Published : 24 May 2026, 09:37 AM
ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎস। জার্মানির অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বললেন, মাঠে নামতে তর সইছে না তার। লিভারপুলের এই তারকার বিশ্বাস, দেশের মানুষকে উল্লাস করার মতো কিছু উপহার দিতে পারবেন তারা।
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে খেলার পথে ছিলেন ভিয়েৎস, কিন্তু চোটের কারণে সেবার স্বপ্ন পূরণ হয়নি তার। সবচেয়ে বড় মঞ্চে এবার অভিষেকের হাতছানি ২৩ বছর বয়সী ফুটবলারের সামনে। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিয়েৎস বললেন, ছোটবেলা থেকে এই স্বপ্নই দেখে এসেছেন তিনি।
“বিশ্বকাপের চেয়ে বড় আর কিছু নেই: ছোটবেলায় এটা নিয়েই স্বপ্ন দেখতাম। এই বছরের আসরে যদি খেলার সুযোগ পাই, যা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, তাহলে সেটা হবে আমার শৈশবের স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার।”
“বিশ্বকাপে মাঠে নামার অনুভূতিটা ঠিক কেমন হতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারছি না। আপাতত আমি মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে আছি এবং আশাবাদী যে, আমরা জার্মান জনগণকে উল্লাস করার মতো কিছু উপহার দিতে পারব। বাকি সবকিছুর জন্য, আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে।”
গত বছরের জুনে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিকে লিভারপুলে যোগ দিয়ে শুরুতে সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছিলেন না ভিয়েৎস। তবে কঠিন সময় পেরিয়ে গত কয়েক মাস ধরে লিভারপুলের হয়ে নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে শুরু করেছেন তিনি।
সবশেষ আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতিতে গত মার্চে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জার্মানির ৪-৩ গোলের রোমাঞ্চকর জয়েও দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি। দুটি অসাধারণ গোল করার পাশাপাশি দলের অন্য দুটি গোলেও রাখেন অবদান। বিশ্বকাপেও তার দিকে তাকিয়ে থাকবে দল। ভিয়েৎসও জানিয়ে দিলেন তার লক্ষ্যের কথা।
“অবশ্যই দলকে ফাইনালে তুলতে, তারপর শিরোপা জেতাতে চাই। তবে সর্বোপরি আমার খেলার মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করতে ও আমার সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করতে চাই। আশা করি, দলে প্রাণশক্তি সঞ্চার করব, গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখব এবং আমাদের অনেক দূর নিয়ে যেতে সাহায্য করব।”
গত দুই বিশ্বকাপ একদমই ভালো কাটেনি চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির; ২০১৪ সালে সবশেষ শিরোপাটি জয়ের পরের দুই আসরেই তারা বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকে। প্রতিবারই তাদের নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকে অনেক বেশি, যা খেলোয়াড়দের জন্য চাপেরও। সেই চাপ কীভাবে সামলাবেন, সেটাও বললেন ভিয়েৎস।
“এটা সত্যি যে জার্মানির কাছে সাধারণত অনেক কিছু প্রত্যাশা করা হয়, কারণ আমরা চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং অনেক টুর্নামেন্টেই শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবকিছু খুব একটা ভালো যায়নি, তাই আমরা এই ধারাটা পাল্টে দিতে চাই। সেজন্য আমার ভূমিকা পালন করতে চাই এবং যেমনটা বলেছি, দলকে পথ দেখাতে ও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।”