ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে বেনজেমা-লেভানদোভস্কিদের সঙ্গে রোনালদো, নেই মেসি

২০০৫ সালের পর এই প্রথম ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেলেন না লিওনেল মেসি।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 August 2022, 07:17 PM
Updated : 12 August 2022, 07:17 PM

এই বছরের ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে প্রত্যাশিতভাবে আছেন করিম বেনজেমা ও রবের্ত লেভানদোভস্কি। বর্ষসেরা ফুটবলারের লড়াইয়ে তাদের পাশাপাশি আছেন বিশ্ব ফুটবলের সেরা তরুণ প্রতিভাবানদের একজন আর্লিং হলান্ড ও পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও। তবে ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা হয়নি পুরস্কারটি রেকর্ড সাতবার জেতা লিওনেল মেসির।

২০২২ সালের এই পুরস্কারের জন্য ছয় ধাপে ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ম্যাগাজিন। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত পৌনে ১২টায় শুরু হয় তালিকা ঘোষণা।

গতবারের বিজয়ী মেসি ২০০৫ সালের পর এই প্রথম ৩০ জনের তালিকায় জায়গা পেলেন না। ইচ্ছার বিরুদ্ধে গত বছরের অগাস্টে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে পাড়ি দিয়ে ২০২১-২২ মৌসুমে নিজের ছায়া হয়েই ছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গত মৌসুমে ৩৪ ম্যাচে গোল করতে পারেন স্রেফ ১১টি।

সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই মেসির পিএসজি সতীর্থ নেইমারও। তবে আছেন দলটির আক্রমণভাগের আরেক তারকা ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে।

রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া, মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ, ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র, ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার কেভিন ডে ব্রুইনে, লিভারপুল ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহও জায়গা পেয়েছেন এই তালিকায়।

ব্যালন ডি’অরের জন্য আগে পুরো বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া হলেও গত মার্চে নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। এই বছর থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের পুরো একটি মৌসুমের সময়কে (অগাস্ট-জুলাই)।

গত মৌসুমে রিয়ালের রেকর্ড ১৪তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে বড় অবদান ছিল বেনজেমার। ১৫ গোল করে আসরের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন তিনি। এর মধ্যে ১০টিই করেন নকআউট পর্বে। একের পর এক ম্যাচে রিয়ালের রূপকথার প্রত্যাবর্তনের নায়ক তিনি।

বিশেষ করে শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার-ফাইনালে ফরাসি তারকার হ্যাটট্রিকেই পিএসজি ও চেলসিকে বিদায় করে দেয় মাদ্রিদের দলটি। সেমি-ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে লড়াইয়ের ভাগ্য নির্ধারণী গোলটিও তারই করা।

লা লিগায় রিয়ালের শিরোপা জয়েও তিনি রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ৩২ ম্যাচে ২৭ গোল করে লিগে তিনি গোল স্কোরারের তালিকায় যোজন যোজন এগিয়ে ছিলেন বাকিদের চেয়ে।

শুধু ক্লাব ফুটবলেই নয়, জাতীয় দলে গত অক্টোবরে ফ্রান্সের নেশন্স লিগ জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বেনজেমা। চার দলের ফাইনালসের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে একটি করে গোল করেন তিনি।

এবার ব্যালন ডি’অর জয়ে ফেভারিটদের তালিকায় ওপরের দিকেই রাখা হচ্ছে তাকে। শুক্রবার প্রকাশিত উয়েফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের লড়াইয়ে শীর্ষ তিন জনের তালিকায়ও আছেন তিনি।

গত কয়েক মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তো রীতিমতো ‘গোল মেশিন’ হয়ে ওঠেন লেভানদোভস্কি। সেই ধারাবাহিকতায় গত মৌসুমে দলটির টানা দশম বুন্ডেসলিগা শিরোপা জয়েরও কারিগর তিনি। ৩৫ গোল করে তিনিই ছিলেন আসরের সর্বোচ্চ স্কোরার। ক্লাবের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৬ ম্যাচে জালের দেখা পান ৫০ বার।

