নারী ফুটবল
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ হারলেও কোচ আশাবাদী, এই দলের হাত ধরে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের নারী ফুটবল।
Published : 03 Mar 2025, 10:11 AM
দুই ম্যাচেই সঙ্গী হারের হতাশা। স্কোরলাইন দুই ম্যাচে একই, ৩-১। তবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার জেমস বাটলার বরাবরের মতোই ফলের দিকে তাকালেন না। হারের হতাশা না আওড়ে শোনালেন আশাবাদ। বললেন, নতুন দলের উন্নতির দিকগুলোই প্রাধান্য পাচ্ছে তার কাছে।
উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের চার মাস পর আন্তর্জাতিক আঙিনায় ফিরেছে বাংলাদেশ। ১৮ জনের ‘বিদ্রোহ’র পর নতুনদের নিয়ে সাজানো দল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে পারেনি হার এড়াতে।
এই দলের ব্যর্থতায় ‘অনেকে হাসবে, রসিকতা করবে’, এমন কথা প্রথম ম্যাচের পর বলেছিলেন বাটলার। শুনিয়েছিলেন দল নিয়ে আশাবাদ। রোববার দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর একই সুর এই ইংলিশ কোচের কণ্ঠে।
“এই সফর নিয়ে যদি বলি, এই সপ্তাহ নিয়ে আমি খুবই গর্বিত। ফুটবলের সাথে আমি দীর্ঘদিন আছি। জিততে হবে, জিততে হবে- আমি এই মানসিকতার নই। আমার ভাবনায় উন্নতি।”
“এই সপ্তাহে আমরা সেটা পেয়েছি, সেই মানসিকতা দেখেছি (মেয়েদের মধ্যে)। যখন আমরা এই মানসিকতার সাথে মানিয়ে নিতে পারব যে, আসুন ধৈর্য্য ধরি, উন্নতি করি, নতুন ভবিষ্যৎ সাজাই, তখন বাংলাদেশের (নারী) ফুটবল এই মেয়েদের হাত ধরে বেড়ে উঠবে।”
বিদ্রোহীরা আরব আমিরাত সফরে না থাকায় আক্রমণভাগে ছিলেন না সাবিনা খাতুন, ঋতুপর্ণা চাকমা, তহুরা খাতুনদের মতো অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিতরা। এদের অনুপস্থিতিতে জ্বলে উঠতে পারেননি শাহেদা আক্তার রিপা, আইরিন খাতুন, সুরভী আকন্দ প্রীতিরা। আক্রমণভাগের কেউই এই সফরে জালের দেখা পাননি।
বাটলার অবশ্য নতুনদের মধ্যে দারুণ সম্ভাবনা দেখছেন। সফরের প্রাপ্তি নিয়ে বলতে গিয়ে দুই দলের তুলনাও টেনেছেন এই ইংলিশ কোচ।
“আজকের ম্যাচে আমি অনেক পরিবর্তন করেছি। মেয়েদের খেলার সুযোগ দিয়েছি এবং এই তরুণীরা ভীষণ ইতিবাচক এবং দারুণ ফুটবল খেলেছে। তারা দারুণ মানসিকতা দেখিয়েছে।”
“দেখুন, আমরা সেই দলের সাথে (এখনই) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব না, যাদের ২৩ জনের মধ্যে ১০-১২ জনই বিদেশি খেলোয়াড়, আমরা তাদের সুযোগ-সুবিধার সাথে লড়তে পারব না, আমরা তাদের সাথে লড়তে পারি উদ্দীপনা ও সাহস দিয়ে। সেখানে এই মেয়েদের নিয়ে আমি গর্বিত।”
দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে মেঘলা, হালিমা, নবিরুনদের মতো নতুনদের খেলার সুযোগ দিয়েছিলেন বাটলার। তাদের পারফরম্যান্স ইতিবাচক চোখেই দেখছেন তিনি।
“মেঘলা, হালিমা, নবিরুন খেলেছে। পাঁচ বদলির সুযোগ ছিল, ফলে আরও অনেককে খেলার সুযোগ দিতে পারিনি আমি। তবে তারা যে নিবেদন, মানসিকতা এই সপ্তাহে দেখিয়েছে, আমি মেয়েদের নিয়ে সত্যিই খুশি। আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।”