‘যেকোন দলকে হারাতে পারে স্পেন’
শঙ্কার মেঘ সরিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো দল নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী।
যে কারো চেয়ে মিকেল মেরিনো যেন একটু বেশিই রোমাঞ্চিত। তা হওয়ারই কথা। যেখানে ১৯-২০ বছর বয়সে অনেকেরই বিশ্বকাপের আঙিনায় পা পড়ে, সেখানে ৩০ বছর বয়সে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার! এছাড়া, নানা শঙ্কার মেঘ সরিয়ে, বিশ্বকাপ খেলতে আসায় উচ্ছ্বাসটা তার আরও বেশি।
এই সুযোগ হেলায় হারাতে চান না মেরিনো। প্রত্যয়ী কণ্ঠে বললেন, যেকোনো দলকে হারিয়ে এবার সাফল্যের চূড়ায় পা রাখতে পারে ২০১০ সালে প্রথম ও সবশেষ বিশ্বকাপ জয়ী স্পেন।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আগামী সোমবার বৈশ্বিক ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় শিরোপা ফিরে পাওয়ার লড়াই শুরু করবে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপের বাকি দুই দল সৌদি আরব ও উরুগুয়ে।
এবারের আসরে মেরিনোর ডাক পাওয়া নিয়েই ছিল চরম অনিশ্চয়তা। বছরের শুরুর দিকে ডান পায়ে ছোবল বসিয়েছিল চোট। লম্বা সময়ের পুনর্বাসন শেষে গত মে মাসে, মাঠে ফিরেন আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার। পরে তাকে বিশ্বকাপের দলে রাখেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে এসে ‘অদ্ভূত’ অনুভূতি হচ্ছি মেরিনোর। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, এ মুহূর্তে স্নায়ুর চাপ সামলে রাখাই তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
“(বিশ্বকাপে প্রথম খেলতে নামা) অদ্ভুত এক অনুভূতির হবে। একদিকে, বিশ্বকাপ অভিষেকে স্নায়ুর চাপে পেটের ভেতরটায় মোচড় দিয়ে উঠবে। কেননা, এটা খুব বিশেষ একটা মুহূর্ত। এটা এমন কিছু, যে স্বপ্ন সব শিশুই লালন করে।”
“অন্যদিকে, ৩০ বছর বয়সে (প্রথম) বিশ্বকাপ খেলা, যেটা ১৯-২০ বছর বয়সে খেলার মতো নয়, যে বয়সে অধিকাংশ ফুটবলারের বিশ্বকাপের আঙিনায় পা পড়ে। তবে, এটাকে স্রেফ ফুটবল খেলা হিসেবে দেখার মতো অভিজ্ঞতা এবং পরিমিতিবোধ আমার আছে, যদি উপলক্ষ্যটা উপভোগ করতে চাই, তাহলে শান্ত ও নির্ভার থাকতে হবে। দেখা যাক, এই দুইয়ের মধ্যে কীভাবে আমি ভারসাম্য ধরে রাখতে পারি।”
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ জয়ের পর দুটি ইউরোর ট্রফি, ২০২৩ সালে উয়েফা নেশন্স লিগ ট্রফি ঘরে তুলেছে স্পেন। গত ইউরোয় অবশ্য দলটি সেভাবে ফেভারিট ছিল না। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ঠিকই ফেভারিটদের তালিকায় আছে স্পেন। মেরিনোর মতে, এটা তারা অর্জন করেছেন। তবে, সতীর্থদের আত্মতুষ্টিতে ভুগতেও মানা করলেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।
“এটা সত্যি যে, (ওই টুর্নামেন্টে) প্রতিপক্ষরা আমাদেরকে ইউরোর ফেভারিট দলগুলোর একটি বা ভয় পাওয়ার মতো দল হিসেবে দেখত না, কিন্তু সেখানে আমরা যা অর্জন করেছি এবং ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছি, এজন্য, মানুষ এখন আমাদেরকে শিরোপার সত্যিকারের দাবিদার হিসেবে দেখে। এর আগে, একটা ভালো দিক ছিল যে, প্রতিপক্ষ দলগুলো হয়ত আমাদের মুখোমুখি হওয়ার সময় ততটা অনুপ্রাণিত থাকত না বা আমাদের নিয়ে তেমন হোম-ওয়ার্ক করত না। তবে, নিজেদের ওপর আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল অনেক।”
“এখন সবাই আমাদেরকে টুর্নামেন্টের ফেভারিট দলগুলোর একটি হিসেবে দেখছে। আমাদের উচিত, এ থেকে আত্মবিশ্বাস ও শক্তি সঞ্চয় করা এবং এটা নিশ্চিত করা যে, আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। যদি সবাই আমাদেরকে এভাবে দেখে, তাহলে এর অর্থ হচ্ছে, আমরা এটা অর্জন করেছি এবং নিজেদের উপর আমাদের বিশ্বাস রাখা উচিত। তবে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত নয় অথবা এমনটা ভাবা যাবে না যে, আমরা তো এমনিতেই সবার চেয়ে ভালো। যেকোনো দলই তাদের দিনে আরেক দলকে হারাতে পরে। তবে, আমরা যদি নিজেদের সেরা ফুটবলটা খেলতে পারি, তাহলে আমরা যে কাউকে হারাতে পারি।”
