Published : 31 May 2026, 10:22 AM
৪১ বছর বয়সে ক্রিস্তিয়িানো রোনালদোর এবারের বিশ্বকাপে খেলাই ফুটবল ইতিহাসে বড় ঘটনা। আগামী বিশ্বকাপেও তার খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করাটি নিশ্চয়ই বাড়াবাড়ি! তবে নামটি যখন রোনালদো, সেখানে অসম্ভব বলে কিছু দেখেন না পর্তুগালের কোচ রবের্তো মার্তিনেস। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সফলতম গোলস্কোরারকে ২০৩০ বিশ্বকাপেও দেখলেও অবাক হবেন না এই কোচ।
চার বছর আগে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে যখন বিদায় নিয়েছিল পর্তুগাল, রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়ও শেষ দেখেছিলেন অনেকেই। পরের বছর যখন ক্লাব ফুটবলে তিনি পাড়ি জমালেন সৌদি আরবে, তখনও শীর্ষ পর্যায়ে তার সমাপ্তি দেখেছিলেন অনেকে। কিন্তু রোনালদো ঠিকই দাপটে খেলে যাচ্ছেন এবং বিশ্বকাপে যাচ্ছেন অধিনায়ক হিসেবেই।
পাঁচটি বিশ্বকাপে গোল করা একমাত্র ফুটবলার এবার খেলবেন ষষ্ঠ বিশ্বকাপে। ৪৫ বছর বয়সে সপ্তম বিশ্বকাপেও তার খেলা কি সম্ভব?
স্পেনের কাদেনা সের রেডিওতে মার্তিনেস বললেন, রোনালদোর সামর্থ্যের সীমা নিয়ে তার কোনো সংশয় নেই।
“রোনালদোকে নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। সে এটা অর্জন করেই নিয়েছে।”
“পর্তুগালের সব তরুণ ফুটবলারের কাছে আমরা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর আদর্শ তুলে ধরতে চাই, কারণ সে একজন রোল মডেল।”
মার্তিনের মতে, ভেতরের তীব্র তাড়না ও প্রতিনিয়মত নতুন উচ্চতায় ছুঁতে চাওয়ার মনোভাবই রোনালদোর সবচেয়ে বড় জ্বালানি।
“আমরা, (জাতীয় দলের) কোচিং স্টাফ, এটা অনুভব করতে পেরেছি যে, রোনালদো কোনো নির্দিষ্ট দলীয় বা ব্যক্তিগত শিরোপা জেতার জন্য খেলেন না। ক্রিস্তিয়ানো কী খান, তা দিয়ে তার পরিচয় নির্ধারিত হয় না, বরং তার ভেতরের ক্ষুধাই তার পরিচয়। সে যা-ই জিতুক না কেন, ঠিক তার পরের দিনই আরও ভালো করার জন্য তার মধ্যে একই রকম ক্ষুধা থাকে।”
“আমি এমন অনেক ফুটবলারের সঙ্গে কাজ করেছি, যারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা ব্যালন দ'অর জিতেছে এবং পরের দিনই তাদের সেই ক্ষুধা হারিয়ে গেছে। রোনালদোর মধ্যে আমরা এক ভিন্ন মানসিকতার উদাহরণ দেখতে পাই।”
২০০৩ সালে পর্তুগালের হয়ে অভিষিক্ত রোনালদো এখন আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা (২২৬) ও সবচেয়ে বেশি গোল করা ফুটবলার (১৪৩)। মার্তিনেসের মতে, উৎকর্ষের তাড়নাতেই তিনি কখনও হাল ছাড়েন না ও ঘাম ঝরাতে কমতি রাখেন না।
“আমি বিশ্বাস করি যে, এই লক্ষ্যটাই দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের কারণ। অবশ্যই, এর একটি জিনগত দিকও আছে, তিনি যে কঠোর পরিশ্রম করেন — যা কিছু তার শরীরকে সাহায্য করতে পারে, তিনি তার সবই ব্যবহার করেন — এবং তার মানসিকতাও এর একটি অংশ।”