স্প্যানিশ ফুটবল
Published : 09 Feb 2025, 12:50 PM
রেফারিং নিয়ে চলমান নানা বিতর্কের কারণেই হয়তো, শুরুতে ব্যাপারটি এড়িয়ে যেতে চাইলেন কার্লো আনচেলত্তি। তবে ছাইচাপা আগুন একটা পর্যায়ে বেরিয়েই এলো। রেয়াল মাদ্রিদের কোচ বললেন, ফুটবলের লোকেরাই বুঝে উঠতে পারছেন না পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি। প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমেওনের মতে, রেফারি সম্ভাব্য সেরা পথেই পরিস্থিতি সামলেছেন।
লা লিগায় মাদ্রিদ ডার্বিতে শনিবার ৩৫তম মিনিটে ওই পেনাল্টি গোলেই এগিয়ে যায় আতলেতিকো। পরে দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরান কিলিয়ান এমবাপে। ১-১ গোলে শেষ হয় ম্যাচ।
ম্যাচের ৩১তম মিটিয়ে রেয়ালের বক্সে অহেলিয়া চুয়ামেনির বাড়ানো পা গিয়ে লাগে সামুয়েল লিনোর পায়ের অগ্রভাগে। তবে বল সরে গিয়েছিল আগেই। রেফারি বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানান। আনচেলত্তির চোখেমুখে তখনই ছিল অবিশ্বাসের ছাপ। বাঁকা হাসিও খেলে যায় তার ঠোঁটে। ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন, এটা পেনাল্টি হতে পারে না। হুলিয়ান আলভারেসের পেনাল্টিতে আতলেতিকো এগিয়ে যাওয়ার পর ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন, “বলতেই হবে ম্যাচের প্রথম গোলটি বিতর্কিত।”
দ্বিতীয়ার্ধে রেয়াল দাপুটে ফুটবল খেললেও একটির বেশি গোল আদায় করতে পারেনি। পয়েন্টও তাই পেয়েছে একটিই।
সাম্প্রতিক সময়ে রেফারিং নিয়ে রেয়াল মাদ্রিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্পেনের ফুটবলে এমনিতেই বেশ বিতর্ক চলছে। আগের ম্যাচে এস্পানিওলের কাছে হারার পর রেফারিং নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও করেছে স্পেনের সফলতম দলটি। এটির জবাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় আতলেতিকো বলেছে, রেফারিদের চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে রেয়াল।
ম্যাচের পর বিতর্কিত ওই পেনাল্টি নিয়ে প্রশ্নে আনচেলত্তি শুরুতে বললেন, “এটির উত্তর দেব না..।” তবে পরে আরেক দফায় প্রশ্নে ঠিকই রেফারির দিকে আঙুল তুললেন কোচ।

“ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজানো হয়েছে। ঘটনার সময় রেফারি খুব কাছেই ছিল এবং এটি পরিষ্কার দেখেছে। আথলেতিক-জিরোনা ম্যাচেও আরেকটি পেনাল্টি দেখেছি আমি… ফুটবলের লোকেরাই এসব বুঝতে পারছে না।”
সিমেওনের অবশ্য বুঝতে সমস্যা হয়নি। তার বরং দাবি, তাদের মিডফিল্ডার পাবলো বাররিওসকে করা ফাউলের জন্য রেয়ালের দানি সেবায়োস লাল কার্ড পেতে পারতেন। সার্বিকভাবে রেফারির ওপর সন্তুষ্টই আতলেতিকো কোচ।
“আমার মনে হয়, রেফারি সম্ভাব্য সেরা উপায়েই পরিস্থিতি সামলেছেন। কারও কারও মতে তো, সেবায়োসের সরাসরি লাল কার্ড প্রাপ্য ছিল… অন্তত ভিএআর দেখতে পারতেন রেফারি… তবে অনেকে এখানেও দ্বিমত করবেন…।”
“তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এটি তার সিদ্ধান্তেরই ব্যাপার। দিনশেষে, আমার মতে সব মিলিয়ে তিনি ভালোভাবেই সবকিছু সামলেছেন।”
ম্যাচের আগে আনচেলত্তি বলেছিলেন, তার দলে এখন জরুরি অবস্থা চলছে। দানি কার্ভাহাল, ডাভিড আলাবা ও এদের মিলিতাও তো আগে থেকেই ছিলেন না। সম্প্রতি চোটে পড়েছেন আন্টোনিও রুডিগারও। রক্ষণভাগের মূল চার ফুটবলারকে ছাড়া রক্ষণভাগ চলছে কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে। এই সুযোগে গত কিছুদিনে নজরকাড়া তরুণ রাউল আসেন্সিও অবশ্য দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন এই ম্যাচেও। রেয়ালের এক পয়েন্ট পাওয়ায় বড় ভূমিকা আছে তার।
সব মিলিয়ে ম্যাচের ফলে খুব অখুশি নন রেয়াল কোচ। তবে পেনাল্টির কথা বললেন আবারও।
“আমার মনে হয়, আরও বেশি প্রাপ্য ছিল আমাদের। ম্যাচ আমাদের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণে ছিল, বক্সে ঢুকতে পেরেছি আমরা, দ্বিতীয়ার্ধে আমরা খুবই ভালো খেলেছি।”
“প্রথমার্ধ যদিও পুরোপুরি ভিন্ন ছিল। অনেক মন্থর ও কম আগ্রাসী ছিলাম আমরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা যেমন করেছি, তাতে ভালো অনুভূতি নিয়েই মাঠ ছেড়েছি। তবে পেনাল্টির প্রভাব অবশ্যই পড়েছে দলে।”
আগের ম্যাচে হার ও এই ড্রয়ের পরও ৫০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রেয়াল মাদ্রিদ। এক পয়েন্ট পেছনে আতলেতিকো। এক ম্যাচ কম খেলে ৪৫ পয়েন্ট পাওয়া বার্সেলোনার সুযোগ আছে রোববার ব্যবধান কমিয়ে নেওয়ার।