এশিয়ান কাপ বাছাই
গ্রামের বাড়িতে আসছেন হামজা চৌধুরী, তারকা এই ফুটবলারকে বরণ করে নিতে সর্বত্র উৎসবের আমেজ।
Published : 16 Mar 2025, 10:08 PM
ইংলিশ ফুটবলে নিজেকে প্রমাণ করে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছে। তবে হামজা চৌধুরীর এবারের ফেরা একটু ভিন্ন। এবার যে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে খেলবেন। হবিগঞ্জের সর্বত্র তাই বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
শেফিল্ড ইউনাইটেডে ধারে খেলা হামজার বাংলাদেশ দলে ডাক পাওয়ার পর থেকেই অপেক্ষার ক্ষণ গোনা শুরু সমর্থক, গ্রামবাসীদের। সে অপেক্ষা ফুরানোর দুয়ারে। সোমবার তিনি পৌঁছবেন সিলেটে। সেখান থেকে তিনি যাবেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট গ্রামে; নিজ বাড়িতে।
হামজার আগমনকে ঘিরে স্নানঘাটসহ পুরো জেলায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সাজ সাজ রব পড়েছে তার নিজ গ্রামেও। হামজাকে অভিনন্দন বার্তা জানিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা।
এই উৎসব, আমেজের আবহের মধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কাও আছে। হামজা তার স্ত্রী, তিন সন্তান এবং মাকে সাথে নিয়ে আসছেন। বাবা দেওয়ান মুর্শেদ চৌধুরী চলে এসেছেন আগেই।
ছোট বেলা থেকেই বাংলাদেশের প্রতি অন্যরকম টান ছিল হামজার। ছেলেকে দেশের জার্সিতে খেলতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন বাবা। তার স্বপ্ন পূরণ এখন স্রেফ সময়ের ব্যাপার। অনাকাঙিক্ষত কিছু না ঘটলে আগামী ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে নামবেন হামজা।
মা-বাবার সাথে গ্রামে এর আগেও হামজা এসেছেন কয়েকবার। এবার আসছেন প্রায় ১১ বছর পর। তার পরিবার জানিয়েছে, গ্রামের বাড়িতে একদিন থাকবেন হামজা। সোমবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তার। আর ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচ খেলতে ২০ মার্চ দলের সাথে শিলংয়ের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবেন তিনি।
এবার হামজা ঘুরতে নয়, দেশের হয়ে খেলতে আসছেন। স্বাভাবিকভাবে তার ফিটনেসসহ অনান্য দিকেও বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ভাত ও গরুর মাংস, সবজি হামজার প্রিয় খাবার। হামজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। ফলে, ঘরের ছেলের সাথে মন খুলে কথা বলার সুযোগ নাও মিলতে পারে অনেকের।
এসব নিয়ে অবশ্য খুব একটা ভাবছেন না এলাকার সন্তান সফর আলী। স্নানঘাটের ছেলে জাতীয় দলের হয়ে খেলবে, এটা ভেবেই গর্বে বুক ভরে যাচ্ছে তার।
“আমাদের গ্রামের সন্তান দেশের জার্সি গায়ে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে, এটা আমাদের জন্য গৌরবের। তার আগমনকে ঘিরে আমরা উচ্ছ্বসিত। আমরা, বিশেষ করে তরুণরা তাকে এক নজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছে।”
“হামজা যখন ছোট থাকতে বাড়িতে আসত তখন আমি নিজেও তার সাথে ফুটবল খেলেছি। ফুটবলের প্রতি ছোট বেলা থেকেই তার টান ছিল।”
এলাকার আরেক জন- আব্দুল আজিজ বড় স্বপ্ন দেখছেন ঘরের ছেলেকে নিয়ে, “হামজা আমাদের ছেলে। আমরা চাই, সে দেশের হয়ে লাল সবুজের পতাকা বিশ্ব দরবারে উঁচিয়ে ধরুক। হামজা আসার পর আমরা তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করেছি।”
ছেলের আগমন নিয়ে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস ছুঁয়ে যাচ্ছে বাবা মোর্শেদকে। তার মনে হচ্ছে, আরও বেশি প্রবাসী ফুটবলার লাল-সবুজের জার্সি গায়ে তুললে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বকাপের মঞ্চে ওঠা অসম্ভব নয় মোটেও।
“যদি হামজার মতো আরও খেলোয়াড় দেশের হয়ে খেলতে আসে এবং ট্রেনিংসহ পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা পায়, তাহলে আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা থাকবে। ভারতের বিপক্ষে খেলায় যেন দেশের হয়ে হামজা ভালো কিছু করতে পারে, সে জন্য সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।”