১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চকবাজারের আগুন দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

“চক মোগলটুলী এলাকার হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Jul 2026, 05:29 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:34 PM

পুরান ঢাকার চকবাজারের একটি মার্কেটে লাগা আগুন দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

শনিবার বেলা পৌনে ২টার দিকে চক মোগলটুলী এলাকার বহুতল হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে।

পরে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা সোয়া ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “চক মোগলটুলী এলাকার হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। পরে সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশন থেকে আরো চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়।”

এখন পর্যন্ত কোন হতাহতের ঘটনা নেই বলেও জানান তিনি।

তবে প্রাথমিকভাবে আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দিতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, “আগুনের খবর পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দুইটা ইউনিট পাঠানো হয়। লালবাগ ফায়ার স্টেশনের এই ইউনিটগুলো পৌঁছে দেখে প্রচণ্ড ধোয়া। আগুনের ভয়াবহতার কারণে আরো চারটা ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠাই।

“আটতলা ভবনের মাত্র একটা সিঁড়ি এবং সিঁড়ির মাত্র দৈর্ঘ্য দুই ফিট। তৃতীয় তলার একবারে সামনে যে রুমটা ছিল, ওই রুমে আগুন ছিল। আমাদের ফায়ার ফাইটাররা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আগুনটাকে নির্বাপন করার চেষ্টা করে এবং তৃতীয় তলার গুদামের শাটারগুলো ছিল তালাবদ্ধ অবস্থায়। এই তালাগুলো আমাদেরকে খুলতে হয়েছে।”

গুদামগুলোর তালা ভেঙে রুম ভর্তি প্লাস্টিকের ছাতা ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স মালামাল পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই মালামালগুলো সরাতে হবে, সরাতে অনেক সময় লাগবে। যার কারণে আগুনটা নির্বাপন করতে অনেক সময় লাগবে।”

ফায়ার সার্ভিসের ‘সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে’ আশেপাশের পাইকারি মার্কেট আশিক টাওয়ার ও খাজা টাওয়ারে আগুন ছড়াতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, “আগুনের ক্ষতি এবং উদ্ধার এই বিষয়ে এখনো বলা যাচ্ছে না। কারণ আমাদের আগুন নির্বাপন কার্যক্রমে চলমান রয়েছে। আগুনের কারণ জানতে আমাদের একটা কমিটি গঠন হবে, তারপরে আমরা বলতে পারব।”

এক প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, “পুরান ঢাকায় ঐতিহ্যবাহী একটা জায়গা চকবাজার। এখানে দীর্ঘদিন আগে বিল্ডিংগুলো হয়ে গেছে এবং এই বিল্ডিং যে অবস্থায় হইছে সে অবস্থায় অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা খুবই কম। ফায়ার সার্ভিস থেকে সেফটি প্ল্যান খুবই কম বিল্ডিংয়ের আছে। এই বিল্ডিংগুলোকে ভবিষ্যতের জন্য আস্তে আস্তে ফায়ার সার্ভিস থেকে ‘সেফটি প্ল্যান’ গ্রহণ করতে হবে। যেমন খাজা টাওয়ারে মাত্র একটা সিঁড়ি। এই সিঁড়ি দিয়ে আমাদের একজন লোক গেলে পরে আরেকজন লোক যাওয়া যাচ্ছিল না। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমরা অগ্নিনির্বাপন করছি এবং বাস্তব ক্ষেত্রে পুরান ঢাকা অত্যন্ত যুকিপূর্ণ।”

আগুন লাগা ভবনের অসঙ্গতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অসঙ্গতি বলতে কোনো অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ছিল না এবং রাস্তায় ‘এক্সিটের’ সমস্যা ছিল। বিশেষ করে যখন আমরা অগ্নিনির্বাপন করতে আসছি আপনারা জানেন যে, এই এলাকায় মানুষ সঠিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারে না যানজটের কারণে। যার কারণে আমাদের সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হয়েছে। ভিড় ছিল অনেক বেশি, আমরা যে গাড়ি নিয়ে দ্রুত প্রবেশ করব সেই রাস্তাঘাটগুলো পরিষ্কার ছিল না এবং আমাদের একটু সময় লাগছে আসতে।”