Published : 29 Oct 2022, 03:17 PM
বিশ্বকাপ উপলক্ষে কাতারে সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের ঢল নামবে। তাদের আবাসনের জন্য রাজধানী দোহা থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের সরিয়ে নিচ্ছে আয়োজক দেশটি।
সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে বিশেষ করে এশিয়ান ও আফ্রিকার শ্রমিকদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। দোহাতে ডজনের বেশি বাড়ি কর্তৃপক্ষ খালি করেছে। সেখানে থাকা শ্রমিকরা ফুটপাতে, সাবেক আবাস স্থালে আশ্রয় খুঁজছেন।
কাতার বিশ্বকাপ স্বত্ব পাওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই। বিশেষ করে, দেশটিতে অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের অমানবিক আচরণ নিয়ে মাঝেমধ্যেই খবর আসে।
আগামী ২০ নভেম্বর কাতার বিশ্বকাপ শুরু হয়ে শেষ হবে ১৮ ডিসেম্বর। আসর শুরুর চার সপ্তাহের কম সময় আগে হঠাৎ করে স্টেডিয়াম ও অন্যান্য প্রকল্পে কাজ করা অভিবাসী শ্রমিকদের এভাবে ঘরছাড়া করার খবর নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
এক অভিবাসী শ্রমিক রয়টার্সকে জানান, দোহার আল মানসুরা জেলায় থাকা ১২শ জনকে কর্তৃপক্ষ বুধবার রাত ৮টার দিকে বাসা ছাড়ার জন্য বলে। চলে যাওয়ার জন্য তাদের মাত্র দুই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়।
পরে মিউনিসিপাল অফিসিয়ালরা রাত সাড়ে ১০টার দিকে এসে তাদেরকে জোর করে বাসা থেকে বের করে দেয় এবং পুরো বাড়ি তালাবদ্ধ করে দেয়। ফলে তাদের কেউ কেউ নিজেদের জিনিসপত্র নেওয়ার সুযোগও পাননি।
“আমাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই’, পরের দিন রয়টার্সকে এ কথা বলেন এক ব্যক্তি। তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় রাতে আরও প্রায় ১০ জনের সঙ্গে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেন তিনি, শরতের গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে তাদের অনেকের গায়ে জামাও ছিল না।
ওই ব্যক্তি ও অন্যান্য শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষ এবং নিয়োগকর্তার ভয়ে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলার সময় তাদের নাম ও ব্যক্তিগত বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি।
ওই সময় রয়টার্সের প্রতিবেদক পাঁচ জনকে তাদের ম্যাট্রেস এবং ছোট একটা ফ্রিজ পিক-আপ ট্র্যাকে তুলতে দেখেন। দোহার ২৫ মাইল উত্তরে সুমাইসিমা শহরে থাকার জন্য একটা রুম খুঁজে পেয়েছেন বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে কাতারের এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, উচ্ছেদের বিষয়টি বিশ্বকাপের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ‘দোহার অঞ্চলগুলোকে পুন:গঠন করার দীর্ঘমেয়াদী ও চলমান পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতি’ রেখে এটি করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “(উচ্ছেদ করা) সবাইকে নিরাপদে এবং যথাযথভাবে পুনর্বাসন করা হয়েছে’। অভিবাসী শ্রমিকদেরকে অনুরোধ করে বাসা খালি করার বিষয়টি ‘যথাযথ নোটিশের’ মাধ্যমে করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বৈশ্বিক ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েও তাদের সাড়া পায়নি রয়টার্স।