০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিএনএ ল্যাবরেটরি অধিদপ্তরের ৬৪ পদই শূন্য: সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তথ্য

মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত জনবল সংক্রান্ত নথিতে অন্য সংস্থাগুলোতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ শূন্য থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিএনএ ল্যাবরেটরি অধিদপ্তরের ৬৪ পদই শূন্য: সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তথ্য

জাতীয় সংসদ ভবনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Oct 2026, 12:19 AM

Updated : 09 Oct 2026, 12:19 AM

অপরাধ তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষার কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অনুমোদিত ৬৪ পদের সবই শূন্য রয়েছে।

মহাপরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা সংযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে উপস্থাপিত জনবল সংক্রান্ত নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নথিতে দেখা যায়, অধিদপ্তরের শূন্য পদের মধ্যে নয়টি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ১৮টি ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টের পদ রয়েছে।

অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে মহাপরিচালকসহ চারজন কর্মকর্তার নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে মহাপরিচালক এস এম নাজিমুল ইসলাম সংযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, যুগ্মসচিব নাজিমুল ইসলাম গত ১৭ সেপ্টেম্বর মহাপরিচালক পদে যোগ দেন। ২২ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয় তার যোগদানের তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানায়।

অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পরিচালক হিসেবে মো. আব্দুল বারী, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে মো. জাকির হোসেন তালুকদার এবং সহকারী পরিচালক হিসেবে মোছা. শিমুল বিল্লাহ সুলতানার নাম রয়েছে। সহকারী পরিচালকের পদবির পাশে ‘সংযুক্ত’ লেখা রয়েছে।

জনবল সংকটের পাশাপাশি যানবাহনের অভাব ও নিজস্ব স্থাপনা না থাকাকে কার্যক্রম পরিচালনার সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে অধিদপ্তর।

২০০৬ সালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় দেশে প্রথম ‘ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ডিএনএ পরীক্ষার সুবিধা চালুর জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

পরে ২০২০ সালে ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি অধিদপ্তরের কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা জারি করে সরকার।

ডিএনএ আইন, ২০১৪ অনুযায়ী ডিএনএ ল্যাবরেটরি ও জাতীয় ডিএনএ ডেটবেইজের কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব এই অধিদপ্তরের।

অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকা মেডিকেল কলেজে জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি রয়েছে। এর বাইরে আটটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি রয়েছে।

বিভাগীয় ল্যাবরেটরিগুলোতে নমুনা সংগ্রহ ও প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়। পরে নমুনা ঢাকার জাতীয় ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে ডিএনএ প্রোফাইলিং করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তির জিনগত পরিচয় শনাক্ত করা যায়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত সরকারি তথ্যবিবরণী অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের অগাস্ট পর্যন্ত জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিতে ১১ হাজার ৫০১ মামলার ৩৭ হাজার ৫৯২টি নমুনা নিয়ে কাজ হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৩৩৩টি মামলায় পরীক্ষার প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত একজন সদস্য বলেছেন, অধিদপ্তরের জনবল সংকট নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

অপরাধীরা অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করে তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করা সম্ভব। এ কারণে অধিদপ্তরটির গুরুত্ব অনেক।

এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের জনবল সংকট নিরসনে অবহেলা কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ঢাকার বাইরে থাকা ডিএনএ ল্যাবরেটরিগুলো পুরোপুরি কার্যকর করতে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন এ সদস্য।

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের শূন্য পদ পূরণের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত জনবল সংক্রান্ত নথিতে অন্য সংস্থাগুলোতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ শূন্য থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অনুমোদিত ৩ হাজার ৫৯৭ পদের মধ্যে ১ হাজার ৩৯৫টি শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের ৭৩১টি পদে নিয়োগের জন্য গত ১ জুলাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতীয় মহিলা সংস্থার ৫৭০ অনুমোদিত পদের মধ্যে ১৯৬টি এবং জয়িতা ফাউন্ডেশনের ৩৩ পদের মধ্যে ১১টি শূন্য রয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে তৃণমূল পর্যায়ে মন্ত্রণালয়ের সেবা পৌঁছানো এবং জেলা-উপজেলার কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রান্তিক নারীর ক্ষমতায়ন, গর্ভবতী মায়ের মানসিক সুস্থতা ও পারিবারিক সহায়তা নিশ্চিত করা, শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগ, শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক বিকাশে পরিবারকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও পণ্য বিক্রির সুযোগ বাড়ানো এবং নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মায়েদের জন্য শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের সুবিধা বাড়ানোর সুপারিশও করেছে কমিটি।

কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, কমিটির সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, আন্না মিনজ, মাধবী মার্মা, ফাহিমা নাসরিন, নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সাবিকুন্নাহার ও নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি অংশ নেন।