Published : 05 Jun 2026, 10:36 AM
প্রথম দল হিসেবে বাছাই পেরিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া জাপান দারুণ ছন্দে আছে কয়েক মাস ধরেই। দলটির তারকা উইঙ্গার তাকেফুসা কুবোর মনে হচ্ছে, এখন তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বেড়ে গেছে।
বল পায়ে দারুণ নৈপুণ্যের কারণে একটা সময় কুবোকে ডাকা হতো ‘জাপানের মেসি’ নামে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন জাপান দলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। তখন তার বয়স ছিল ২১ বছর। চার বছর পর, আসন্ন উত্তর আমেরিকা আসরে পুরো জাতির ভার যেন তার কাঁধে।
কাতারে গ্রুপ পর্বে সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে চমক দেখায় জাপান। শেষ ষোলোয় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ১-১ সমতার পর, টাইব্রেকারে হেরে হৃদয় ভেঙেছিল এশিয়ার দেশটির।
তারপর থেকে দারুণ ছন্দে এগিয়ে চলেছে জাপান। প্রথম দল হিসেবে বাছাই পেরিয়ে এবারের বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়াই শুধু নয়, নিজেদের সবশেষ ছয় ম্যাচে জিতেছে তারা। এর মধ্যে আছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও আরেক সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ও।
বাছাইপর্ব চলাকালীন দলের অবস্থা কতটা বদলে গেছে, ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুলে ধরলেন কুবো।
“এশিয়ান বাছাইপর্বের চতুর্থ বা পঞ্চম ম্যাচের ঘটনা। আমরা ছয় পয়েন্ট এগিয়ে ছিলাম এবং তখন আমার মনে হচ্ছিল যে, আমরা কতটা ভালো হয়ে উঠেছি। আমার মনে হয়, আমরা এখন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়েছি। শুধু ফলাফলের কারণে নয়, বরং আমরা যেভাবে খেলেছি এবং দল হিসেবে আমরা কতটা একতাবদ্ধ, তার কারণেও।”
তাদের এই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে কাতার বিশ্বকাপে হৃদয় ভাঙা বিদায়ের পর। গত দুটি আসরসহ মোট চারবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় খেলা জাপান কখনও কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠতে পারেনি। কাজটা কতটা কঠিন, চার বছর আগে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বুঝেছিলেন কুবো।
“ওই ম্যাচটি আমাকে সত্যিই দেখিয়েছিল যে, ইতিহাস পরিবর্তন করা কতটা কঠিন। ম্যাচে আমাদের তীব্রতা হোক বা ছোটখাটো ভুল, আমরা নিশ্চিতভাবে বুঝতে পেরেছিলাম আমাদের কিছু একটার অভাব ছিল। রেকর্ড বইয়ে লেখা আছে আমরা পেনাল্টিতে হেরেছি, কিন্তু আমার মনে হয়, আগের ১২০ মিনিটে আমরা আরও অনেক কিছু ভালোভাবে করতে পারতাম।”
আর সে কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিটি ছোট ছোট বিষয় ঠিক করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করেন কুবো।
“বিশ্বকাপে ম্যাচের ভাগ্য অল্প ব্যবধানেই নির্ধারিত হয়। আমার মনে হয়, ম্যাচের প্রতিটি দিক যতটা সম্ভব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সামলানো খুবই জরুরি।”
আগামী ১৪ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে জাপানের বিশ্বকাপ অভিযান। ‘এফ’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়া ও সুইডেন।