উইমেন’স এশিয়ান কাপ
Published : 01 Mar 2026, 01:29 PM
সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে ছোট-ছোট ছয়টি পোস্ট সাজিয়ে, কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে শুরু হলো শুটিং অনুশীলন। মানিকা চাকমাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যভেদ করলেন আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। পাল্টা দিতে দেরি করলেন না মনিকাও। কয়েকজনকে কাটিয়ে আফঈদা খন্দকারকে বোকা বানিয়ে গোল করলেন তিনি। প্রস্তুতি শেষে দুটি উইমেন’স সাফ জয়ী এই মিডফিল্ডারও বললেন, মূল লড়াইয়ে মাঝমাঠে তাদের আলো ছড়াতে হবে এমন করেই।
কমব্যাংক স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে উইমেন’স এশিয়ান কাপের ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের পথচলা শুরু করবে বাংলাদেশ। এই প্রতিযোগিতা চীন রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়ন। অন্যদিকে এই প্রথম এশিয়ার মেয়েদের ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে পা রাখবে বাংলাদেশ।
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখছেন না পিটার জেমস বাটলার। সকাল নয়টা দল নিয়ে জুবিলি স্টেডিয়ামে পৌঁছে নেমে পড়লেন অনুশীলনে। দেড় ঘণ্টার প্রস্তুতি সেরে মনিকা গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এলেন দলের প্রতিনিধি হয়ে। কণ্ঠে দৃঢ়তা নিয়ে তিনি বললেন, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টার একবিন্দু ত্রুটিও রাখবেন না তারা।
“আমরা ওদের সাথে খেলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যেহেতু ওদের সাথে খেলার সুযোগ হয়েছে, আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাব। আর মিডফিল্ডের কথা বলতে গেলে—আমরা যখন খেলব, তখন সবকিছু মেইনটেইন করে… কার কী দায়িত্ব, সেটা পালন করে খেলার চেষ্টা করব।
“অবশ্যই, কোচের পরিকল্পনার বাইরেও আমাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ থাকে। যেমন মারিয়া উপরে চলে গেলে আমার মিডফিল্ড হোল্ড করে রাখতে হয়। এই বিষয়গুলো আমরা নিজেদের মধ্যে কমিউনিকেশন করে খেলছি। যেহেতু ওরা শক্তিশালী টিম, তাই আমরা সব দিক দিয়ে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। শুধু মিডফিল্ড নয়, আমাদের স্ট্রাইকার, ডিফেন্ডার এবং গোলকিপার—সব বিভাগকেই মেইনটেইন করতে হবে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুত।”
মনিকাদের প্রস্তুতি মূলত বড় মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার। উইমেন’স এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের গ্রুপে থাকা আরেক দল উত্তর কোরিয়া প্রতিযোগিতার তিনবারের চ্যাম্পিয়ন। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উজবেকিস্তানও ঢের এগিয়ে। মনিকা জানালেন, পরিস্থিতি বুঝে খেলবেন তারা।
“যেহেতু ওরা অনেক ভালো টিম এবং ওদের সাথে আগে আমাদের খেলার অভিজ্ঞতা নেই, তাই মাঠে নেমে পরিস্থিতি বুঝে আমাদের খেলতে হবে। আমরা অনেকদিন ধরে এখানে আছি। আমরা এই আবহাওয়ার সাথে এখন অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। আমরা এখানে ভালো প্র্যাকটিস করছি। দিন দিন আমাদের উন্নতি হচ্ছে। সব মিলিয়ে টিম ভালো আছে।”
“যেহেতু ওরা (চীন ও উত্তর কোরিয়া) এশিয়ার মধ্যে অনেকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাই আমাদের প্রতিদিন মিটিং হয় এবং ভিডিও দেখানো হয়। ওরা কোন পজিশনে খেলে, আমাদের কীভাবে দৌড়াতে হবে এবং মাঠে কীভাবে খেলতে হবে—এগুলো আমাদের মিটিংয়ে বলা হচ্ছে এবং আমরা মাঠেও সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।”
শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নিয়েই সারাক্ষণ ভাবনায় ডুবে থাকছেন না বলেও জানালেন মনিকা। লক্ষ্য যেহেতু নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর, সেদিকে মনোযোগ তাই বেশি থাকছে বলে জানালেন এই তারকা মিডফিল্ডার।
“আমাদের গোলকিপার থেকে স্ট্রাইকার পর্যন্ত সবাইকেই শক্তিশালী হতে হবে। তাই গোলকিপার থেকে শুরু করে স্ট্রাইকার পর্যন্ত সব বিভাগেই আমাদের কাজ চলছে। অবশ্যই আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। ফলাফল যাই হোক, আমরা আমাদের সেরাটাই দিব।”
“ডিফেন্ডিং এবং অ্যাটাকিং—দুই দিক নিয়েই কাজ করছি। বল পেলে অবশ্যই আমরা আক্রমণ করব, আর বল হারালে দ্রুত পজিশনে ফিরে আসার চেষ্টা করব। আমরা আমাদের নিজেদের নিয়েই বেশি ভাবছি। কারণ আমাদের এখানে পারফর্ম করতে হবে। দেশের জন্য, নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য আমরা এখানে খেলতে এসেছি। তাই আমরা আমাদের দেশের কথাই ভাবছি।”