Published : 30 Jun 2026, 08:22 PM
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শত মিনিটে অনেক প্রচেষ্টা বিফলে যাওয়ার পর, ইয়োনাথান টাহর হেড ঠিকানা খুঁজে পেলে একই সঙ্গে হাফ ছাড়ে ও উচ্ছ্বাসে মাতে জার্মান শিবির। জয়ের সুঘ্রাণও হয়তো পেতে শুরু করে দলটি; কিন্তু ভিএআরের হস্তক্ষেপ আর রেফারির সিদ্ধান্তে থেমে যায় তাদের উল্লাস। শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যায় ম্যাচও। রেফারির ওই সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না অনেকে।
জার্মানি জাতীয় দলের প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের মতো একইরকম ভাষায় সমালোচনা করেছেন ইংলিশ গ্রেট অ্যালান শিয়েরার ও লিভারপুলের ডাগআউটে সফল অধ্যায় কাটানো জার্মান কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ।
বস্টন স্টেডিয়ামে সোমবার শেষ বত্রিশের ম্যাচটিতে হুলিও এন্সিসোর গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জার্মানিকে সমতায় ফেরান কাই হাভার্টজ। এরপর, সময় গড়িয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে যায়; কিন্তু আর কিছু করতে পারেননি কেউ। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বাদশ মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নারে হেডে জালে বল পাঠান টাহ।
তাদের গোল উদযাপনে প্রথম হস্পক্ষেপ করেন ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারি। তার ডাকে মনিটরে ঘটনাটি দেখতে যান মূল রেফারি এবং কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে, গোল না দিয়ে ফাউলের বাঁশি বাজান তিনি।
রেফারি জালাল জায়েদের দাবি, টাহকে জায়গা করে দিতে জার্মানির ভালদেমার আন্তন ফাউল করেন গোলরক্ষক ওর্লান্দো হিলকে। যদিও রিপ্লেতে দুজনের মধ্যে সামান্য স্পর্শই দেখা গেছে; তবে আন্তনের বাধার কারণেই ঠিক সময়ে পজিশন নিতে পারেননি গোলরক্ষক।
রেফারির ওই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক শিয়েরার বলেন, টাহর হেডের আগমুহূর্তে ‘তুচ্ছ’ ঘটনায় গোলটি বাতিল করা হয়েছে। বিবিসি ওয়ানে তিনি আরও বলেন, প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়রা রেফারিকে ‘বোকা বানিয়েছে।’
“এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি মোটেও একমত নই। গোলরক্ষক সামান্য ছোঁয়াতেই মাটিতে পড়ে গেছে এবং স্পর্শটা ছিল খুবই সামান্য। আমার মতে, এটা খুবই বাজে সিদ্ধান্ত।”
“আপনাকে বুঝতে হবে, খেলাটাই সংস্পর্শের এবং গোলরক্ষক রেফারি ও ভিএআরকে ধোঁকা দিয়েছে। যেভাবে সে পড়ে গেছে, খুব খারাপ।”
পরে অতিরিক্ত সময়ের খেলাও শেষ হয় আগের স্কোরলাইনে, ১-১ সমতায়। এরপর, রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হেরে বিদায় নেয় চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের পর ওই নির্দিষ্ট ঘটনার সিদ্ধান্তটি তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন নাগেলসমান।
“ওই গোলটি বৈধ ছিল। এটা বাতিল করা পুরোপুরি একটা তামাশা ছিল। আমার মতে, ওটা কোনো সত্যিকারের ফাউল ছিল না। তার (টাহ) গোলটা বাতিল করে দেওয়াটা আসলে একটা তামাশা”
ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তিকরভাবে প্রতিবাদ জানানোয় হলুদ কার্ড দেখেন নাগেলসমান।
লিভারপুলের ইতিহাসে সফল কোচদের একজন ক্লপ বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে কাজ করছেন জার্মান টেলিভিশনে। সেখানে তিনি ‘গোল’ বাতিল করা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং সেটা যে গোল ছিল, তা বোঝাতে ২০২৫-২৬ মৌসুমে আর্সেনালের অনেক গোলের উদাহরণ টানেন।
“গোলটি যদি অবৈধ হয়, তাহলে আর্সেনাল ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন হবে না। কারণ, তারা তাদের ৬০ শতাংশ গোল করেছে এভাবে।”
“বল যখন ভিতরে গেছে, তখন এটা আমাদের (জার্মানি) জয়। তাই, অবশ্যই, এভাবে (হেরে যাওয়া) খুব কষ্টের।”
প্রিমিয়ার লিগের সাবেক অ্যাসিসটেন্ট রেফারি ড্যারেন কানের মতেও, গোলরক্ষকের সঙ্গে আন্তনের স্পর্শ ছিল হালকা।
“তবে এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত যেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেই বিচারে, এটা (গোলটি) বাতিল করে দেওয়ায় আমি অবাক হবো না।”
“এরকম খুব সামান্য বাধার ঘটনায় দুই-তিনটি গোল বাতিল হতে দেখেছি আমরা। এমনটা দেখা যায় না।”