উইমেন’স এশিয়ান কাপ
Published : 03 Mar 2026, 05:49 PM
৪৪ মিনিট চীনকে আটকে রাখা। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে দুই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলেও ব্যবধান বাড়তে না দেওয়া- সব মিলিয়ে উইমেন’স এশিয়ান কাপের রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ম্যাচে প্রাপ্তিই বেশি দেখছেন পিটার জেমস বাটলার। কিছু মুহূর্ত বাদে মেয়েরা দুর্দান্ত খেলেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ।
সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে চীনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। দুটি গোলই দল হজম করে প্রথমার্ধের শেষ দিকে। ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়া দিতে এসে বাটলার পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করতে গিয়ে দলকে নিয়ে গর্বের কথাই জানালেন।
“আমি চীনকে অভিনন্দন জানাতে চাই। আমার মনে হয় তারা এশিয়ার অন্যতম সেরা দল, সম্ভবত এশিয়ার সেরা দলই, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং দুর্ভাগ্যবশত আমাদের হারানোর জন্য তাদের অবশ্যই অভিনন্দন। আমার মনে হয়েছিল যে, তারা হয়তো খেলাটা একপেশে করে ফেলবে, কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। ম্যাচের আগে মেয়েদের বলেছিলাম নিজেদের সেরাটা দিতে। তোমরা যা দিতে পারবে, তা দাও; নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলো। তোমরা যেমন, তেমনই থাকো এবং আমরা যা, সেটাই দেখাও।”
“আমরা এখানে এসে রক্ষণাত্মক হয়ে বসে থাকতে এবং বলির পাঁঠা হতে আসিনি। আমি সেভাবে কোচিং করাই না এবং আমার দলও সেভাবে খেলুক, তা আমি চাই না। আমার মনে হয় আজ রাতে মেয়েরা দুর্দান্ত ছিল। সত্যিই কিছু ভালো মানের খেলোয়াড় এবং একটি শক্তিশালী বেঞ্চ সমৃদ্ধ একটি চমৎকার দলের বিরুদ্ধে দারুণ প্রচেষ্টা ছিল এটি। তাই, আমি মেয়েদের নিয়ে আনন্দিত। আমার মনে হয় প্রায় ৪০ মিনিটের মতো তাদের আটকে রাখতে পেরেছিলাম, এবং তারপর আমরা কিছুটা মনোযোগ হারিয়ে ফেলি, পরিবর্তন করি। তবে সামগ্রিকভাবে আমার মনে হয়, মেয়েদের প্রচেষ্টা নিয়ে সত্যিই গর্বিত এবং তারা সত্যিই তাদের দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে, জার্সির সম্মান রেখেছে, এবং এটি প্রমাণ করে যে আমরা কতটা উন্নতি করেছি।”
সেরা একাদশে অভিজ্ঞ গোলকিপার রূপনা চাকমার বদলে মিলি আক্তারকে নামান বাটলার। তরুণ এই গোলকিপার মাঝেমধ্যে তালগোল পাকিয়েছেন। তবে বাটলার তাকে তুললেন না সমালোচনার কাঠগড়ায়।
“রূপনা খুব, খুব ভালো। সে দারুণ একজন খেলোয়াড়, কিন্তু তার উচ্চতা কম এবং আমি তো তাকে কোনো গ্রো ব্যাগে (গাছ বড় করার ব্যাগ) রেখে খাবার খাইয়ে আশা করতে পারি না যে, সে ঘুম থেকে উঠে ছয় ইঞ্চি লম্বা হয়ে যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমি সবসময় একটি ন্যায্যতার অনুভূতি এনেছি এবং দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি সবসময় একটি প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রেখেছি। রূপনার খেলার কোনো জন্মগত অধিকার নেই; মিলিরও নেই; স্বর্ণারও নেই।”
“বাংলাদেশ নারী ফুটবল দীর্ঘদিন ধরে গোলকিপিংয়ের ক্ষেত্রে সংগ্রাম করেছে। আমার মতে আজ রাতে মিলি অসাধারণ ছিল। সে কিছু ভুল করেছে, সে ভুল করবেই, তবে আমার মনে হয় সে সত্যিই ভালো করেছে এবং দলে নতুনত্ব আনার পেছনের কারণ এটিই ছিল। আমি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাই না।”
দুটি গোলই চীন করেছে বক্সের বাইরে থেকে। দ্বিতীয় গোলে অবশ্য ভাগ্যেকে পাশে পায়নি বাংলাদেশ। ডিফেন্ডার কোহাতি কিস্কুর পায়ে লেগে দিক পাল্টে বল জড়ায় জালে। চতুর্দশ মিনিটে চীন গোলকিপারের দুর্দান্ত সেভে অবশ্য অভাবণীয় এক গোল পাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। বাটলার বললেন, ভাগ্যে বিশ্বাসী নন তিনি।
“খেলায় সুযোগ আসে, সুযোগ যায়। আমি এমন অনেক ম্যাচ খেলেছি, যেখানে আপনি ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান, আপনি নিজের ভাগ্য নিজেই তৈরি করেন এবং আমি এমনি-এমনি ভাগ্যবান হওয়ায় বিশ্বাস করি না। আপনাকে নিজের ভাগ্য নিজেই তৈরি করতে হবে। তাই, আমরা এর চেয়ে খারাপ খেলব এবং জিতব। আপনারা জানেন, আমরা আরও ভালো দলের সাথে খেলব এবং হয়তো বড় ব্যবধানে হারব। এটাই বাস্তবতা। তবে আমি মনে করি, আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মেয়েরা হাল ছাড়েনি।”
“দ্বিতীয়ার্ধে আমরা কৌশলের পরিবর্তন করেছি এবং আমার মনে হয়, মেয়েরা আরও বেশি ধীরস্থিরতা দেখিয়েছে। মেয়েদের খেলায় আমি সত্যিই আনন্দিত এবং ইতিবাচক। তবে আমাদের এখন এটি কাজে লাগাতে হবে। আমাদের সেই গতি তৈরি করতে হবে এবং উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের দিকে তাকাতে হবে... কোরিয়ার বিপক্ষে আমরা হয়তো বড় ব্যবধানে হারতে পারি। কে জানে? তবে আমরা বদলাব না, আমরা একইভাবে খেলা চালিয়ে যাব।”
আগামী শুক্রবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে যাত্রা শুরু করেছে উত্তর কোরিয়া।
'গোলটা হলে সেরা গোলের একটি হিসেবে মনে রাখতাম' –
ইতিহাস গড়া ম্যাচে চীনের বিপক্ষে লড়াই করে হারল আফঈদা-ঋতুপর্ণারা