সেল্তা ভিগোর দায়িত্ব নিয়ে কোচিংয়ে ফিরছেন বেনিতেস
দেড় বছর পর আবার কোচিংয়ে ফিরছেন লিভারপুল, ইন্টার মিলান, চেলসি ও রিয়াল মাদ্রিদের এই সাবেক কোচ।
এভারটন থেকে তিক্ততায় ভরা বিদায়ের পর কেটে গেছে প্রায় দেড় বছর। এই সময়টায় কোচিং থেকে দূরে ছিলেন রাফায়েল বেনিতেস। অবশেষে আবার ডাগআউটে ফেরার সুযোগ পেলেন তিনি । সেল্তা ভিগোর দায়িত্ব নিচ্ছেন অভিজ্ঞ এই কোচ।
লা লিগার ক্লাবটি শুক্রবার বিবৃতিতে জানায়, ৬৩ বছর বয়সী কোচের সঙ্গে তাদের চুক্তি ৩ বছরের।
সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে লা লিগায় টিকে থাকতে প্রবলভাবে ধুঁকতে হয় সেল্তাকে। শেষ ম্যাচ পর্যন্ত তুমুল লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত তারা কোনোরকমে টিকে যায়। পরে কোচ কার্লোস কার্ভালহালকে বরখাস্ত করে তারা। আগামী মৌসুমে ক্লাবটি ১০০ বছর পূর্তির উৎসব করবে। শত বছর পূর্তিতে মাঠের ফুটবলেও দারুণ কিছুর আশায় তারা হাত বাড়াল বেনিতেসের দিকে।
সেল্তার বিবৃতিতে ফুটে উঠল সেই উচ্ছ্বাস আর প্রত্যাশার প্রতিচ্ছবি।
“আমাদের দেশের ইতিহাসের সেরা কোচদের একজন রাফা বেনিতেস এবং মূল ধারার ইউরোপিয়ান লিগগুলোতে বিশ্বমানের সব দলকে কোচিং করিয়েছেন। আমাদের শতবর্ষ পূর্তির মৌসুমে, সেল্তা সমর্থকদের জন্য স্মরণীয় মুহূর্তে দুর্দান্ত একজন নেতাকে আমরা পেতে যাচ্ছি।”
খেলোয়াড়ী জীবনে শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে কখনও খেলতে পারেননি বেনিতেস। রিয়াল মাদ্রিদের ‘সি’ দল ও ‘বি’ দলের পাশাপাশি জুনিয়র ডিভিশনের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছিলেন তিনি। তবে পরে কোচ হিসেবে নিজের আলাদা জায়গা করে নেন বিশ্ব ফুটবলে।
মাত্র ২৬ বছর বয়সে রিয়াল মাদ্রিদের অনূর্ধ্ব-১৭ দল দিয়ে শুরু করেন কোচিং ক্যারিয়ার। শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে প্রথম কোনো বড় ক্লাবের দায়িত্ব পান রিয়াল ভাইয়াদলিদে, ৩৫ বছর বয়সে। এরপর স্পেনের ফুটবলেই ওসাসুনা, এক্সত্রেমাদুরা, তেনেরিফে হয়ে নাম লেখান ভালেন্সিয়ায়। এই ক্লাবের হয়ে দুটি লা লিগা ও ২০০৪ সালে উয়েফা কাপ (এখনকার ইউরোপা) জেতেন তিনি।
পরে ওই বছরই দায়িত্ব নেন লিভারপুলের। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে লম্বা সময় ইংলিশ এই ক্লাবেই ছিলেন তিনি। তার কোচিংয়ে ২০০৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে এসি মিলানের বিপক্ষে স্মরণীয় এক ম্যাচে শিরোপা জিতে নেয় লিভারপুল। পরের বছর আবার ফাইনালে উঠে তারা হেরে যায় এসি মিলানের কাছেই। এছাড়াও লিভারপুল একবার করে এফএ কাপ, কমিউনিটি শিল্প ও উয়েফা সুপার কাপ জেতে তার কোচিংয়ে।
২০১০ সালে লিভারপুলের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর প্রথমবার ইতালিয়ান ফুটবলে পা রাখেন তিনি ইন্টার মিলানের দায়িত্বে। সেবার ক্লাবটি ইতালিয়ান সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ জিতলেও সেরি আ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে চাকরি হারান।
এরপর বছর দুয়েক বিরতি দিয়ে ২০১২-১৩ মৌসুমে চেলসির ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব নিয়ে দলকে এনে দেন ইউরোপা লিগের শিরোপা। তবে ওই মৌসুমের পর আর টিকতে পারেননি। পরে নাপোলির হয়ে ইতালিয়ান কাপ ও ইতালিয়ান সুপার কাপ জেতেন, নিউক্যাসল ইউনাইটেডের হয়ে জেতেন লিগ কাপ। মাঝে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। তাকে ছাঁটাই করে জিনেদিন জিদানকে দায়িত্বে এনেছিল রিয়াল।
সবশেষ ২০২১ সালে এভারটনের দায়িত্ব নিয়ে টিকতে পারেন কেবল মাস ছয়েক। এবার স্প্যানিশ এই কোচের নতুন চ্যালেঞ্জ শুরু হচ্ছে আবার স্পেনের ফুটবলে।
