Published : 04 Jul 2026, 03:06 PM
সব ধরনের বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই সভ্যতার সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বর্তমান বিশ্ব এক গভীর ও বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক পরিচয়কে ঘিরে সৃষ্ট নানা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান আধিপত্যে নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্যেই নিহিত।
“মানবসভ্যতার টেকসই অগ্রযাত্রার জন্য বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভিন্ন মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।”
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট ও ‘আল উম্মাহ জার্নাল’—এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান অস্থিরতা ও বিভাজনের প্রেক্ষাপটে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।”
বিভিন্ন দর্শন, মতাদর্শ ও চিন্তার মানুষের জন্য একটি উন্মুক্ত বুদ্ধিবিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এ উদ্যোগ সভ্যতার চলমান সংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “ভাষা, জাতিসত্তা, ধর্মীয় পরিচয়, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থান মানবসভ্যতার স্বাভাবিক বৈচিত্র্যের অংশ। ফলে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, জাতি বা মতাদর্শের পক্ষে সমগ্র বিশ্বে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি তা মানবসভ্যতার কল্যাণও বয়ে আনতে পারে না।”
বর্তমান বিশ্বের বহু সংঘাত পরিচয়ের সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কখনো জাতিগত, কখনো ধর্মীয়, কখনো ভাষাগত কিংবা সাংস্কৃতিক বিভাজন সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“এসব সংকট উত্তরণে গবেষক, চিন্তাবিদ ও বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতিনিধিদের একটি অভিন্ন মানবিক অবস্থান গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াই হবে প্রধান ভিত্তি।”
তিনি বলেন, “ইতিহাস প্রমাণ করে, যুদ্ধ, শক্তির প্রদর্শন কিংবা আধিপত্য কখনো সভ্যতার স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। বরং মুক্ত চিন্তার বিনিময়, জ্ঞানচর্চা ও পারস্পরিক সম্মানই মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিয়েছে।”
সরকারের পক্ষ থেকে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতি—শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে।
“আমরা এমন একটি পৃথিবী চাই, যেখানে সব জাতি, ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি নিজ নিজ মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং মানবসভ্যতার সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে অংশীদার হবে।”
তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “সেখানে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে ইসলামের প্রকৃত শক্তি কেবল আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচারে নয়; বরং এর মানবিক চেতনা, নৈতিক মূল্যবোধ ও আত্মিক দর্শনের মধ্যেই নিহিত।”
আল উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও চিন্তার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, জ্ঞানচর্চা এবং সভ্যতার সংলাপকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করবেন।
অনুষ্ঠানে তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান প্রফেসর ইয়াসিন আকতে বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।