এশিয়ান কাপ বাছাই
Published : 13 Oct 2025, 09:07 PM
বাছাইয়ে এ পর্যন্ত খেলা তিন ম্যাচে বাংলাদেশের চাওয়া এবং পাওয়ার হিসেবে বড্ড গরমিল থাকলেও একটা জায়গায় অন্ত্যমিল বেশ। প্রতিটি ম্যাচ শেষে কোচ হাভিয়ের কাবরেরা দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তুষ্টির কথা আওড়েছেন, যদিও কোনো ম্যাচেই মেলেনি প্রত্যাশিত ফল। বাংলাদেশ দল এখনও জয়হীন। হংকং চায়নার বিপক্ষে ফিরতি লেগের ম্যাচ সামনে রেখে কাবরেরা এবার বললেন, মাঠে দল যেভাবে খেলছে, তাতে জয়টা স্রেফ দেয়ালের ওপাশে। সেই দেয়ালটুকু ভেঙে তুলে আনতে হবে কাঙ্ক্ষিত জয়টি।
এই লক্ষ্যে মঙ্গলবার কাই তাক স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডের ফিরতি লেগে হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার প্রথম লেগে ৭ গোলের রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে তাদের কাছে ৪-৩ ব্যবধানে হেরেছিল কাবরেরার দল।
‘হার’-এর তেতো অভিজ্ঞতা চলতি বাছাইয়ে টানা দুইবার এরইমধ্যে হয়েছে কাবরেরার। প্রথমটি সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে, ২-১ ব্যবধানে। এরপর হংকং চায়নার বিপক্ষে। দুটি ম্যাচই ছিল ঘরের মাঠ জাতীয় স্টেডিয়ামে।
গত মার্চে শিলংয়ে ভারতের বিপক্ষে গোলশুন্য ড্রয়ে বাছাই শুরুর সেই ১ পয়েন্টই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পুঁজি। ‘সি’ গ্রুপের টেবিলে অবশ্য অবস্থান তলানিতে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাছাই পেরুনোর সম্ভাবনা কিঞ্চিৎ জোরাল করতেও হংকংয়ের বিপক্ষে ফিরতি লেগে জয়ের বিকল্প নেই দলের সামনে। কাবরেরার চাওয়া প্রথম লেগের মতো শক্তিশালী হংকংয়ের চোখে চোখ রেখে অভীষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাবে তার দল।
“আমি মনে করি এবং আমরা সবসময় আলোচনা করি, বিশেষ করে সম্প্রতি আমরা প্রায় পৌঁছে গেছি সেই দেয়ালের কাছে, যেটা ভেঙে ফেললেই আমরা পরবর্তী স্তরে পৌঁছাতে পারব। আসলে, আমরা বিশ্বাস করি আমরা ইতিমধ্যেই সেই স্তরে আছি, কিন্তু আমাদের দরকার সেই জয়টা, সেই বাধা ভেঙে ফেলা।”
“এটা আমাদের আগেও হয়েছে—ঠিক একইভাবে না হলেও—সিঙ্গাপুর বা ভারতের বিপক্ষে খেলায় আমরা দেওল ভাঙার সেই পথে ছিলাম। আর গত ম্যাচের শেষটা সত্যিই কঠিন ছিল সামলানো। তবে আমরা খেলোয়াড়দের যেভাবে বার্তা দিয়েছি, সেটা খুব স্পষ্ট- যাই হোক না কেন, আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, এগিয়ে যেতেই হবে।”
পেছানোর সুযোগ এ মুহূর্তে বাংলাদেশের একেবারেই নেই। ভারত ও সিঙ্গাপুর ম্যাচ ড্র হওয়ায় যে সুযোগ কড়া নেড়েছিল, হংকংয়ের বিপক্ষে প্রথম লেগে হেরে তা লুফে নিতে পারেনি দল। হামজা চৌধুরীর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর রক্ষণের দৃষ্টিকটু ভুলে দুটি গোল হজম এবং এরপর শেখ মোরসালিন ও শোমিত সোম সমতার স্বস্তি এনে দিলেও শেষ মুহূর্তে সাদ উদ্দিনের আরেক ভুলে ভেস্তে যায় পয়েন্ট পাওয়ার আশাটুকু। ওই ম্যাচে পোস্টে মিতুল মারমা পারেননি দুর্দান্ত কিছু করে দেখাতে। তবে ফিরতি লেগেও মিতুলেই আস্থা রাখছেন কাবরেরা।
