Published : 16 Aug 2025, 02:01 PM
ম্যাচের শুরুটা ছিল আবেগের গভীরতম তল স্পর্শ করে। ম্যাচের শেষটা হলো উত্তেজনার উত্তুঙ্গ ছুঁয়ে। নানামুখি আবেগের সেই আলোড়ন ফুটে উঠল কোচ আর্না স্লটের কণ্ঠেও। তবে সবকিছু ছাপিয়ে দিয়োগো জটার প্রতি শোক ও ভালোবাসার প্রকাশটুকুই তীব্রতর হয়ে রইল। লিভারপুলের মৌসুম শুরুর ম্যাচে না থেকেও প্রবলভাবে রইলেন প্রয়াত এই ফুটবলার।
গত মাসের শুরুতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান জটা ও তার ভাই আন্দ্রে সিলভা। লিভারপুলের ফরোয়ার্ডের বয়স হয়েছিল স্রেফ ২৮, তার ফুটবলার ভাইয়ের বয়স ছিল ২৬।
তাদের মৃত্যুতে ফুটবল বিশ্বজুড়ে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। লিভারপুল ক্লাবে সবাই তো মুহ্যমান হয়ে পড়েছিলেন বিষাদে। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর নানা আয়োজন ছিল ক্লাবে। ক্লাবে তার ম্যুরাল তৈরি করার ঘোষণা দেওয়া হয়, চুক্তির বাকি দুই বছরের অর্থ পরিবারকে দেওয়ার কথাও জানানো হয়। তার পরিবারের পাশে আজীবন থাকার কথা দেন ফুটবলারদের অনেকে।
জটার চলে যাওয়ার পর নতুন মৌসুম শুরুর দিনটিতেও তার স্মরণে ছিল নানা আয়োজন। তার জার্সি নম্বর ছিল ২০। গ্যালারিতে দর্শকদের দিয়েই ফুটিয়ে তোলা হয় ‘D J 20’। ম্যাচের প্রথম ও শেষ ২০ মিনিট ধরে তাকে নিয়ে গান গেয়ে, তার নামে কোরাস ধরে ভালোবাসার প্রকাশ করা হয়। তার নামে ছিল ব্যানার, পোস্টার ও নানা কিছু।
বোর্নমাউথের সঙ্গে শুক্রবার এই ম্যাচে মাঠের ফুটবলও ছিল জমজমাট। প্রিমিয়ার লিগে অভিষিক্ত উগো একিতিকের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকে লিভারপুল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান বাড়ান কোডি হাকপো। কিন্তু ৬৪ ও ৭৬তম মিনিটে দুই গোলে ম্যাচে সমতা ফেরান অ্যান্টোনি সেমেনিও। ৮৮তম মিনিটে ফেদেরিকো চিয়েসার গোল আবার এগিয়ে দেয় লিভারপুলকে। যোগ করা সময়ে জয় নিশ্চিত করেন মোহামেদ সালাহ।
গত মৌসুমের প্রথম ম্যাচে গোল করে যেভাবে উদযাপন করেছিলেন জটা, ঠিক একইভাবে উদযাপন করে তাকে স্মরণ করেন সালাহ।

জটা যখন ছিলেন দলে, বদলি নেমে অনেকবারই হয়ে উঠেছেন দলের ত্রাতা। এই ম্যাচের পর স্কাই স্পোর্টসকে কোচ স্লট বললেন, প্রয়াত ফরোয়ার্ডের ঘাটতি অনুভব করছিলেন তিনি।
“স্কোরলাইন যখন ২-২, নিশ্চয়ই জানেন তখন কোন ফুটবলারকে খুঁজছিলাম আমি। দিয়োগো জটা… কিন্তু তাকে পাইনি… তাকে পাইনি ভয়াবহ কারণে।”
ক্লাবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা একজনকে হারানোর ব্যথা ও যন্ত্রণা সামলে মাঠে নামা, নতুন মৌসুমের অভিযান শুরু করার মানসিক চ্যালেঞ্জ ফুটে উঠল কোচের কথায়।
“(জটার মৃত্যুর পর) মৌসুম শুরুর জন্য প্রথম যখন আমরা এলাম, প্রথম ম্যাচ খেললাম, ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে সবাই গান গাইল… সবকিছুই ছিল কঠিন। আমাদের সবার জন্যই কঠিন ছিল যে, আমরা আসলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাব। আমি সবাইকে বলেছিলাম, দিয়োগোর মতোই আচরণ করতে। সে ছিল সবার প্রতিই খুব ভালো।”
“তার স্ত্রী ও বাচ্চারা ছিল এখানে এবং আরও যারা, ওদের সবারই নিশ্চয়ই আজকে বিশেষ কিছু মনে হচ্ছে এটা দেখে যে, তার (জটা) প্রতি লোকের কতটা ভালোবাসা এখানে আছে।”
মানুষের ভালোবাসার স্রোত জটার পরিবাররের সবার হৃদয়কে স্পর্শ করবে বলে মনে করেন স্লট।
“সে ছিল ভালো এক স্বামী ও বাচ্চাদের কাছে অসাধারণ এক বাবা। ওর বাচ্চা, বাবা-মা, পরিবার ও স্বজনরা যে অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, এর তুলনীয় কিছু নেই। আমি শুধু একটি ব্যাপারই বলতে পারি, এমন কঠিন সময়ে দলের অন্য ফুটবলাররা যেভাবে নিজেদের তুলে ধরেছে এবং সমর্থকেরা যেভাবে দিয়োগো ও তার ভাইকে সম্মান জানিয়েছে। এটা ছিল দারুণ।”