Published : 15 Jul 2026, 03:16 PM
ফ্রান্সকে হারিয়ে কেবল ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায়নি স্পেন, গড়েছে অনেক কীর্তি। দলের মতো খেলোয়াড়দের হাতে ধরা দিয়েছে অনেক অর্জন। একরাশ হতাশা নিয়ে ফিরেছে ফ্রান্স। দলের মতো অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপেরও কেটেছে বাজে এক ম্যাচ।
বিশ্বকাপে সবশেষ আট ম্যাচে প্রথমবারের মতো লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে পারেননি এমবাপে। প্রথম সেমি-ফাইনালে তার দল হেরেছে ২-০ গোলে। এই ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো-
২
দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে জায়গা করে নিল স্পেন। ২০১০ আসরে শিরোপা জয়ের পর প্রথমবার।
৩
ইউরোর শিরোপাধারী তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি স্পেনের হাতে। ১৯৭৪ সালে প্রথম এই কীর্তি গড়ে সেই সময়ের পশ্চিম জার্মানি। ২০১০ আসরে এর পুনরাবৃত্তি করে স্পেন।
১০
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা ১০ ম্যাচে অপরাজিত স্পেন। ২০০৬ সালে শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে হারের পর, আর হারেনি দলটি। এ সময়ে স্প্যানিশরা ৮ জয়ের বিপরীতে ড্র করেছে ২ ম্যাচে।
(যেসব ম্যাচের ফলাফল টাইব্রেকারে নির্ধারিত হয়, সেসব ম্যাচ আনুষ্ঠানিকভাবে ড্র হিসেবে রেকর্ড রাখা হয়।)
৩৭
সবধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন। এ সময়ে দলটি ২৮ জয়ের বিপরীতে ড্র করেছে ৯ ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইউরোপিয়ান দল হিসেবে যৌথভাবে ইতালির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড এটি। ২০১৮-২১ সময়ে ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল ইতালি।
৪/৫
সব ধরনের প্রতিযোগিতায় নক আউট পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে সবশেষ ৫ দেখায় ৪ বারই জিতেছে স্পেন। ৫ ম্যাচের মধ্যে একমাত্র হার ২০২১ নেশন্স লিগের ফাইনাল।
৬/৬
প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের যে কোনো এক আসরে ছয় ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার রেকর্ড গড়েছে স্পেন। বিশ্বকাপের যে কোনো আসরে সবচেয়ে বেশি ক্লিন শিট রাখার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।
১০
বিশ্বকাপে টানা ১০ ম্যাচ পর গোল করতে ব্যর্থ হলো ফ্রান্স। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক ম্যাচে টানা গোল করার রেকর্ড এটি। সবার উপরে থাকা আর্জেন্টিনা টানা ১৫ ম্যাচে গোল করেছে।
৬
এবারের আসরে ফ্রান্সের টানা ছয় ম্যাচ জয়ের রেকর্ড থামলো।
৩
ফিফা বিশ্বকাপে তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনবার ফাইনাল খেলার সুযোগ ছিল ফ্রান্সের সামনে। জার্মানি ১৯৮২-১৯৯০ এবং ব্রাজিল ১৯৯৪-২০০২; টানা তিন আসরে ফাইনাল খেলেছিল। সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দিদিয়ে দেশোঁর দল।
৮/১১
সবধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেনের বিপক্ষে শেষ ১১ ম্যাচের ৮ টিতেই হেরেছে ফ্রান্স। বাকি তিন ম্যাচের দুটিতে জয় ও একটি ড্র।
০-২
পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে হারের পর এবারই প্রথম ২-০ ব্যবধানে নক আউট পর্বে হারল ফ্রান্স। সেবারও দলটি হারে ২-০ ব্যবধানে।
৫+ ও ৩০
তৃতীয় স্প্যানিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ পাঁচ বা এর বেশি গোল করলেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। এর আগে ২০১০ সালে দাভিদ ভিয়া ও ১৯৮৬ সালে এমিলিও বুত্রাগেনিয়ো পাঁচটি করে গোল করেছেন।
ফ্রান্সের বিপক্ষে গোলটি ওইয়ারসাবালের ৩০তম আন্তর্জাতিক গোল। ফের্নান্দো ইয়েরোকে (২৯ গোল) টপকে স্পেনের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন তিনি।
১৭
বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে সবচেয়ে বেশি ১৭ গোল করেছে স্পেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬টি করে গোল করেছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স।
৮
১৯৮০ সালের পর মেজর টুর্নামেন্টে যৌথভাবে স্পেনের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৮ অ্যাসিস্ট করেছেন দানি ওলমো। তার সমান সংখ্যক অ্যাসিস্ট করেছেন সেস ফাব্রেগাস।
৫
শেষ ৬০ বছরে পঞ্চম ডিফেন্ডার হিসেবে বিশ্বকাপের কোনো আসরের নকআউট পর্বে একাধিক গোল করেছেন পেদ্রো পররো।
০
২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপে। এরপর বিশ্বকাপে টানা আট ম্যাচে লক্ষ্যে শট রেখেছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতা ভেঙেছে স্পেনের বিপক্ষে।
৮
লিওনেল মেসির সমান ৮ গোল এমবাপের। অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায়, এখনও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার উপরে আছেন ফরাসি অধিনায়ক।
০/৬
রেয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর লামিনে ইয়ামালের বিপক্ষে ক্লাব ও দেশের হয়ে খেলা প্রতিটি নকআউট ম্যাচে হেরেছেন এমবাপে।
১৯ বছর ১ দিন
শেষ ৬০ বছরে দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পেনাল্টি আদায় করে নেন ইয়ামাল। এর আগে ১৯৯৮ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোয় কনিষ্ঠতম ফুটবলার হিসেবে পেনাল্টি আদায় করেন ইংল্যান্ডের মাইকেল ওয়েন (১৮ বছর ১৯৮ দিন)।
২/৭
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৭ জন টিনএজার সেমি-ফাইনালে খেলেছেন। এর মধ্যে দুই জন- ইয়ামাল ও পাউ কুবার্সি খেলেছেন ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের শুরুর একাদশে।