৩৩ বছর বয়সী এই পোলিশ স্ট্রাইকার এবারের দলবদলে অনেক নাটকীয়তার পর বায়ার্ন ছেড়ে যোগ দেন বার্সেলোনায়।

গত মৌসুমটা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য খারাপ কাটলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে উজ্জ্বল ছিলেন রোনালদো। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ইউভেন্তুস থেকে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফিরে প্রিমিয়ার লিগের গত আসরে ৩০ ম্যাচ খেলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ গোল করেন। সঙ্গে করেন তিনটি অ্যাসিস্ট। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গত মৌসুমে ৩৯ ম্যাচে তার গোল ২৪টি।

আগামী ১৭ অক্টোবর প্যারিসে বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হবে এবারের ব্যালন ডি’অর।

১৯৫৬ সাল থেকে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়কে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার দেওয়া চালু হয়। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত পুরস্কারটি শুধু ইউরোপের খেলোয়াড়দেরই দেওয়া হতো। এর পর থেকে ইউরোপে খেলা বিশ্বের যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আর ২০০৭ সাল থেকে ইউরোপের সেরা নয়, পুরস্কারটি দেওয়া হতে থাকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারকে।

ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার আর ফ্রান্স ফুটবলের ব্যালন ডি’অর একীভূত হয়েছিল ২০১০ সালে, নাম হয়েছিল ফিফা ব্যালন ডি’অর। ফিফার সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০১৬ সাল থেকে আবার একাই ব্যালন ডি’অর দেওয়া শুরু করে ফ্রান্স ফুটবল। ২০২০ সালে কোভিডের কারণে পুরস্কারটি দেওয়া হয়নি।

ব্যালন ডি’অর জয়ী নির্ধারণ করা হয় সাংবাদিকদের ভোটে।

২০২২ ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা:

থিবো কোর্তোয়া (রিয়াল মাদ্রিদ), রাফায়েল লেয়াও (এসি মিলান), ক্রিস্তোফা এনকুনকু (লাইপজিগ), মোহামেদ সালাহ (লিভারপুল), জসুয়া কিমিখ (বায়ার্ন মিউনিখ), ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ড (লিভারপুল), ভিনিসিউস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), বের্নার্দো সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি), লুইস দিয়াস (লিভারপুল), রবের্ত লেভানদোভস্কি (বায়ার্ন মিউনিখ/বার্সেলোনা), রিয়াদ মাহরেজ (ম্যানচেস্টার সিটি), কাসেমিরো (রিয়াল মাদ্রিদ), সন হিউং মিন (টটেনহ্যাম হটস্পার), ফাবিনিয়ো (লিভারপুল), করিম বেনজেমা (রিয়াল মাদ্রিদ), মাইক মিয়াঁ (এসি মিলান), হ্যারি কেইন (টটেনহ্যাম হটস্পার), দারউইন নুনেস (বেনফিকা/ লিভারপুল), ফিল ফোডেন (ম্যানচেস্টার সিটি) সাদিও মানে (লিভারপুল/বায়ার্ন মিউনিখ), সেবাস্তিয়ান হলার (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড), ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), আন্টোনিও রুডিগার (চেলসি/রিয়াল মাদ্রিদ), কেভিন ডে ব্রুইনে (ম্যানচেস্টার সিটি), লুকা মদ্রিচ (রিয়াল মাদ্রিদ), আর্লিং হলান্ড (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড/ম্যানচেস্টার সিটি), দুসান ভ্লাহোভিচ (ইউভেন্তুস), জোয়াও কানসেলো (ম্যানচেস্টার সিটি), কিলিয়ান এমবাপে (পিএসজি), ভার্জিল ভন ডাইক (লিভারপুল)

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক