সিটির মাঠে ব্রাইটনের দারুণ জয়
কদিন আগে লিগ কাপ থেকে যাদের বিদায় করেছে, সেই দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রিমিয়ার লিগে হেরেছে এন্টসো মারেস্কার দল।
দুই দলের সবশেষ লড়াইয়ের স্মৃতি এখনও তাজা! গত বুধবার লিগ কাপে জয় পাওয়া ম্যানচেস্টার সিটি এবার হেরে গেল। প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা প্রত্যাশীদের বিপক্ষে দারুণ এক জয় পেল ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়ন।
ঘরের মাঠে শনিবার অনেক সুযোগ হারানো সিটির হার ১-০ গোলে। প্রিমিয়ার লিগে টানা সাত জয়ের পর টানা দুই ম্যাচে হারল এন্টসো মারেস্কার দল।
লিগ কাপে পিছিয়ে পড়েও ২-২ সমতায় মূল ম্যাচ শেষ করে সিটি। পরে গোলরক্ষকের বীরত্বে টাইব্রেকারে জেতে ৪-৩ গোলে। তারকা খেলোয়াড়দের অনেকেই সেই ম্যাচে ছিলেন বিশ্রামে। তারা ফিরেও দলকে প্রিমিয়ার লিগে জয়ে ফেরাতে পারলেন না।
৬২ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২১টি শট নেয় সিটি। এর ছয়টি লক্ষ্যে থাকে। অন্যদিকে, গোলের জন্য সাত শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখে ব্রাইটন।
প্রতিপক্ষের মাঠে একাদশ মিনিটে এগিয়ে যায় ব্রাইটন। লুইস ডাঙ্কের ফ্রি কিক থেকে ডি-বক্সে বল পান মাক্সিম ডে কাইপার। তিনি খুঁজে নেন অরক্ষিত ইয়াসিন আয়ারিকে। বাকিটা অনায়াসে সারেন সুইডেনের এই তরুণ মিডফিল্ডার।
কাইপারের শট ঠেকানোর সুযোগ ছিল মাতেউস নুনেসের সামনে। কিন্তু বল পেরিয়ে যায় তার দুই পায়ের ফাঁক গলে।
২২তম মিনিটে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন ইলিমান এনজাই। এলিয়ট অ্যান্ডারসনের চমৎকার ক্রসে দূরের পোস্টে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি সেনেগালের এই ফরোয়ার্ড।
চার মিনিট পর মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত কারিকুরি আর গতিতে ডি বক্সে ঢুকে যান এনজাই। কিন্তু শেষটা ভালো করতে পারেননি তিনি। শট নেন গোলরক্ষক বরাবর।
৩১তম মিনিটে সুযোগ আসে আর্লিং হলান্ডের সামনে। ডি বক্সে বিপজ্জনক জায়গা থেকে শটই নিতে পারেননি তিনি। হাতছাড়া হয় সমতা ফেরানোর আরেকটি সুযোগ।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাইটনের ডি বক্সে হ্যান্ডবলের দাবি জানায় সিটি। তবে সে সব আমলে নেননি রেফারি। ডাগআউটে বেশ ক্ষুব্ধ দেখায় সিটি কোচ এন্টসো মারেস্কাকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পান ডে কাইপার। ৪৮তম মিনিটে আয়ারির ক্রসে দূরের পোস্টে অরক্ষিত বেলজিয়ান ডিফেন্ডার তাড়াহুড়ায় নেন লক্ষ্যভ্রষ্ট শট।
পাঁচ মিনিট পর খুব কাছ থেকে এনজাইয়ের গতিময় শট ব্রাইটন গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেনের হাতে লেগে পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়।
৬২তম মিনিটে ডাবল সেভে ব্যবধান ধরে রাখেন ফেরব্রুগেন। খুব কাছ থেকে দারুণ রিফ্লেক্সে নুনেসের শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। কয়েক সেকেন্ড পর কর্নার থেকে হলান্ডের হেডও ব্যর্থ করে দেন ব্রাইটন গোলরক্ষক।
৮৮তম মিনিটে ম্যাচের ফল নিয়ে সব অনিশ্চয়তা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পান জ্যাক হিনশেলউড। কিন্তু খুব কাছ থেকেও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।
পরের মিনিটে গোল হজম করতে বসেছিল ব্রাইটন। আব্দুখোদি কুজানভের গতিময় শট কোনোমতে ফেরান গোলরক্ষক। ফিরতি বলে নিকো ও'রাইলির হেড বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সুযোগ পান জেরেমি ডোকু। খুব কাছ থেকে তার শট ফেরব্রুগেনের বুকে লেগে পোস্টের বাইরে চলে যায়। একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিটি।
৯ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে এখনও শীর্ষে আছে সিটি। ৮ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে থাকা আর্সেনালের সামনে সুযোগ আছে তাদের পেছনে ফেলার।
৯ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তিনে উঠে এসেছে ব্রাইটন।
