০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে মন্দিরে হামলা-লুটপাট: ৫২ আসামি খালাস, একজনের ৬ মাসের কারাদণ্ড

প্রায় পাঁচ বছর পর চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ এ রায় ঘোষণা করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Oct 2026, 12:17 AM

Updated : 09 Oct 2026, 12:17 AM

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলার রায়ে ৫২ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। একজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

প্রায় পাঁচ বছর পর বুধবার চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) মোহাম্মদ আলী বলেন, মামলার ৫৩ আসামির মধ্যে ৫২ জনকে আদালত খালাস দিয়েছে। রাজন নামে একজনকে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে ছয় মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে।

মামলায় বলা হয়, ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে কুমিল্লায় মন্দিরে হামলার জেরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রামপুর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই রাতে রামপুর শ্রীশ্রী গৌর নিতাই মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটে। ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মন্দিরে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও পূজার সামগ্রী লুট করে। একই সঙ্গে দানবাক্সের নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। মন্দিরে থাকা ভক্তদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগও করা হয়।

ঘটনার পর মন্দির কমিটির সভাপতি পাপন চন্দ্র সাহা বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রথমে অজ্ঞাত ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে পুলিশ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

মামলার রায়ের বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রুহি দাস বণিক বলেন, “আদালত যে রায় দিয়েছেন, সেটার বিরুদ্ধে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।”

২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীর রাতে কুমিল্লা নগরীর নানুয়ারদিঘির উত্তরপাড়ে দর্পণ সংঘের পূজামণ্ডপে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চাঁদপুরেও সংঘাত, মন্দির-মণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

ওই সময়ের ঘটনায় কুমিল্লায় ১২টি, নোয়াখালীতে ৩২টি এবং চাঁদপুরে ১০টিসহ মোট ৫৪টি মামলা হয়। হাজীগঞ্জের রামপুরের মন্দিরে হামলার মামলাটি ছিল ওই সময়ের চাঁদপুরের মামলাগুলোর একটি।