খুলনায় চাইনিজ কুড়াল নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা-ভাঙচুর
এ নিয়ে এক মাসের ব্যবধানে নগরের চতুর্থ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটল।
খুলনায় নগরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে দুটি এসি, একটি টিভি, দরজার গ্লাস ও অভ্যর্থনাকক্ষের কাউন্টারসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করেন।
এ সময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একজন কর্মীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এক মাসের ব্যবধানে নগরের চতুর্থ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটল।
শনিবার দুপুরে নগরের খানজাহান আলী রোডের নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ভিডিও সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা গেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঁচজন যুবক প্রবেশ করেন। এরপর তারা ভাঙচুর শুরু করেন। হামলার সময় ভেতরে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙচুর শেষে তারা সেখান থেকে চলে যান। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন বলেন, “বেশ কিছুদিন আগে টুটপাড়ার নূর আজিম বাহিনীর এক সদস্য আমাকে ফোন করেন। আমি বলি এই নামে কাউকে চিনি না। এ কথা বলার পরপরই বিপরীত দিকে থেকে ফোন কেটে দেওয়া হয়।”
তবে হামলার ঘটনায় মালিকপক্ষের কারও কাছে চাঁদা চেয়েছে কিনা সেবিষয়ে কিছু জানেন না জাহিদ।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরের পিটিআই মোড় কেন্দ্রিক প্রতিটি ভাঙচুরের পেছনে নূর আজিম ও তার বাহিনীর সদস্যরা জড়িত। মূলত দাবি করা চাঁদা না পাওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে ভয় দেখাতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
অক্টোবরের মাঝামাঝি নগরের রয়েল মোড়ের সিটি কুইন্স ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর ২৪ অক্টোবর সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে ৮ থেকে ১০ জনের একদল মুখোশধারী দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
তারা চিকিৎসকের চেম্বারের সামনের কাচ, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করে এবং ক্যাশ কাউন্টারেও তাণ্ডব চালায়। যাওয়ার সময় আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা ক্লিনিকের বাইরে ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
সন্ধানী ক্লিনিকে হামলার চার দিন পর ২৮ অক্টোবর আহসান আহমেদ সড়কে অবস্থিত ‘চাইনিজ প্যালেস’ রেস্তোরাঁয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দিনের বেলা কয়েকজন যুবক রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে মালিককে খুঁজতে থাকেন। মালিককে না পেয়ে এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাদের ‘ভাইয়ের’ ফোন না ধরায় তারা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শামসুর রহমান রোডের রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করা হয়।
খুলনা নগরে অন্তত নয়টি বাহিনী বিভিন্ন নামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারে জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। যার একটি হলো ‘নুর আজিম’ নেতৃত্বাধীন নুর আজিম বাহিনী।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুরের ঘটনাগুলোতে ভুক্তভোগীরা কোনো মামলা করেননি।
তবে সন্ধানী ক্লিনিকে হামলা ও গুলির খোসা পাওয়ার ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
