উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 05 Jun 2026, 03:39 PM
ম্যাচ টাইম বেশি পাচ্ছেন না, গোলও পাননি এখনও, একটু কী মন খারাপ? প্রশ্নটি শুনে তহুরা খাতুন স্মিত হাসিতে আড়াল করতে চাইলেন হতাশা, কিন্তু পারলেন না। গত উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ভারতের গোয়ায় এসে এখনও যে পাননি জালের দেখা।
তহুরার গোল না পাওয়ার কারণগুলোর মধ্যে একটি, খেলার সময়ই তিনি পাচ্ছেন কম। এ পর্যন্ত দলের খেলা তিন ম্যাচেই ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড নেমেছেন বদলি হিসেবে। খেলতে পেরেছেন ৩১, ১৩ ও ৫০ যোগে মোট ৯৪ মিনিট।
গ্রুপ পর্বে মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচে তহুরা মাঠে নামেন ৫৯তম মিনিটে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর বদলি হিসেবে। বাংলাদেশের ৪-২ গোলে জেতা ওই ম্যাচে তেমন কিছুই করতে পারেননি তিনি।
পরের ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে ৭৭তম মিনিটে মোমিতা খাতুনের বদলি নামেন তহুরা। ৩-০ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচে খেলা ১৩ মিনিটে তিনি পারেননি ঝলক দেখাতে। অথচ, দুই বছর আগে নেপালের কাঠমাণ্ডুতে সাফের মুকুট ধরে রাখার পথে গ্রুপ পর্বে ভারতের জালে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ম্যাচটিও বাংলাদেশ জিতেছিল ৩-১ ব্যবধানে।
ওই আসরে সেমি-ফাইনালে ভুটানকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে তহুরা উপহার দিয়েছিলেন হ্যাটট্রিক। সব মিলিয়ে পাঁচ গোল নিয়ে নিজের নামের প্রতি করেছিলেন সুবিচার। কলসিন্দুঁরে তাকে ডাকা হয় ‘মেসি’ বলে।
নেপালের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে ২২তম মিনিটে পিছিয়ে পড়া দলকে পথে ফেরান ঋতুপর্ণা চাকমা। অলিম্পিক গোলে তিনি সমতা ফেরানোর পর, দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলের সুবাদে জিতে বাংলাদেশ।
সেদিন আক্রমণভাগের শক্তি বাড়াতে ৪০তম মিনিটে উমহেলা মারমার বদলি হিসেবে তহুরাকে নামান বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। দলের খেলায় গতিও বাড়ে কিছুটা। কিন্তু প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের পরীক্ষা নিতে পারেননি তহুরা। আক্রমণভাগের বাকিরাও ছিলেন মলিন। চলতি আসরে তাই বাংলাদেশের গোল দেওয়া আর খাওয়ার পরিসংখ্যানের তফাৎ নেই খুব একটা। দিয়েছে পাঁচটি, খেয়েছে চারটি।
চলতি আসরে এখন পর্যন্ত নিজেদের জাল অক্ষত রেখেছে ভারত। প্রতিপক্ষের জালে গোল করেছে ১৫টি। প্রতিযোগিতার রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের অক্ষত জাল ছিঁড়তে আক্রমণভাগ নিয়ে ব্যাম্বোলিম অ্যাথলেটিক ক্লাব মাঠে শুক্রবার সকালের অনুশীলনে আলাদাভাবে কাজ করেছেন বাটলার। কেননা, দুই উইংয়ে ঋতুপর্ণা ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে রেখে মূল ফরোয়ার্ড হিসেবে আনিকাকে খেলানোর ছক এখনও কাজ করেনি শতভাগ।
জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে শনিবার ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দলের মতো হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে গোয়ায় আসা তহুরাও ঘাম ঝরিয়েছেন। প্রস্তুত হচ্ছেন নিজের মতো করে, বেঞ্চে বসে থাকার কষ্টটুকু মেনে নিয়ে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বললেন, নিজের নিবেদনটুকু অটুট রাখতে চান তিনি। বাকিটা ছেড়ে দিচ্ছেন সময় ও সুযোগের ওপর।
“মন খারাপ নেই, বেশি খেলার সুযোগও পাইনি। পেলে হয়ত গোল এনে দেওয়ার সুযোগ থাকত। ফাইনালে খেলার সুযোগ পেলে চেষ্টা করব নিজের সেরাটা দেওয়ার।”
“চেষ্টা থাকবে আমরা সবাই যেন ভারতের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা দিতে পারি। কেননা, তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন তো আমাদের সবারই থাকবে। সেটা পূরণের জন্য আমাদের সবারই অনেক বেশি চেষ্টা থাকবে।”