উইমেন’স এশিয়ান কাপ
Published : 08 Mar 2026, 07:37 PM
যে ম্যাচটি মূল হিসাবে রেখে এতদিন ছক কষেছে বাংলাদেশ, সেই উজবেকিস্তান ম্যাচ এখন দুয়ারে। পার্থে পা রাখার পর রোববার ই অ্যান্ড ডি লিটিস স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি নিয়েছে দল। কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে উইমেন’স এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পূরণে শেষ মুহূর্তের গোছগাছ সেরে নিয়েছেন পিটার জেমস বাটলার। সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশ কোচ বললেন, রক্ষণের চাদরে নিজেদের মুড়িয়ে রাখবে না দল।
পার্থ রেক্টাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে সোমবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় মুখোমুখি হবে দুই দল। দুটি দলই ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে হেরেছে। আসছে ম্যাচটি তাই উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশের জন্য শেষ ভালোর সুযোগ। সমীকরণ মিলিয়ে গ্রুপ পর্ব উতরানোর শেষ উপলক্ষও।
তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ এবং তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুটি পাবে কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলার সুযোগ। ‘বি’ গ্রুপ থেকে এরই মধ্যে সেরা আটে খেলা নিশ্চিত করেছে চীন ও উত্তর কোরিয়া। উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশ কেউই পারেনি পয়েন্টের খাতা খুলতে। তবে গোল পার্থক্যে উজবেকিস্তান তৃতীয় এবং বাংলাদেশ আছে গ্রুপের তলানিতে। তৃতীয় হওয়া দলের মধ্যে সেরা দুইয়ে থাকতে হলে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জিততে হবে বাংলাদেশকে।
উইমেন’স এশিয়ান কাপের আঙিনায় উজবেকিস্তান এর আগেও খেলেছে পাঁচবার। তবে ২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম তারা বাছাই পেরোতে পেরেছে। সেখানে বাংলাদেশ এবারই প্রথম এসেছে খেলতে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের ব্যবধানও অনেক; উজবেকিস্তান ৪৯তম, বাংলাদেশ ১১২তম। ব্যবধানটুকু মেনেই মেয়েরা স্বপ্ন নিয়ে খেলতে নামবে বলে জানালেন বাটলার।

“আমরা মাত্রই দুটি শক্তিশালী দল চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে খেলেছি। আমরা কিছুটা কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি, যা এই টুর্নামেন্টে আসার জন্য আমাদের জন্য সত্যিই ভালো হয়েছে। আমরা কিছু ভালো মুহূর্ত কাটিয়েছে এবং আমি মনে করি, খেলা মানেই হলো বিশেষ কিছু মুহূর্তের সমষ্টি। ভালো মুহূর্ত এবং কিছু ভিন্ন অভিজ্ঞতা, যা শেখার একটি প্রক্রিয়া…আমি ভালো করেই জানি, এটি একটি কঠিন ম্যাচ হবে।”
“ম্যাচে আমাদের কৌশল কেমন হবে, সেটা নির্ভর করছে তারা কীভাবে নিজেদের সাজায় এবং তারা কীভাবে খেলে তার ওপর। তারা কি রক্ষণাত্মক খেলবে, নাকি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে? তবে আমি জানি, আমরা কী করব এবং আশা করি, সম্প্রতি আমরা যে প্রস্তুতি নিয়েছি, তা কাজে লাগবে। প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার দিন। প্রতিটি দিনই শেখার একটা সুযোগ এবং আপনারা জানেন যে, আমাদের দলের গড় বয়স মাত্র ১৯.৫ বছর। আমরা অনেক বেশি আশাবাদ নিয়ে পরবর্তী ম্যাচে নামছি এবং একইসাথে আমরা সতর্কও আছি।”
শারীরিক গড়ন, শক্তিতেও এগিয়ে উজবেকিস্তান। তবে অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে বাংলাদেশ সবশেষ ম্যাচ খেলেছিল আজারবাইজানের বিপক্ষে, যাদের গড়নও একই। ঢাকায় আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা সেই ম্যাচ বাংলাদেশ হেরেছিল ২-১ গোলে। প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও বাটলারের মনে হচ্ছে, উজবেকিস্তানের বিপক্ষের ম্যাচটি তেমন হতেও পারে।
“আমার মনে হয় পরিস্থিতি এখন ভিন্ন। কারণ অ্যাথলেটিক প্রোফাইল এবং আপনি যদি আজারবাইজান ও উজবেকিস্তানের গঠন দেখেন—আজারবাইজান একটি বড় ও শক্তিশালী দল ছিল, যারা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে আমাদের সমস্যায় ফেলেছিল। একই সময়ে আমরাও তাদের সমস্যায় ফেলেছিলাম। তবে আমার মনে হচ্ছে, কালকের ম্যাচে আক্রমণ-পাল্টা্ আক্রমণে দারুণ লড়াই হবে।”
“আমরা যেভাবে খেলি, তারা হয়তো তা নিয়ে একটু সতর্ক থাকতে পারে। আমরা এমন দল নই যারা রক্ষণাত্মক হয়ে বসে থাকবে, আমরা সেটা পারি না, ওটা আমাদের ধরন নয়। আমরা আক্রমণাত্মক খেলতে পছন্দ করি, তবে আমাদের বল দখলে রাখা এবং বলের সঠিক ব্যবহারে আরও দক্ষ হতে হবে। আজারবাইজানের বিপক্ষে আমরা সেটা করতে পেরেছিলাম। আমরা ধৈর্যশীল ছিলাম এবং বলের নিয়ন্ত্রণ খুব ভালোভাবে ধরে রেখেছিলাম। আগামীকালও আমাদের সেটিই করতে হবে।”
ধৈর্য্য ধরে কোচের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শতভাগ নিংড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারও। মেয়েদের ফুটবলের উন্নতির জন্য সিডনি ও পার্থের মতো মানসম্পন্ন স্টেডিয়ামের দাবিও এই ডিফেন্ডার আবারও জানিয়ে রাখলেন।
“আগামীকাল আমাদের গ্রুপের শেষ খেলা। তো উজবেকিস্তানের সাথে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব আমাদের সেরাটা দিয়ে খেলার। আমাদের এখানে হারানোর কিছু নেই, আমরা প্রথমবারের মতো এখানে কোয়ালিফাই করেছি। আমাদের দেশকে এখানে তুলে ধরতে পেরেছি, এটা আমাদের কাছে অনেক গর্বের বিষয়। ইনশাল্লাহ ভালো কিছু হবে কালকে। সবাই দোয়া করবেন আমাদের জন্য।”
“আমি প্রথম দিনই বলেছিলাম যে, আমাদের যদি দেশে মাঠটা ভালো থাকে, তাহলে আমরা ভালোভাবে প্র্যাকটিস করতে পারব, আমাদের জন্য সুবিধা হবে। আমাদের দেশে একটা ভালো মাঠ দরকার। সেটা যদি খুব তাড়াতাড়ি করা হয়, তাহলে দেশের ফুটবল আরও উন্নতি হবে।