Published : 21 May 2026, 04:53 PM
মেজর টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের স্বাদ কেমন, বোধহয় ভুলেই গিয়েছিল অ্যাস্টন ভিলা। অবশেষে তাদের দীর্ঘ তিন দশকের অপেক্ষার অবসান হয়েছে। ঘরে তুলেছে ইউরোপা লিগ ট্রফি। দাপুটে পারফরম্যান্সে অর্জিত এই সাফল্যে ইংলিশ ক্লাবটির কোচ, খেলোয়াড়, সমর্থকদের যেন খুশির শেষ নেই।
ফাইনালে বুধবার জার্মান ক্লাব ফ্রেইবুর্ককে উড়িয়ে দেয় ভিলা। একপেশে লড়াইয়ে ৩-০ গোলে জিতে শিরোপা জয়ের উল্লাসে মাতে উনাই এমেরির দল।
ভিলা সবশেষ শিরোপা জিতেছিল ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে, ইংলিশ লিগ কাপ। ৪৪ বছর ধরে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার কোনো শিরোপা জিততে পারছিল না তারা। সবশেষ সেই ১৯৮১-৮২ মৌসুমে, ওই সময়ের ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল ক্লাবটি। এবার এক সঙ্গে দুটি খরাই কাটাল তারা।
যার ছোঁয়ায় এই সাফল্য পেয়েছে ভিলা, সেই কোচ এমেরির এটি পঞ্চম ইউরোপা লিগ জয়। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের দ্বিতীয় সেরা এই প্রতিযোগিতায় কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জয়ের রেকর্ড আগে থেকেই তার। এবার সেটিকে আরও সমৃদ্ধ করলেন তিনি।
সেভিয়ার হয়ে টানা তিনবার (২০১৪, ২০১৫, ২০১৬) ইউরোপা লিগ জেতেন তিনি। এরপর ২০২১ সালে একই স্বাদ পান আরেক স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারেয়ালের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে। এবার ইংলিশ ক্লাবের হয়ে ট্রফিটি জিতলেন এই স্প্যানিয়ার্ড।
প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে ছয়বার উঠে পাঁচবার শিরোপা জেতা ৫৪ বছর বয়সী এমেরি ম্যাচ শেষে টিএনটি-কে বললেন, এই সাফল্যে ফুটে উঠছে তার দলের ধারাবাহিক উন্নতি।
“আমরা কেমন উন্নতি করছি, এই ফাইনাল সেটার প্রমাণ। ইউরোপ আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে।”
প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ভিলা। ইউরি টিয়েলেমান্স দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, ব্যবধান বাড়ান এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। পরে তৃতীয় গোলটি করেন মর্গ্যান রজার্স।
ম্যাচে যখন একের পর এক গোল আসছিল, তখন বার্মিংহাম থেকে ইস্তানবুলে যাওয়া হাজার হাজার সমর্থক পুরো স্টেডিয়াম মুখরিত করে তোলেন। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন ভিলার বিখ্যাত সমর্থক, প্রিন্স উইলিয়াম। দলের এই জয়ে আনন্দে আত্মহারা ছিলেন তিনিও। পরে ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন ব্রিটিশ যুবরাজ।
“অসাধারণ একটি রাত! সব খেলোয়াড়, দল, স্টাফ ও ক্লাবের সঙ্গে জড়িত সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন। সবশেষ ইউরোপিয়ান ট্রফির স্বাদ পাওয়ার ৪৪ বছর পর আবারও সেই সাফল্য। এই কোচের দায়িত্বে যেকোনো কিছু সম্ভব।”
২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছিল অ্যাস্টন ভিলা। ওই কঠিন সময়ে দলটির পাশে থাকা থাকা সমর্থকদের এই জয় উৎসর্গ করেন ভিলার অধিনায়ক জন ম্যাকগিন। এই সাফল্যের প্রতিটি মুহূর্ত সারাজীবন হৃদয়ে লালন করবেন, বললেন স্কটিশ ফুটবলার।
“সত্যি বলতে আমার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না, ক্লাব হিসেবে আমরা কিসের মধ্য দিয়েই না গিয়েছি। সাত বছর আগেও এই ক্লাব খারাপ অবস্থায় ছিল। আজ রাতে আমাদের সব পরিশ্রমের ফল একসঙ্গে ধরা দিয়েছে। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে যখন স্কোরলাইন ৩-০, তখন আমরাই ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছি ভেবে যে গর্ববোধ হচ্ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়... এটা স্পেশাল, এর প্রতিটি মুহূর্ত আজীবন মনে রাখব।”
ইংলিশ ফরোয়ার্ড রজার্স বললেন, এই সাফল্য পেতে মরিয়া হয়ে ছিলেন তারা।
“এই দিনটির জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। জানতাম, নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার জন্য আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি এবং সবাই মাঠে সেরাটা দিয়েছি ও আমরা সফল হয়েছি। ক্লাব ও সমর্থকদের জন্য এটা দুর্দান্ত এক মুহূর্ত, আমরা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকব।”