“পারফরম্যান্সের দিক থেকে মিতুল আমার মতে শীর্ষে ছিল। আপনি কোন দিক থেকে দেখছেন, বিষয়গুলো তার ওপর নির্ভর করে। সে খুবই নির্ভরযোগ্য এবং ধারাবাহিক, বিশেষ করে বল বিল্ড-আপ বা আক্রমণে সাহায্য করার ক্ষেত্রে। পোস্টে সে সবসময় নিরাপদ দলের জন্য। আমরা মিতুলের পারফরম্যান্স এবং মান নিয়ে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী।”
“প্রথম লেগে আমরা খুব ভালো খেলেছি, সামগ্রিকভাবে খুব ভালো পারফরম্যান্স ছিল। আমরা জানতাম হংকংয়ের শক্তি, এটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে। আমরা আমাদের সেরাটা দিয়েছি, বিশেষ করে প্রথমার্ধে আমরা বলের উপর দারুণ নিয়ন্ত্রণ রেখেছিলাম। তবে তারা খুবই প্রতিযোগিতামূলক দল।”
আগের দেখায় দ্বিতীয়ার্ধে জায়ান আহমেদ, ফাহামিদুল ইসলাম, শোমিত ও জামাল বদলি নামলে বাংলাদেশের খেলায় গতি ফিরে। হারের পথে থাকা দল দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে স্কোরলাইন ৩-৩ করে। এই প্রবাসীদের শুরুর একাদশে খেলানোর দাবিও ওঠে জোরালভাবে। কাবরেরা অবশ্য ফিরতি লেগের একাদশ নিয়ে কৌশলী উত্তরই দিয়েছেন।
“আগেও বলেছি, আমরা খেলোয়াড়দের ওপর আরেকটি বিষয় জোর দিয়ে বলি—বিকল্প খেলোয়াড়দের গুরুত্ব। আমরা সবসময় চাই তারা মাঠে নেমে খেলার গতিপথ বদলাতে সাহায্য করুক, এবং সেদিন তারা সেটা খুব ভালোভাবে করেছে।”
“আমি মনে করি, ম্যাচের প্রথমার্ধে মূল একাদশ দারুণ খেলেছিল। এরপর হংকং ম্যাচে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, যতক্ষণ না আমরা বিকল্প খেলোয়াড়দের মাঠে নামাই। আমি বলবো, মূল একাদশ এবং ৫৬-৫৭ মিনিটে নামা বিকল্প খেলোয়াড়রা সবাই খুব ভালো কাজ করেছে। আগামীকালও একই রকম কিছু হবে— যে-ই খেলুক, যে-ই বদলি নামুক, তাদের ভূমিকা একই থাকবে।”
ফিরতি লেগেও উপভোগ্য ম্যাচের আশা কাবরেরার। কেবল ফলটাই নিজের পক্ষে খুব করে পেতে চাইছেন তিনি। এ কারণে হংকংয়ে গিয়ে অনুশীলনের জন্য বাজে মাঠ পাওয়া, হোটেল থেকে প্রস্তুতি মাঠের দূরত্ব- মুখোমুখি হওয়া এই বাঁধাগুলো নিয়ে ভাবতে চাইছেন না তিনি।
“অনুশীলনের জন্য অবশ্যই সেরা মাঠ ছিল না, পরিবেশও খুব ভালো ছিল না, কিন্তু আমাদের পরিকল্পিত অনুশীলনগুলো করার জন্য তা যথেষ্ট ছিল। আরও ভালো হতে পারতো, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমি হংকংয়ের সুযোগ-সুবিধার মান সম্পর্কে ঠিক জানি না। এগুলো গড়পড়তা ছিল বলা যায়, তবে আমার কাছে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।”
“গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আমরা প্রথম লেগে খুব ভালো খেলেছি, সামগ্রিকভাবে এটা ছিল একটি দারুণ ম্যাচ। আমরা আগামীকালও ঠিক একই রকম ম্যাচের প্রত্যাশা করছি। আমরা একই মানসিকতা, একই লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামব এবং জানি যে, সামনে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের ৩ পয়েন্ট পেতেই হবে।