Published : 28 Jun 2026, 07:08 PM
বাছাইপর্বের কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া সুইডেনের গ্রুপ পর্বে হয়েছে অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতা। কোনোমতে নকআউট পর্বে ওঠা দলটির সামনে এবার কঠিন পরীক্ষা। শেষ বত্রিশে তাদের প্রতিপক্ষ দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্স। অতীতে বড় টুর্নামেন্টে ফরাসিদের হারানোর স্মৃতি থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে ম্যাচটির অপেক্ষায় থাকার কথা বলেছেন সুইডিশদের সহকারী কোচ সেবাস্তিয়ান লারসন।
বাছাইপর্বের গ্রুপে তলানিতে থাকা সুইডেন প্লে-অফের বৈতরণী পার হয়ে বিশ্বকাপে খেলছে। তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে উত্তর আমেরিকা আসরে দুর্দান্ত শুরু করে তারা। কিন্তু পরের ম্যাচেই নেদারল্যান্ডসের কাছে একই ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয় দলটি।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে, তৃতীয় সেরা আটটি দলের একটি হিসেবে নকআউট পর্বের টিকেট পায় সুইডেন।
সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সবশেষ ম্যাচে নরওয়েকে ৪-১ গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়া ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই জেতা ফরাসিদের দলে আছেন তারকা দুই ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলে।
এবারের বিশ্বকাপের ফেভারিটদের একটি ফ্রান্স। তাদের বিপক্ষে ‘আন্ডারডগ’ মনে করা হচ্ছে সুইডেন। তবে এনিয়ে ভাবছেন না লারসন। বললেন, শক্তিশালী ফরাসিদের হারানো অসম্ভব কিছু নয়।
“আমার মনে হয় না, ফ্রান্স সম্পর্কে কিছু বলার আছে। তাদের বেশ কয়েকজন দক্ষ খেলোয়াড় আছে। আমাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, তবে আমরা দারুণ মানসিকতা নিয়ে ম্যাচটির অপেক্ষায় আছি।”
২০১২ সালের ইউরোতে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারায় সুইডেন। ওই ম্যাচে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন লারসন। সুইডেনের হয়ে ১৩৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন সাবেক এই মিডফিল্ডার।
খেলোয়াড়ি জীবনের পর কোচিংয়ে পেশা হিসেবে বেছে নেন লারসন। এখন তিনি গ্রাহাম পটারের সহকারী। পটারের কোচিংয়েই ইউক্রেইন ও পোল্যান্ডকে প্লে-অফে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট পায় সুইডেন।
লারসন মনে করেন, তার মতো খেলোয়াড়দেরও ফ্রান্সের বিপক্ষে অতীত সাফল্য আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে।
“অতীতে তাকালে দেখা যাবে, আমরা আগেও বড় বড় দলকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছি। এমনকি এবার সামনে ফ্রান্স হলেও, ওই অতীত আমাকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে, আশা করি খেলোয়াড়দেরও দেবে।”
“আশা করি, তারা আমাদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য খুব বেশি উচ্ছ্বসিত নয়। তবে যদি হয়ও, সেটাই বাস্তবতা। আমার মনে হয় তারা আমাদের যথেষ্ট সম্মান করে… আমাদের দলে এখনো এমন খেলোয়াড় আছে, যারা বড় কিছু করে দেখাতে পারে। আমাদের জন্য মূল বিষয় হলো সবকিছু ঠিকঠাকভাবে করা, কারণ ফ্রান্সের বিপক্ষে সেটিই প্রয়োজন হবে।”
আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত তিনটায় মাঠের লড়াইয়ে নামবে ফ্রান্স ও সুইডেন।