Published : 18 Feb 2026, 08:51 PM
দুই মৌসুম আগে নাপোলির ঐতিহাসিক লিগ শিরোপা জয়ের নায়ক ছিলেন ভিক্টর ওসিমেন; কিন্তু বছর ঘুরতেই ক্লাবের রোষানলে পড়েন তিনি। সমর্থকদের ভালোবাসাও হারিয়ে ফেলেন নিমিষে। ক্যারিয়ারের সেই অসহনীয় সময়ের কথা আড়াই বছর পর এসে খোলাসা করলেন নাইজেরিয়ান তারকা। যে ক্লাবকে স্বপ্নের চূড়ায় তুলেছিলেন, সেই ক্লাবের কর্তাদেরই এবার কাঠগড়ায় তুললেন ওসিমেন।
৩৩ বছর পর, ২০২২-২৩ মৌসুমে সেরি আ চ্যাম্পিয়ন হয় নাপোলি, এতে বড় ভূমিকা ছিল ওসিমেনের। ইতালিয়ান শীর্ষ লিগের ওই আসরে ৩২ ম্যাচে ২৬ গোল করেন তিনি। ২০২৩ সালে আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবলারও নির্বাচিত হন ওসিমেন।
কিন্তু চমক জাগানো ওই সাফল্যের বছর পার হতেই তাকে ঘিরে নাপোলিতে সবকিছু বদলে যায়। দুই পক্ষের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে, স্কোয়াড থেকেও তাকে ছেটে ফেলা হয়। তখন তার ইউভেন্তুসে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, নাপোলি সেটা হতে দেয়নি বলেও অভিযোগ ওসিমেনের।
পরে তিনি তুরস্কের ফুটবল ইতিহাসের রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে যোগ দেন গালাতাসারাইয়ে। সেই দলের হয়েই মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে-অফের প্রথম লেগে ইউভেন্তুসকে ৫-২ গোলে গুঁড়িয়ে দেন ওসিমেন ও তার সতীর্থরা।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নাপোলির সঙ্গে নতুন চুক্তিও করেন ওসিমেন। ওই চুক্তি অনুযায়ীই, তার সঙ্গে নাকি ক্লাবটির মৌখিক সমঝোতা হয়েছিল যে পরের গ্রীষ্মে ইচ্ছা করলে ক্লাব ছাড়তে পারবেন তিনি। কিন্তু সেটা শর্ত পরে আর নাপোলি মানেনি বলে অভিযোগ ২৭ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের।
গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহের বিস্তারিত জানিয়েছেন ওসিমেন।
“আমাদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটা (মৌখিক) চুক্তি হয়েছিল যে, আমি ইচ্ছা করলে পরের গ্রীষ্মে অন্য ক্লাবে চলে যেতে পারব। কিন্তু ওই প্রতিশ্রুতি অন্য পক্ষ থেকে আরও রক্ষা করা হয়নি।”
“তারা আমাকে যেকোনো জায়গায় খেলতে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। তারা আমাকে একটা কুকুরের মতো ট্রিট করত। এখানে যাও, ওখানে যাও, এটা করো, ওটা করো। আমার ক্যারিয়ার গড়তে আমি অনেক কষ্ট করেছি এবং ওই ধরনের আচরণ আমি মেনে নিতে পারিনি। আমি কারো খেলার পুতুল নই।”
ওসিমেনের সঙ্গে নাপোলির ভেঙে পড়া সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে যখন, বোলোনিয়ার বিপক্ষে তিনি একটি পেনাল্টি মিস করার পর প্রকাশ্যে তাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করে ক্লাবটি।
নাপোলির টিকটকে ওই ভিডিও প্রচার করা হলে ফুটবল তুমুল সমালোচনার জন্ম দেয়।
ওসিমেনের মতে, ওটাই ছিল নাপোলির সঙ্গে তার সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়ার টার্নিং পয়েন্ট।
