Published : 25 Nov 2025, 12:44 PM
ম্যাচের পর ড্রেসিং রুমে সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ইদ্রিসা গেয়ি। তবে বিতর্কিত কাজটি তো তিনি করেছেন গোটা দুনিয়ার সামনে। এভারটনের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার পরে প্রকাশ্যেও ক্ষমা চাইলেন সামাজিক মাধ্যমে। তিনি অবশ্য পাশে পাচ্ছেন কোচকে। নিজ দলের ফুটবলারদের মধ্যে এমন লড়াইকে খারাপ কিছু মনে করেন না এভারটনের কোচ ডেভিড ময়েস।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সোমবার ম্যানচেস্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচের ত্রয়োদশ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় গেয়িকে। এতটা সময় ১০ জন নিয়ে খেলেও দারুণ এক জয় পায় এভারটন। কিয়েরনান ড্রুজবেরি-হলের দুর্দান্ত গোলে ইউনাইটেডের মাঠে ১২ বছরের খরা কাটানো জয়ের স্বাদ পায় তারা।
স্মরণীয় জয় নিয়ে আলোচনা তো আছেই, সেখানে সবচেয়ে বেশি মিশে আছে গেয়ির চড় ও লাল কার্ড। ম্যাচের ১৩তম মিনিটে গেয়ির সঙ্গে মাইকেল কিনের ভুল বোঝাবুঝি বল ঠিকমতো ‘ক্লিয়ার’ করা যায়নি। ফাঁকায় বল পেয়ে যান ইউনাইটেডের ব্রুনো ফের্নান্দেস। তবে বিপদ হয়নি। তার শট চলে যায় বাইরে দিয়ে।
কিন্তু গেয়া প্রচণ্ড চটে যান সতীর্থ মাইকেল কিনের ওপর। এই ডিফেন্ডারের দিকে তেড়ে গিয়ে কথা বলতে থাকেন ক্ষিপ্ত হয়ে। এক পর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন কিন। তাতে আরও রেগে গিয়ে তার গালে বাঁহাতে চাপড় বসিয়ে দেন গেয়ি। গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড ছুটে গিয়ে আলাদা করেন দুজনকে
কাছেই থাকা রেফারি লাল কার্ড দেখাতে বেশি সময় নেননি। পরে ভিএআর দেখেও রেফারি বহাল রাখেন লাল কার্ড।
লাল কার্ড দেখে গেয়ি আবার তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন। আবার তেড়ে যান কিনের দিকে। এবারও একরকম জাপ্টে ধরে জোর করে সরিয়ে নেন সেনেগালের এই মিডফিল্ডারকে।
সময়ের সঙ্গে অবশ্য শান্ত হয়ে যান গেয়ি। কোচ ময়েস পরে সংবাদমাধ্যমে জানান, ড্রেসিং রুমে ক্ষমা চেয়েছেন অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার। ৩৬ বছর বয়সী ফুটবলার পরে সামাজিক মাধ্যমেও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
“প্রথমে আমি ক্ষমা চাই আমার সতীর্থ মাইকেল কিনের কাছে। আমার আচরণের সবটুকু দায় কেবল আমার। এছাড়াও ক্ষমা চাই আর সব সতীর্থ, স্টাফ, সমর্থকদের কাছে এবং ক্লাবের কাছে।”
“আজকে যা ঘটেছে, সেটি আমাকে বা আমার মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তুলছে না। ওই সময়ে প্রবল আবেগের বশে হয়ে গেছে, তবে কোনোভাবেই তা আমার আচরণকে যৌক্তিক করে তোলে না। দায় পুরোপুরি আমার এবং নিশ্চিত করব, আর কখনও যেন এমন না হয়।”
কোচ ডেভিড ময়েস অবশ্য এটিকে তেমন বড় কোনো ঘটনা মনে করেন না। তিনি গেয়ির পাশে দাঁড়ালেন তো বটেই, উল্টো দলের ভেতর এমন লড়িয়ে মানসিকতা দেখতে চান বলেও জানিয়ে দিলেন।
“আমাকে বলা হয়েছে যে, নিজ দলের ফুটবলারকে চড় মারলে বা গায়ে হাত তুললে বিপদে পড়ার হবে, আইনেই এটা আছে। তবে সবকিছুরই তো অন্য দিকও আছে।
“মাঠে কেউ বল ঠিকঠাক দিতে না পারলে বা সঠিক কাজটি করতে না পারলে নিজেদের মধ্যে লড়াই বা বিরক্ত হওয়ার ব্যাপারটি পছন্দই করি আমি। জয়ী একটি দল গড়ে তুলতে হলে, যে কঠোরতা ও দৃঢ়তা আমাদেরকে ফলাফল এনে দিয়েছে… আমার মনে হয় এমন ফুটবলার আমাদের প্রয়োজন, যারা এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।”
অভিজ্ঞ এই কোচ বরং রেফারিকে দায় দিলেন বেশি কঠোর হওয়ার জন্য।
“ফুটবলে এসব হয়েই থাকে। আমার মনে হয়, রেফারি আরেকটু সময় নিতে পারতেন এবং ভাবতে পারতেন। হয়তো সেখানে গিয়ে মিটমাট করে দিতে পারতেন।”