Published : 23 Feb 2026, 09:02 PM
বিভিন্ন ফেডারেশনের সাথে বসেছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ফেডারেশনগুলোর বর্তমান কার্যক্রম, আগামী দিনের পরিকল্পনা, তাদের দাবি-দাওয়াসহ নানা বিষয় ওঠে আলোচনায়। আগামী দিনের পরিকল্পনা নির্ধারণে ফেডারেশনগুলোর কাছে গত এক বছরের কার্যক্রম, সাফল্য-ব্যর্থতার প্রতিবেদন চেয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সোমবার আলোচনার পর ফেডারেশনগুলোকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সাত দিনের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। পরে গণমাধ্যমের সামনে ক্রীড়াঙ্গণে গতিশীলতা ফেরাতে নানা পরিকল্পনা তুলে ধরেন সাবেক এই ফুটবলার।
“ফেডারেশনগুলোর সাথে আমাদের যে বৈঠক হয়েছে, বৈঠকটি অত্যন্ত ইতিবাচক। অনেক বিষয় নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি যে, আগামী দিনের বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আমরা কীভাবে একত্রিত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে পারি। কীভাবে আমরা একটি ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে আমাদের ফেডারেশনগুলোকে স্বাবলম্বী, সচ্ছল করা এবং ফেডারেশনগুলোর মাধ্যমে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে কীভাবে একটি প্ল্যাটফর্মের ভিতরে থেকে আমরা প্রত্যেকটি ইভেন্টকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
“উল্লেখযোগ্য যে, বিষয়গুলো আজকে আমাদের ফেডারেশনের সকল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আমি জানতে চেয়েছি। গত এক বছরের বাংলাদেশের ক্রীড়ার মূল্যায়ন সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে একটি রিপোর্ট চেয়েছি। এই সময়ে কোথায় সফলতা ছিল, কোথায় ব্যর্থতা ছিল এবং কী কী সুযোগ সুবিধা প্রয়োজন ছিল, কী কী সুযোগ সুবিধার অভাব ছিল—সবকিছু মিলিয়ে আমরা গত এক বছরে আমাদের প্রত্যেকটি ফেডারেশনের একটি মূল্যায়নের রিপোর্ট আগামী সাত দিনের ভিতরে পেশ করতে বলেছি।”
অনেক ফেডারেশনই নামেমাত্র কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকে। তাদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে এর আগেও আলোচনা, সমালোচনা হয়েছে ঢের। মন্ত্রণালয় এদিকেও মনোযোগ দিবে বলে জানালেন আমিনুল।
“আমাদের প্রায় ৫১টি ফেডারেশন রয়েছে। সেই ৫১টি ফেডারেশনের ভিতরে কতগুলো ফাংশন করছে, আর কারা ফাংশন করতে পারছে না বা তাদের কী কী সমস্যা রয়েছে, সেগুলো কীভাবে ফাংশন করা যায় বা যারা ফাংশন করতে পারছে না, তাদের কী সমস্যা রয়েছে, কেন করতে পারছে না, সেগুলো আমাদের ভেবে দেখতে হবে।”
“আমরা দেখেছি যে, একই ধরনের খেলা কয়েকটি ফেডারেশন রয়েছে। তো সেগুলোকে আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মার্জ করে দেওয়া যায় কি না, সেটাও আমরা আলোচনা করছি। এই বিষয়গুলো আমরা আস্তে আস্তে করে একটি একটি করে আলোচনার মাধ্যমে সেই কাজগুলো আমরা শেষ করতে চাই।”
খেলোয়াড়দের মাসিক বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কথা দায়িত্ব নেওয়ার পরই বলেছিলেন আমিনুল। ফেডারেশনগুলোর কাছে খেলোয়াড়দের তালিকাও চেয়েছেন তিনি।
“ফেডারেশনগুলোকে বলেছি, তাদের খেলোয়াড়দের যারা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে, তাদের একটি তালিকা প্রদান করবেন। সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করে আমরা কোন ক্যাটাগরিতে, কীভাবে, সরকারের পক্ষ থেকে কাদের পাশে দাঁড়াতে পারি, তাদেরকে একটি বেতন কাঠামোর ভিতরে নিয়ে আসতে পারি, সেই কর্মপরিকল্পনা আলোচনার মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ দ্রুতই শেষ করব। যাতে করে ঈদের পরেই আমরা এই সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নে যেতে পারি।”