চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
Published : 26 Feb 2026, 04:01 AM
আগের ব্যবধান মুছে দিতে বেশি সময় নিল না বেনফিকা। তবে, রেয়াল মাদ্রিদও পাল্টা জবাবে লিড পুনরুদ্ধার করল দুই মিনিটের মধ্যে। জমে উঠল লড়াই। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের শেষ দিকে আবার ব্যবধান গড়ে দিলেন ভিনিসিউস জুনিয়র। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর টিকেট কাটল মাদ্রিদের দলটি।
সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে বুধবার রাতে প্লে-অফের ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতে, দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে পরের ধাপে উঠল আলভারো আরবেলোয়ার দল।
ম্যাচে রাফা সিলভার গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, অহেলিয়া চুয়ামেনির নৈপুণ্যে সমতায় ফিরেছিল রেয়াল মাদ্রিদ। আর পরে সব অনিশ্চয়তার ইতি টানেন ভিনিসিউস।
প্রথম লেগে ভিনিসিউসের একমাত্র গোলেই জিতেছিল রেয়াল।
এক গোলের ব্যবধান যে বড় কিছু নয়, তা ম্যাচের শুরুতেই বুঝিয়ে দেয় বেনফিকা। আক্রমণাত্মক শুরু করে চতুর্দশ মিনিটেই দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইনে সমতা টানে তারা।
গোলটি অবশ্য হতে পারতো আত্মঘাতী। ডান দিক থেকে পাভলিদিসের পাস তার সতীর্থদের কাছে যাওয়া আটকাতে স্লাইড করেন রাউল আসেন্সিও, কিন্তু বল তার পায়ে লেগে চলে যাচ্ছিল জালে, ক্ষিপ্রতায় পা বাড়িয়ে কোনোমতে সেটা আটকান থিবো কোর্তোয়া।
কিন্তু ফিরতি বল গোলমুখে পেয়ে টোকায় জালে পাঠিয়ে দেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড রাফা সিলভা।
পুনরায় খেলা শুরু হতেই পাল্টা আক্রমণে দারুণ নৈপুণ্যে সমতা টানেন চুয়ামেনি। ফেদে ভালভের্দের পাস ডি-বক্সের মুখে পেয়ে, একটু বাঁকানো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ফরাসি মিডফিল্ডার।
ম্যাচে সমতায় ফিরে, দুই লেগ মিলিয়ে আবার এগিয়ে যায় প্রতিযোগিতার রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা।
গোল পেয়ে আক্রমণে জোর দেয় রেয়াল। ৩২তম মিনিটে হেডে বল জালেও পাঠান আর্দা গিলের; কিন্তু ব্যবধান বাড়েনি তাদের। অফসাইডে ছিলেন গন্সালো গার্সিয়া।
৩৮তম মিনিটে কোর্তোয়ার দারুণ সেভে এগিয়ে থাকে রেয়াল। কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার রিয়োসের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ভালভের্দে। ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে ফাঁকায় পেলেও, ঠিকমতো শটই নিতে পারেননি উরুগুয়ের মিডফিল্ডার।
ছয় মিনিট পর আবার দারুণ সুযোগ পায় রেয়াল। তবে অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের কোনাকুনি শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৬০তম মিনিটে উল্টো বেঁচে যায় তারা; রাফা সিলভার শটে বল আসেন্সিওর পায়ে লেগে আরেকটু ওপরে উঠে ক্রসবারে বাধা পায়।
তবে ম্যাচটা আসেন্সিওর জন্য শেষ পর্যন্ত ভীষণ বাজেভাবেই শেষ হয়। বল দখলে নিতে উপরে লাফিয়ে উঠে বেকায়দা পড়ে প্রচণ্ড আঘাত পান তিনি। মাঠে বেশ কিছুক্ষণ চিকিৎসা দেওয়া হয়, কিন্তু উঠে দাঁড়াতে পারেননি এই স্প্যানিশ সেন্টার-ব্যাক। মাঠ ছাড়েন স্ট্রেচারে করে।
পুনরায় ম্যাচ শুরুর একটু পরেই দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন দারুণ ছন্দে থাকা ভিনিসিউস। মাঝমাঠ থেকে ভালভের্দের থ্রু পাস ধরে, ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জালের দেখা পেলেন ভিনিসিউস, সবশেষ ১১ ম্যাচে করলেন আট গোল।
ইনজুরি টাইম যোগ হয় ৯ মিনিট; কিন্তু বেনফিকা পারেনি আর কোনো নাটকীয়তার জন্ম দিতে।
আরও পড়ুন
আগের ২ গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে রোমাঞ্চকর জয়ে শেষ ষোলোয় আতালান্তা