থ্যাঙ্কগড-রবিনিয়োদের পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ গোলদাতা মালির দিয়াবাতে

গেলবারের তুলনায় এবারের লিগে দেশি ফরোয়ার্ডরা গোলের পাতায় আরও পিছিয়েছেন।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 August 2022, 03:36 PM
Updated : 2 August 2022, 03:36 PM

শেষ হলো ২০২১-২২ মৌসুমের লিগ। এবারও মুকুট ধরে রেখেছে বসুন্ধরা কিংস। স্বাধীনতা কাপ ও ফেডারেশন কাপ জয়ী আবাহনী এবারও লিগে রানার্সআপ। বরাবরের মতো সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এবারও বিদেশি ফরোয়ার্ডদের আধিপত্য। দেশিরা বরং পিছিয়ে পড়েছে আগেরবারের চেয়েও।

সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াইয়ে ছিলেন মূলত চার বিদেশি। কিংসের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রবসন দি সিলভা রবিনিয়ো, মোহামেডানের অধিনায়ক সুলেমানে দিয়াবাতে, আবাহনীর ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড দোরিয়েলতন গোমেস নাসিমেন্তো ও চট্টগ্রাম আবাহনীর নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড পিটার থ্যাঙ্কগড।

শেষ রাউন্ডের আলো ঝলমলে পারফরম্যান্সে ২১ গোল নিয়ে সেরা হয়েছেন দিয়াবাতে। তিনটি হ্যাটট্রিক আছে তার। রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটিকে ৭-০ ব্যবধানে ভাসিয়ে দেওয়া ম্যাচে চার গোল করে এক লাফে চূড়ায় উঠেছেন দিয়াবাতে। ব্রাজিলিয়ান, নাইজেরিয়ানদের পেছনে ফেলে মালির এই ফরোয়ার্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া একটু চমকপ্রদই।

দুটি হ্যাটট্রিকসহ ২০ গোল নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় থ্যাঙ্কগড। ১৮ গোল নিয়ে তৃতীয় দোরিয়েতলন। গতবারের সর্বোচ্চ গোলদাতা রবিনিয়ো এবার ১৬ গোল নিয়ে হয়েছেন চতুর্থ।

দেশিদের মধ্যে স্কোরিংয়ে সবচেয়ে ভালো করেছেন এলিটা কিংসলে; সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ২০ জনের মধ্যে ২০তম তিনি। নাইজেরিয়ান থেকে বাংলাদেশি হয়ে যাওয়া এই ফরোয়ার্ডের গোল ৬টি। কিংসলে অবশ্য কিংসের হয়ে মূল একাদশে সুযোগই পেয়েছেন খুব কম, ১২ ম্যাচ।

এর বাইরে ৫টি করে গোল আছে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও নাবীব নেওয়াজ জীবনের। গেলবার ১০ গোল নিয়ে এ তালিকায় দ্বাদশ স্থানে থাকা আবাহনীর জুয়েল রানার গোল ৫টি। শেখ রাসেলের মাহবুবুর রহমান জুয়েলেরও সমান ৫টি।

স্থানীয়দের কেউ গোলসংখ্যায় এবার দ্বিতীয় অংকের ধাঁরেকাছেও যেতে পারেনি।

গোল তৈরি করে দেওয়ার তালিকায় অবশ্য উপরের দিকেই আছেন ফাহিম। সাইফ স্পোর্টিংয়ের ২০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ১০টি অ্যাসিস্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। তার সমান অ্যাসিস্ট আবাহনীর কোস্টা রিকার ফরোয়ার্ড দেনিয়েল কলিনদ্রেস সোলেরারও। ১১টি অ্যাসিস্ট নিয়ে তালিকায় শীর্ষে কিংসের রবিনিয়ো।

গেলবার ১৩ দল নিয়ে হয়েছিল লিগ, এবার দল কমে একটি। তবে লিগে দাপুটে পারফরম্যান্সের ধারা এবারও ধরে রেখেছিল কিংস। গতবারের মতো এবারও তারা মাত্র এক ম্যাচ হারে। ‘পুঁচকে’ স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের কাছে হেরে লিগে যাত্রা শুরু করলেও পরে আর কখনোই পথ হারায়নি অস্কার ব্রুসনের দল। আবাহনীর পর দ্বিতীয় দল হিসাবে হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতেছে তারা।

রানার্সআপ হলেও গতবারের মতো গোল দেওয়ার তালিকায় কিংসকে পেছনে ফেলেছে প্রতিযোগিতার রেকর্ড ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। কিংসের দলীয় গোল ৫৩টি, আবাহনীর ৫৫টি। অবশ্য এবার সবচেয়ে বেশি গোল করা দল তৃতীয় হওয়া সাইফ স্পোর্টিং; ৫৮টি। সবচেয়ে বেশি গোল হজম করেছে লিগ থেকে অবনমিত হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে নেমে যাওয়া উত্তর বারিধারা; ৫৮টি।

স্বাভাবিকভাবে সবচেয়ে বেশি জয় চ্যাম্পিয়ন কিংসের, ২২ ম্যাচে ১৮টি। এরপর আবাহনী (১৪টি), সাইফ স্পোর্টিং (১১টি) ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব (৯টি)। অনুমিতভাবেই সবচেয়ে বেশি হার অবনমিত হয়ে যাওয়া দুই দল স্বাধীনতা সংঘ (১৬টি) ও উত্তর বারিধারার (১৪টি)।

দেশের ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং এবারও পারেনি ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে। যদিও লিগের শেষটা তারা করছে রহমতগঞ্জকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে।

২০০৭ সালে প্রিমিয়ার লিগ নামকরণের পর এই শিরোপার স্বাদ কখনও পায়নি তারা। এবারও সে স্বপ্ন দেখেনি মোহামেডান; গতবার ষষ্ঠ হয়ে লিগ শেষ করা সাদা-কালো জার্সিধারীরা এবার লিগ টেবিলে আরেকটু উপরে থাকার লক্ষ্য স্থির করেছিল। একধাপ এগিয়ে পঞ্চম স্থানে থেকে তা কিছুটা পূরণ করেছে। কিন্তু শিরোপাজয়ী কিংসের সঙ্গে ২৪ পয়েন্টের ব্যবধান বলে দিচ্ছে পাদপ্রদীপের আলো থেকে অনেক দূরেই রয়ে গেছে মোহামেডান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক