স্পেনকে অনুকরণ করলে ইংল্যান্ডের বরং ক্ষতিই হবে, মনে করেন গর্ডন
বার্সেলোনার এই ইংলিশ উইঙ্গারের মতে, স্প্যানিশদের মতো বল দখলে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ধরন তাদের ডিএনএ-তেই নেই।
বল পায়ে রেখে প্রতিপক্ষকে ধৈর্যের পরীক্ষায় ফেলা স্প্যানিশ ফুটবলের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবে সেই ধরন ইংল্যান্ডের স্বাভাবিক খেলার সঙ্গে যায় না বলে মনে করেন অ্যান্থনি গর্ডন। তার মতে, ওই ধাঁচের ফুটবল ইংলিশদের ডিএনএ-তেই নেই।
গর্ডনের মনে হচ্ছে, এখন স্পেনের মতো খেলার চেষ্টা করছে ইংল্যান্ড দল। তার বিশ্বাস, নিজেদের শক্তি-সামর্থ্যে আস্থা রেখে খেললেই বরং শিরোপা জিততে পারবেন তারা।
আগামী শনিবার স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। এই ম্যাচ দিয়ে উয়েফা নেশন্স লিগের অভিযান শুরু করবে দুই দলই। বিশ্বকাপের পর দুই দলেরই এটা প্রথম ম্যাচ।
এবারের বিশ্বকাপে ফেভারিট দলগুলোর একটি ছিল ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার ফাইনাল খেলার সম্ভাবনাও জাগিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে হৃদয়ভাঙে তাদের। আর আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে স্পেন।
পরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৬-৪ গোলে জিতে ইংল্যান্ড। ৬০ বছরে বিশ্বকাপে এটাই তাদের সেরা সাফল্য।
তবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারের ধরন নিয়ে কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ইংল্যান্ড দলকে। ওই ম্যাচে গর্ডনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। গর্ডনকে তুলে পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে বাকি সময় খেলা চালান কোচ টমাস টুখেল।
কৌশলগত এই পরিবর্তনের পর ইংল্যান্ডকে চেপে ধরার সুযোগ পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পরে এন্সো ফের্নান্দেসের চমৎকার গোলে সমতা ফেরায় লাতিন আমেরিকার দলটি। আর যোগ করা সময়ে গোল করে আর্জেন্টিনাকে জয় এনে দেন লাউতারো মার্তিনেস।
ওই হারকে ‘জীবনের সবচেয়ে খারাপ অনুভূতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন গর্ডন। তার মনে হচ্ছে, সেই হারের ক্ষত আগামী টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের খেলার ধরন বদলে দিতে পারে।
“এই ক্ষতে নেতিবাচক কিছু হবেই, এমন নয়। কারণ, এটাই হয়তো পরের টুর্নামেন্টগুলোতে আমাদের জয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
“অন্য দেশগুলোর খেলার ধরনের দিকে তাকিয়ে তাদের মতো হওয়ার চেষ্টা করে যেতে পারি না আমরা। কারণ আমরা তাদের মতো নই- আমরা ইংলিশ। আমাদের নিজস্ব কিছু শক্তির জায়গা আছে, যা তাদের নেই। তাই আমাদের সেইভাবেই খেলা শুরু করা উচিত, যেটাতে আমরা পারদর্শী।”
বিশ্বকাপের পর গ্রীষ্মের দলবদলে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেন গর্ডন। স্প্যানিশ ক্লাবটিতে এরই মধ্যে দারুণভাবে মানিয়েও নিয়েছেন তিনি। এখনও গোলের দেখা না পেলেও, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাত ম্যাচে করেছেন পাঁচটি অ্যাসিস্ট।
লা লিগায় খেলার অভিজ্ঞতা এবং স্পেনের শীর্ষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে ও বিপক্ষে খেলার কারণে গর্ডন বুঝতে পারছেন দুই দেশের ফুটবলের ধরনের পার্থক্য। বল দখলনির্ভর স্প্যানিশ ধরনে খেলতে ইংলিশ খেলোয়াড়দের অভ্যস্ত করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
“আমি এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলছি যেখানে আমার মনে হচ্ছে, আমরা স্পেনকে অনুকরণ করার চেষ্টা করছি।
“আমি যেহেতু স্পেনে আছি, তাই জানি আমাদের খেলোয়াড়দের মানও তাদের মতোই ভালো। তবে তাদের বৈশিষ্ট্য আলাদা। তাহলে আমাদের খেলোয়াড়দের কেন স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের মতো করে তোলার চেষ্টা করা হবে? স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন কিছু ঘাটতি আছে, যেগুলো আমাদের মধ্যে আছে। একইভাবে উল্টোটাও।”