“(নাপোলি) সমর্থকদের জন্য আমার কষ্ট হয়। একারণেও খারাপ লাগে যে, তখন কী হয়েছিল-সেই বিষয়ে আগে কখনও আমি কিছু বলিনি। কয়েকজন (সমর্থক) তো এমনকি আমার বাড়িতেও এসেছিল, ব্যাখ্যা শুনতে চেয়েছিল তারা। আমি তাদের বলেছিলাম, আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখুন। নাপোলি টিকটকে ওই ভিডিও প্রকাশের পর, কিছু একটা ভেঙে পড়েছিল।”
“যে কেউ পেনাল্টি মিস করতে পারে এবং এর জন্য যে কেউ উপহাসের পাত্র হতে পারে। কিন্তু (ক্লাব হয়েও) নাপোলি কেবল আমার সঙ্গেই এমনটা করেছিল এবং সঙ্গে কিছু খারাপ ইঙ্গিতও। আমি বর্ণবাদী অপমানের শিকার ছিলাম এবং তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।”
ওই ঘটনার পর আর নাপোলিতে থাকার কোনো যুক্তি খুঁজে পাননি ওসিমেন। চলে যেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তিনি।
“আমি চলে যেতে চেয়েছিলাম। আমার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে আমি নাপোলির জার্সি পরা ছবি মুছে ফেলেছিলাম এবং সেটাকে তারা আমার বিরুদ্ধে ক্লাবের সমর্থকদের দাঁড় করাতে কাজে লাগিয়েছিল। কিন্তু আমার মনে হয়, আমার মেয়ে যতটা না নাইজেরিয়ান, তার চেয়ে বেশি নিয়াপলিটান।”
ওই ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় চারিদিকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হলেও, নাপোলির পক্ষ থেকে কখনও এর জন্য দুঃখপ্রকাশও করা হয়নি।
“তখন যা কিছু হয়েছিল, এর জন্য প্রকাশ্যে কেউ কখনও ক্ষমা চায়নি। ওই বিখ্যাত ভিডিওর পর, (নাপোলির সহ-সভাপতি) এদুয়ার্দো দে লরেনতিস কেবল কয়েকবার ফোন করেছিলেন। এই তো।”
“সেই সময়, আরও গুজব ছড়াতে থাকে যে আমি দেরিতে অনুশীলনে গিয়েছিলাম এবং সমর্থদের সঙ্গে তর্ক করেছিলাম। সবকিছুই মিথ্যা। সমর্থকদের জন্য আমি দুঃখিত, কিন্তু আমি (তাদের আবেগ) বুঝি এবং তাদেরকে সম্মান করি। যা কিছুই হোক না কেন, তারা ক্লাবকে সমর্থন করে। তাদের কাছে, সবকিছুর ওপরে নাপোলি।”
ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে পড়লে ইউভেন্তুসে যোগ দিতে চেয়েছিলেন ওসিমেন। তুরিনের ক্লাবটিও তাকে পেয়ে বেশ চেষ্টা করেছিল; কিন্তু নাপোলি সেটা হতে দেয়নি বলে অভিযোগ এই তারকা ফুটবলারের।
“সেরি আর আরও দুটি বড় ক্লাবেও আমি যোগ দিতে পারতাম। গালাতাসারাইয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরুর আগে জিওনতোলি (ওই সময়ের ইউভেন্তুসের ক্রীড়া পরিচালক) আমাকে ফোন করেছিলেন ইউভেন্তুসে নেওয়ার জন্য। ক্লাবে আমিও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম।”
“তারা আগ্রহও দেখিয়েছিল; কিন্তু আমি জানতাম দে লরেনতিস আমাকে যেতে দেবে না। যাই হোক, আমার প্রতি তখন (কয়েকটি দলের) আগ্রহ ছিল।”
অনেক টানাপোড়েনের পর, ২০২৪-২৫ মৌসুম ধারে গালাতাসারাইয়ে খেলেন ওসিমেন। এরপর ২০২৫ সালের অগাস্টে তাকে সাড়ে সাত কোটি ইউরো দিয়ে পাকাপাকিভাবে চুক্তিভুক্ত করে ক্লাবটি।