গে একফ্রেমে আসা উদযাপনের মুহূর্তটি ভাবতেই এখনও শিহরণ অনুভব করছেন ব্রুনো। টিওয়াইসির পাতায় তিনি লিখেছেন, সেই সময়টুকু নিয়ে।
“আমি এখনও কাঁপছি; আমি তখন ঘোরের মধ্যে ছিলাম। এটা আসলেই কঠিন একটা ম্যাচ ছিল আর আমিও তখন খুব স্নায়ু চাপে ছিলাম। অস্থির ছিলাম। ওই মুহূর্তে গোলের পেছনে, কেবল আমি একাই ছিলাম। কেননা, গাস্তন এদুল (সহকর্মী) মিক্সড জোনে চলে গিয়েছিল ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকার নিতে।”
“মেসি জ্বলে উঠলেন। অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল আর্জেন্টিনা। তখন ম্যাচের ছিল ৯৫তম মিনিট আর ওই ঘটনাটি ঘটল। প্রথমে হুলিয়ান আলভারেস শট নিল, শ্লাগার সেটা রুখে দিল। ফিরতি বলে মেসি আবারও শট নিলেন, ডিফেন্ডাররা তা ফেরাল। তৃতীয় প্রচেষ্টায় মেসি আর মিস করলেন না। আমি সেখানে ছিলাম, স্রেফ কয়েক মিটার দূরে এবং অন্য যেকোনো ভক্তের মতোই আমি পাগলের মতো চেচাচ্ছিলাম।”
ব্রুনো লিখেছেন, এরপরই এলো সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্তটি। সারা জীবনের জন্য যেটি তাকে এনে দিয়েছে, গর্বভরে বলার মতো গল্পের উপলক্ষ্য।
“এরপর দেখলাম, মেসি ছুটে আসছে। আমি তখনও চিৎকার করছিলাম। সে আমার দিকে তাকাল। এগিয়ে এসে আমাকে একটা হাই-ফাইভ দিল। এখন আমি যা অনুভব করছি, যেকোনো আর্জেন্টাইন ফুটবলপ্রেমী বা মেসি ভক্তের পক্ষে তা বোঝানো কঠিন। এই মুহূর্তটি এবং এই ছবিটা আমি সারাজীবন সঙ্গে নিয়ে বেড়াব। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আমার ফোনটা ওই ছবি সংবলিত বার্তায় ভরে গিয়েছিল।”