‘ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রেই খেলবে’
ফিফা কংগ্রেসে ইরানের প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে একথা বলেছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইরান অস্বীকৃতি জানালেও, সেটা আমলে নিচ্ছে না ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফের বলেছেন, নির্ধারিত সুচি অনুযায়ীই মাঠে দেখা যাবে ইরান দলকে।
ফিফার গভর্নিং বডির কংগ্রেসে বৃহস্পতিবার ইরানের কোনো প্রতিনিধি ছিল না। আর এতে এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জগুলো আরও প্রকটভাবে ফুটে উঠছে।
ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তাও দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। তবে আশাহত হচ্ছেন না ইনফান্তিনো। তার বিশ্বাস, বৈশ্বিক আসরে অংশ নিয়ে নিজেদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রেই খেলবে ইরান।
“শুরুতে বলতে চাই, অবশ্যই ইরান ২০২৬ বিশ্বকাপ অংশ নেবে এবং অবশ্যই তারা যুক্তরাষ্ট্রে খেলবে। এর কারণ খুবই সাধারণ, আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটা আমার ও আমাদের সবার দায়িত্ব।”
একই দিন বৃহস্পতিবার ইরানের বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও। ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি নেই তার।
“যদি জিয়ান্নি সেটা বলে থাকে, তাহলে আমার সমস্যা নেই। জিয়ান্নি কি এটা বলেছে? তাহলে তাদের খেলতে দিন। জিয়ান্নি অসাধারণ একজন মানুষ, সে আমার বন্ধু। সে এনিয়ে কথা বলেছে।”
“আমি বলেছি, তুমি যা খুশি করতে পারো। তাদেরকে রাখতে পারো, আবার তাদেরকে বাদও দিতে পারো। তারা সম্ভবত ভালো দল। তাদের কি ভালো দল আছে?”
বাছাইপর্ব পেরিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকেট নিশ্চিত করে ইরান। কিন্তু দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর এবারের বিশ্বকাপে তাদের খেলা তৈরি হয়েছে জটিলতা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।
যদিও তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে ফিফা। তাই, ইরান সরে দাঁড়ালে বিশ্ব মঞ্চে তাদের জায়গায় খেলবে কোন দেশে, সেটা নিয়েও হচ্ছে তুমুল আলোচনা।
এরই মধ্যে ঘটে গেছে বিতর্কিত এক ঘটনা। সভাপতি মেহদি তাজসহ ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কয়েকজন ফিফার কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তেহরানের দাবি, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও টরন্টো বিমানবন্দরে কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ‘অগ্রহণযোগ্য আচরণের’ কারণে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হন।
মঙ্গলবারের এই ঘটনা ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতাগুলোকে সামনে এনেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের প্রতিনিধি দলের দুই সদস্য কংগ্রেসে অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু তাদের একজন সদস্যকে কানাডায় প্রবেশ করতে না দেওয়ায় তারা অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় হবে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ। অংশগ্রহণ করা দলগুলোর খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের বারবারই এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে হতে পারে। এর ফলে ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বা কূটনৈতিক টানাপোড়েন নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে বলেন, বিশ্বকাপে ইরানের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে ওয়াশিংটনের কোনো আপত্তি নেই। তবে খেলোয়াড়রা ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে সঙ্গে আনতে পারবেন না।
