ইংলিশ ফুটবল
Published : 26 Jan 2025, 11:08 AM
ম্যানচেস্টার সিটির স্টেশনে এসে যেন কিছুটা দিশা হারিয়ে ফেলল ‘উজবেক ট্রেন।’ না দেখা গেল গতি, না দম। উজবেকিস্তানের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মাঠে নামার ইতিহাস গড়লেন আব্দুখোদি কুজানভ। কিন্তু তার অভিষেকটা পরিণত হলো দুঃস্বপ্নে। তবে তার ওপর ভরসা রাখছেন পেপ গুয়ার্দিওলা। ম্যানচেস্টার সিটির কোচের বিশ্বাস, ভুল থেকে নিশ্চিতভাবেই শিখবেন তরুণ এই ডিফেন্ডার।
কয়েক দিন আগে আলোড়ন তুলে ফরাসি ক্লাব লঁস থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে নাম লিখিয়েছেন কুজানভ। ২০ বছর বয়সী ডিফেন্ডার উজবেকিস্তানে পরিচিত ‘দা ট্রেন’ নামে। এছাড়া লঁস দলে তাকে ‘মনস্টার’ ও ‘ট্যাংক’ নামেও ডাকত কোচ-সতীর্থরা। দারুণ গতি, রক্ষণে শক্তিশালী উপস্থিতি, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়া, বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো, হাওয়ায় ভেসে তার সামর্থ্য, আগ্রাসী ধরন, সব মিলিয়েই এই বিশেষণগুলো তিনি পেয়েছেন নানা সময়ে।
তবে সিটিতে অভিষেকের উপলক্ষের বিশালত্বের চাপেই হয়তো খেই হারিয়ে ফেলেন তিনি। নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার দিন পাঁচেক পরই তার অভিষেক হয় শনিবার চেলসির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। শুরু থেকেই বেশ নার্ভাস লাগছিল তাকে। তার ভুলেই ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে গোল হজম করে বসে সিটি।
পরের মিনিটেই কোল পালমারকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। এরপর একটু সামলে নেন বটে। তবে সিটির রক্ষণে দুর্বলতার জায়গা বারবার মনে হয়েছে তাকে। পরে দ্বিতীয়ার্ধের দশ মিনিটের মধ্যেই তাকে তুলে নিয়ে জন স্টোন্সকে নামান কোচ।

শুরুর সেই ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-১ গোলের দারুণ এক জয় পায় সিটি। ম্যাচের পর গুয়ার্দিওলা আস্থার হাত রাখেন কুজানভের কাঁধে।
“ওয়েল… খুব ভালো শুরু এটা নয়, তাই না? তবে সে শিক্ষা নেবে। এখনও বয়স অনেক কম। খুবই অনভিজ্ঞ। অবশ্যই শুরুটা খুব আদর্শ নয়। তবে মাত্র একটি ট্রেনিং সেশনের পর এত বড় ম্যাচ সে খেলছে। নিকোলাস জ্যাকসন, কোল পালমার, এরকম অবিশ্বাস্য ফুটবলারদের সামলানোর কাজটা সহজ নয়।”
“সে অবশ্যই শিখবে। এখনও তরুণ সে, ভুল থেকে শিখবে। আমি নিশ্চিত, এখান থেকে শিক্ষা নেবে সে।”
ভুল নিয়ে কুজানভকে কিছু বলা হবে কি না, এই প্রশ্নে কিছুটা কৌতুক করলেন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ। ভাষাগত দূরত্বের কথাও বললেন তিনি।
“ওর সঙ্গে কথা বলার জন্য আমাকে রুশ বা উজবেক ভাষা শিখতে হবে। খুব সাবলীলভাবে ইংরেজি বলতে পারে না সে।”
“আর সত্যি বলতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে, খুব বেশি কিছু বলার তো নেই। সে জানে যে, সে ভুল করেছে। এখন তাকে কী বলতে পারি? বলব যে, ‘ভুল করা যাবে না?’ সে তো ভুল করতে চায় না, নিজেও সেটা জানে।”
দ্বিতীয়ার্ধে কুজানভকে তুলে নেওয়ার পেছনে ভুলের ভূমিকা নেই বলেও দাবি কোচের।
“আমি বদলি নামিয়েছি মূলত তার হলুদ কার্ডের কারণে, ভুলের কারণে নয়। এছাড়া জন স্টোন্সকে আমার বুধবারের ম্যাচে (চ্যাম্পিয়ন্স লিগে) লাগবে। ওর কিছু সময় মাঠে কাটানো জরুরি ছিল।”