ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
কক্ষচ্যুত পেপ গুয়ার্দিওলার দল যেন আত্মবিশ্বাসই হারিয়ে ফেলেছে, মাঠে কোনোকিছুই যথার্থ করতে পারছে না তারা।
Published : 21 Dec 2024, 08:33 PM
দিনে দিনে ব্যর্থতা যেন আরও আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে ধরছে ম্যানচেস্টার সিটিকে। অ্যাস্টন ভিলার আঙিনায় একেবারে শেষমুহূর্তে জালের দেখা পেলেও, পরাজয় এড়াতে পারল না প্রিমিয়ার লিগের টানা চারবারের চ্যাম্পিয়নরা।
ভিলা পার্কে শনিবার লিগ ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা। জন দুরানের গোলে ভিলা শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মর্গ্যান রজার্স। শেষ দিকে ব্যবধান কমান ফিল ফোডেন।
প্রিমিয়ার লিগে এই নিয়ে টানা দুই এবং সবশেষ আট ম্যাচে ছয়টিতে হারল সিটি; জিতেছে মাত্র একটি, অন্যটি ড্র।
ভিলার মাঠে এই নিয়ে টানা তিনটি লিগ ম্যাচে জিততে ব্যর্থ হলো সিটি। এখানে ২০২২ সালে ১-১ ড্রয়ের পর গত ডিসেম্বরে গুয়ার্দিওলার দল হেরেছিল ১-০ গোলে।
দারুণ এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে দুই ধাপ এগিয়েছে ভিলা। ১৭ ম্যাচে আট জয় ও চার ড্রয়ে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠেছে তারা। এক ধাপ নিচে নেমে যাওয়া সিটির পয়েন্ট ২৭।
মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে সমন্বয় হচ্ছে না ঠিকঠাক, আর রক্ষণে তো বেহাল দশা- সিটির সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্সের চিত্র এমনই। ভিলার বিপক্ষে নেমে ২০ সেকেন্ডেই যেমন গোল খেতে বসেছিল তারা। ডিফেন্ডার ইয়োশকো ভার্দিওলের ভুলের সুযোগে দুরানের নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে ফেরান গোলরক্ষক স্টেফান ওর্টেগা।
পরের মিনিটে আবারও ভিলার হানা। এবার কর্নারে পাও তরেসের প্রচেষ্টায়ও দারুণ নৈপুণ্যে আটকান ওর্টেগা। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বলের প্রায় ৮০ শতাংশ গোললাইন পেরিয়ে গিয়েছিল।
প্রথম ১০ মিনিটে ভিলা গোলের জন্য আরও দুটি শট নেয়। ষোড়শ মিনিটে পঞ্চম শটে কাঙ্ক্ষিত গোলও পেয়ে যায় তারা।
গোলটিতে নড়বড়ে সিটির রক্ষণের ভঙ্গুর দশা ফুটে ওঠে। গোলরক্ষকের বাড়ানো বল মাঝমাঠে পেয়ে ইউরি টিয়েলেমান্স দারুণ পাসে মর্গ্যান রজার্সকে খুঁজে নেন। মর্গ্যান নিজেই শট নিতে পারতেন, তবে এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড বক্সে ডান দিকে পাস দেন দুরানকে। বল পেয়ে জোরাল শটে দলকে এগিয়ে নেন কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড দুরান।
প্রথম আধা ঘণ্টায় ৭৫ শতাংশের বেশি সময় পজেশন ছিল সিটির দখলে। কিন্তু বাকি আর কিছুই ঠিকঠাক হচ্ছিল না তাদের। টানা ব্যর্থতায় তাদের আত্মবিশ্বাসই যেন নড়ে গেছে।
৩৫তম মিনিটে প্রথম পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারে সিটি। তবে ফিল ফোডেনের সেই প্রচেষ্টা ঝাঁপিয়ে রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
বিরতির পরও ম্যাচের গতিপথ পাল্টায়নি। বরং প্রথমার্ধে সিটি যে বল দখলে একচেটিয়া আধিপত্য করে, এবার সেখানেও ভাটা পড়ে।
৬০তম মিনিটে ভাগ্যের জোরে দ্বিতীয় গোল হজম করা থেকে বেঁচে যায় শিরোপাধারীরা; রজার্সের শট পোস্টে বাধা পায়। তবে প্রতিপক্ষকে বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারেনি তারা। পাঁচ মিনিট পর ২২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বক্সে সতীর্থের পাস পেয়ে কোনাকুনি শটে ওর্টেগাকে পরাস্ত করেন।
চার মিনিট যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ফোডেনের গোলে ক্ষণিকের জন্য খেলায় প্রাণ ফেরে। তবে নতুন কোনো নাটকীয়তা আর জাগাতে পারেনি সিটি।