Published : 28 May 2026, 03:43 PM
দলে ফিরে একটা লক্ষ্য পূরণ হয়েছে আনিসুর রহমান জিকোর। কঠোর পরিশ্রমের ভেলায় চেপে এবার পূরণ করতে চান আরেকটা লক্ষ্য- জাতীয় দলে পোস্টে দাঁড়ানো। অতীত ভুলে একাদশে ফেরার চ্যালেঞ্জে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক।
এক সময়ে জাতীয় দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ছিলেন জিকো। সেই জায়গা নিজের করে নিয়েছেন মিতুল মারমা। আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে পোস্ট কে থাকবনে তা দেখতে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছেন অনেকেই।
ঈদের দিন বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জাতীয় দলের বাইরে থাকার সময়টায় কঠোর পরিশ্রমের কথা বললেন জিকো। সামনের লক্ষ্য পূরণ কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানালেন তিনি। তবে কেন বাদ পড়েছিলেন, কোনো ঝামেলা ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে খুব একটা গভীরে গেলেন না তিনি।
“এটা তো আপনারা এরই মধ্যে সবকিছুই জানেন, এখন আমি আর কী বলব। এটা এখন অতীত হয়ে গেছে, তো আমি এটা নিয়ে আর কথা বলতে চাচ্ছি না। এখন দলে আছি, ইনশাআল্লাহ আমার এই জার্নিটা এখন কন্টিনিউ করব আমি।”
নিজের ফিটনেস নিয়ে কোনো সমস্যা দেখেন না জিকো। তবে লম্বা সময় বাইরে থাকায় একাদশে জায়গা পেতে বড় চ্যালেঞ্জ দেখেন তিনি।
“অবশ্যই ফিট। নতুন কোচ আসছে, অনুশীলন করছি, তারপর আছেন গোলকিপার কোচ। শেষ দুই বছর যেহেতু দলে ছিলাম না, চ্যালেঞ্জটা একটু বেশি। কারণ, ওরা খেলছে, ভালোই করছে। যদি আমার জায়গাটা ফিরে পাই, তাহলে আমি আমার সেরাটা দেব।”
“লিগে খেলছি, আত্মবিশ্বাস আছে এবং নতুন কোচ, তো সব মিলিয়েই উপভোগ করছি। অনেকদিন পরে যেহেতু ফিরেছি সবার সাথে... সবাই চেনা মুখ। তো অনুশীলন করছি, যদি খেলতে পারি তাহলে অবশ্যই দলকে আমার সেরাটা দেব।”
জাতীয় দলের বাইরে থাকার সময়টায় কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে তৈরি করেছেন জিকো। প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় সন্তুষ্ট অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক। এবার পোস্টে দাঁড়াতে আরও বেশি পরিশ্রম করত উন্মুখ তিনি।
“অনেকদিন ধরেই কষ্ট করছি, অনেক পরিশ্রম করছি। সকাল-বিকাল জিম করছি। তো এটার পিছনে আমাদের গোলকিপার কোচ নয়ন ভাইও সাপোর্ট করেছেন অনেক। এই মৌসুমে পুরোটাই খেলছি আল্লাহর রহমতে, আবার ট্রেবলও জিতছি। আসলেই জার্নিটা অনেক কঠিন ছিল, কিন্তু জাতীয় দলে আসছি এখন ভালোই লাগছে।।”
পেশাদার ফুটবলার হিসেবে অনেকবারই ঈদ করতে হয়েছে ক্যাম্পে। উৎসবের সময় থাকতে হয়েছে পরিবারের থেকে। দেশের জন্য এমন ত্যাগ করে যেতে আপত্তি নেই জিকোর।
“ঈদের দিন, এটা আমাদের মুসলিমদের জন্য অবশ্যই আনন্দের দিন। পরিবারের সঙ্গে করতে পারছি না, একটু খারাপ লাগছে, কিন্তু দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। এর আগেও অনেকবার করছি। তো আমরা ভোর ৬টায় উঠেছি, উঠে সবাই নামাজে গেছি, নামাজ পড়ার পর ব্রেকফাস্ট করে সরাসরি মাঠে চলে আসছি।”