২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 10 Jun 2026, 07:10 PM
বিশ্বকাপের মঞ্চে ২০০২ সাল থেকে নিয়মিত হলেও সুইজারল্যান্ড সে অর্থে ‘বড়’ দল নয়। তবে, বড় দলগুলোকে চমকে দেওয়ার সামর্থ্য আছে তাদের। দলটির কোচ মুরাত ইয়াকিন বিশ্বকাপ সামনে রেখে ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বললেন, পরাশক্তিদের চমকে দিতে চান তারা।
নিকট অতীতেই এমন চমকে দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে সুইজারল্যান্ড। ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ার চ্যাম্পিয়নশিপে কোয়ার্টার-ফাইনালে তারা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রবল লড়াই করেছিল। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হার মেনেছিল ৫-৩ গোলে।
২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে গত বছর সুইডেনকে তারা হারিয়েছিল ২-০ গোলে। এ বছর প্রীতি ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে জমজমাট লড়াই শেষে হার মেনেছিল ৪-৩ ব্যবধানে।
এই হার না মানসিকতা আর মানুয়েল আকনজি, গ্রেগর কোবেল ও অধিনায়ক গ্রানিট জাকার মতো অভিজ্ঞদের সাথে তারুণ্যের মিশেলে গড়া দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইয়াকিন।
“একজন কোচ হিসেবে, যারা ক্লাব পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, অনেক দায়িত্ব কাঁধে নেয়- দৃঢ়তা, মানসিকতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এমন উঁচু মানের খেলোয়াড়দের দলে পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার।”
“তাদের দক্ষতা, তীব্রতা এবং অনুশীলনের মানের মধ্যে আপনি চাইলেই পার্থক্যটা দেখতে পাবেন। যেভাবে, তারা সতীর্থদের আরও ভালো খেলোয়াড় হিসেবে প্রস্তুত করে, শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলে, দিনের পর দিন তারা তরুণদের সামনে উদাহরণ স্থাপন করে।”
উত্তর আমেরিকার দেশের বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে আছে সুইজারল্যান্ড। শুক্রবার কাতারের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্ব শুরু করবে সুইসরা। গ্রুপের বাকি দুই দল তিন আয়োজকের একটি কানাডা ও বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা।
গ্রুপ পর্ব পেরুতে পারলে টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা সুইজারল্যান্ডকে পরের ধাপে মুখোমুখি হতে হবে শক্তিধর প্রতিপক্ষের। তবে, প্রবীণ ও নবীনের মিশ্রনে গড়া দলটি এক হয়ে লড়তে পারলে, তাদের পুরণ হতে পারে প্রথমবারের মতো সেমি-ফাইনালে খেলার লক্ষ্যও।
অথচ, অনেক দেশের মতো সুইজারল্যান্ডের এত ফুটবলার নেই, আনুসাঙ্গিক সুবিধাও নেই। তাহলে, ঠিক কী কারণে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। ইয়াকিনের মনে হচ্ছে, প্রত্যাশার চাপটা নেই বলেই, তারা নির্ভার হয়ে খেলতে পারেন যে কোন দলের বিপক্ষে।
“সম্ভবত আমাদের কাছে প্রত্যাশা বেশি নয়, কিংবা বড় দলগুলোর মতো আমাদের উপর চাপটাও তীব্র নয়। আমরা সবসময়, বড় দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের আগলে রাখতে পারি, তাদেরকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলতে পারি।”
“অতীতে বাছাইপর্বে যেমনটা আমরা দেখিয়েছে, আমরা ইতালির মতো বড় দলকে হারাতে পারি, জার্মানিকে টক্কর দিতে পারি, এমনকি তাদের হারাতেও পারি। আমরা প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে পারি। এমনকি, বড় দলগুলোকে হারাতেও পারি।”