চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
Published : 01 Oct 2025, 12:42 AM
মাঠে নামলেই গোল পাচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপে। এবার তিনি উপহার দিলেন দারুণ হ্যাটট্রিক। কয়রাত আলমাতিকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দ্বিতীয় জয় পেল রেয়াল মাদ্রিদ।
কাজাখস্তানের ক্লাবটির মাঠে মঙ্গলবার ৫-০ গোলে জিতেছে শাবি আলোন্সোর দল। কিলিয়ান এমবাপের হ্যাটট্রিকের পরের গোল দুটি করেন এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা ও ব্রাহিম দিয়াস।
দুই ম্যাচেই জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠেছে রেয়াল মাদ্রিদ।
আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ৫-২ গোলে হারের তীব্র হতাশা এবং ছয় হাজার ৪০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি নিয়ে মাঠে নেমে শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে দেখা যায় রেয়াল মাদ্রিদকে। ঐতিহাসিক উপলক্ষে প্রথম মিনিটেই গোল পেতে পারত আলমাতি; তবে ছয় বক্সের মুখে বল পেয়ে গোলরক্ষক বরাবর হেড করেন দলটির ফরোয়ার্ড দাস্তান।
চতুর্দশ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় রেয়াল। তবে প্রতি-আক্রমণে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ভিনিসিউস জুনিয়র। ২১তম মিনিটে এমবাপের কোনাকুনি শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন আলমাতি গোলরক্ষক।
একটু একটু করে চাপ বাড়ানো রেয়াল ২৫তম মিনিটে এগিয়ে যায়। সবাইকে পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ঢুকে পড়া ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোকে গোলরক্ষক ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সফরকারীরা। স্পট কিকে আসরে তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপে।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দুই ও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জালের দেখা পেলেন বিশ্বকাপ জয়ী তারকা।
দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে দারুণ এক গোলে ব্যবধান বাড়ায় রেয়াল মাদ্রিদ। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের বিক্ষিপ্ত অবস্থান দেখে ফাঁকায় উঁচু করে শট নেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া, অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে গোলটি করেন এমবাপে।
কিছুক্ষণ পরই হ্যাটট্রিক হতে পারত এমবাপের; কিন্তু ভিনিসিউসের ফিরতি পাস বক্সে ফাঁকায় পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন তিনি। ৬২তম মিনিটে দারুণ নৈপুণ্যে দুই গোলের ব্যবধান ধরে রাখেন কোর্তোয়া, লুইস মাতার দূর থেকে নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে আটকান তিনি।
৬৭তম মিনিটে রেয়ালের ডি-বক্সে ডিফেন্ডার দানি সেবাইয়োসের পায়ে লেগে ভালেরি পড়ে গেলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে, ভিএআর মনিটরে দেখে সিদ্ধান্ত পাল্টান তিনি।
৭৫তম মিনিটে মাস্তানতুয়োনোর বদলি নামা রদ্রিগো একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ছোট করে পাস দেন আর্দা গিলেরকে। তার ছোট পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন এমবাপে।
ইউরোপ সেরার মঞ্চে এবার দুই ম্যাচে তার গোল হলো পাঁচটি। সব মিলিয়ে মৌসুমে তার গোল হলো ১৩টি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এই নিয়ে ৬০ গোল হলো ফরাসি তারকার, ৮৯ ম্যাচে।
৮৩তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান তিন মিনিট আগে চুয়ামেনির বদলি নামা কামাভিঙ্গা। রদ্রিগোর ক্রসে ডি-বক্সের কাছ থেকে হেডে গোলটি করেন ফরাসি মিডফিল্ডার।
যোগ করা সময়ে আলমাতির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন আরেক বদলি খেলোয়াড় দিয়াস। এমবাপের বদলি নামা গন্সালো গার্সিয়ার পাস ডি-বক্সে পেয়ে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
দুই ম্যাচেই হেরে পয়েন্ট টেবিলের সবার শেষে আলমাতি।
আরও পড়ুন: