Published : 06 Jul 2026, 12:31 PM
নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারাইন বালোগনকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে ফিফা, যা একদমই মানতে পারছেন না রুডি গার্সিয়া। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থার এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন বেলজিয়াম কোচ। তার মতে, ফুটবলের চেতনার পরিপন্থী কাজ করেছে ফিফা।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মঙ্গলবার ৬টায় (এএম) যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। নিষেধাজ্ঞার কারণে ম্যাচটিতে খেলার কথা ছিল না বালোগনের। কিন্তু রোববার সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ফিফা। তাই এখন খেলতে বাধা নেই যুক্তরাষ্ট্রের এই ফুটবলারের।
শেষ বত্রিশে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন বালোগন। ম্যাচটিতে প্রথমার্ধে তার গোলেই এগিয়ে যায় সহ-আয়োজকরা। ৬৪তম মিনিটে প্রতিপক্ষের তারিক মুহারেমোচকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার।
নিয়ম অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় বালোগনের। তবে ফিফা জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত থাকবে।
ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে গার্সিয়া বলেন, সবাইকে বোকা বানিয়েছে ফিফা।
“আমি জানতাম না যে, ফিফা বিশ্বকাপে এখন ৫ জুলাইকে ১ এপ্রিল মনে করা হয়, আর এটা এপ্রিল ফুল’স ডে (বোকা বানানোর দিন)।”
ফিফার স্বপ্রণোদিত হয়ে নেওয়া এমন সিদ্ধান্ত নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডলান্ড ট্রাম্প গত বুধবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফরোয়ার্ড বালোগনের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেন। এরপরই আসে ফিফার এই সিদ্ধান্ত। যেখানে লাল কার্ড ও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগই ছিল না!
রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসসিয়েশন (আরবিএফএ) ফিফার এমন সিদ্ধান্তে ‘হতবাক।’ বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘সব ধরনের সম্ভাব্য বিকল্প খতিয়ে দেখছে।’
গার্সিয়ার মতে, ফুটবলকে রক্ষা করতে হবে, কোনো দেশ কিংবা ফেডারেশনকে নয়।
“আমরা কোনো জাতীয় দল বা ফেডারেশনক রক্ষা করছি না, আমরা আমরা ফুটবলকে এবং এই খেলার নৈতিকতা ও সততাকে রক্ষা করছি।”
গার্সিয়া ও বেলজিয়ামের তারকা গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া জোর দিয়ে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত তাদের প্রস্তুতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। যদিও কোর্তোয়া স্বীকার করেছেন, সিদ্ধান্তের সময়টি ছিল অবাক করা।
“খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের জন্য কোনো কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না। কে খেলছে তা নিয়ে না ভেবে আমরা মাঠে জেতার জন্য খেলায় মনোনিবেশ করছি।”
তবে ফিফার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে একের পর এক প্রশ্নে গার্সিয়া বিরক্ত হয়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে কথা থামিয়ে দিয়ে বলেন, “অনুগ্রহ করে এই বিষয়ে কথা বলে আপনাদের সময় নষ্ট করবেন না। আমরা খেলার মাঠের বিষয়ে মনোযোগ দিতে চাই।”
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই নিয়ে স্রেফ দ্বিতীয়বারের মতো টুর্নামেন্টের মাঝপথে কোনো খেলোয়াড়ের ‘নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার’ ঘটনা ঘটল। প্রথমটি ঘটেছিল ছয় দশকের বেশি সময় আগে। ১৯৬২ বিশকাপের সেমি-ফাইনালে চিলির এক খেলোয়াড়কে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিলের গারিঞ্চা।