২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 01 Jun 2026, 11:27 AM
কেউ পায়ের কারিকুরিতে, কেউ বা গতিতে, কেউ আবার এই দুইয়ের মিশেলে কিংবা কেউ রক্ষণে দুর্দান্ত কার্যকারিতায় তারুণ্যেই ঝলক দেখিয়ে চলেছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতেই উঠে এসেছেন পাদপ্রদীপের আলোয়। ক্লাব ফুটবলে ইতোমধ্যে তারা প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ধরাতে পেরেছেন, জাতীয় দলেও দিয়েছেন দুর্দান্ত কিছু করে দেখানোর আভাস। সেই সম্ভাবনাকেই এবার পূর্ণতা দেওয়ার পালা, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ- বিশ্বকাপে।
উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রতিভাধর তরুণ তারকাদের নিয়ে ফিফার বিশেষ আয়োজন বিশ্বকাপের বিস্ময়বালক। এই পর্বে আছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার নিকো পাস।
জন্ম তারিখ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৪
দল: আর্জেন্টিনা ও কোমো
আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক: ১৫ অক্টোবর ২০২৪, বলিভিয়ার বিপক্ষে (২০ বছর বয়সে)
পজিশন: অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার
বিশেষ দক্ষতা: সৃজনশীলতা, দূরদর্শিতা, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা, বল টেনে নিয়ে যাওয়ার দক্ষতা এবং গোলের খোঁজে থাকা
কেন বিশ্বকাপের সেনসেশন হয়ে উঠতে পারেন পাস
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার স্মরণীয় জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন দলটির তরুণ ফুটবলাররাও। আন্তর্জাতিক আঙিনায় খেলার অল্প অভিজ্ঞতা নিয়ে সেবার বিশ্ব মঞ্চে খেলতে যান হুলিয়ান আলভারেস, আলেক্সিস মাক আলিস্তের ও এন্সো ফের্নান্দেসরা। প্রত্যেকেই সুযোগটা দারুণভাগে কাজে লাগান।
দলে কখন পরিবর্তন প্রয়োজন, কখন নতুনভাবে শুরু করতে হবে, তরুণদের ওপর আস্থা রাখার সঠিক সময় কখন, খুব ভালো করেই জানেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি। চার বছর আগের বৈশ্বিক আসরে যেভাবে তিনি আলভারেস, ফের্নান্দেসদের সুযোগ করে দিয়েছিলেন, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেও সেই একই চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। আর সেটা হলে, নিকো পাসের মতো তরুণরা বড় দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
২০১৬ সালে ১১ বছর বয়সে রেয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে যোগ দেন পাস। ইউরোপের সফলতম ক্লাবটির হয়েই পেশাদার ফুটবলে পথচলা শুরু তার। ২০২৩ সালে রেয়ালের মূল দলে সুযোগ পান তিনি। যদিও বেশি ম্যাচ খেলতে পারেননি। আট ম্যাচে এক গোল করেন ২১ বছর বয়সী ফুটবলার।
২০২৪ সালের অগাস্টে ইতালিয়ান ক্লাব কোমোতে যোগ দেওয়ার পরদিনই সেরি আয় অভিষেক হয়ে যায় পাসের। দলটির হয়ে এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৫ ম্যাচ খেলে ১৯ গোল করেছেন তিনি। সতীর্থদের ১৭টি গোলে রেখেছেন অবদান।
চলতি মৌসুমে কোমোর জার্সিতে ৪০ ম্যাচ খেলে ১৩টি গোল ও আটটি অ্যাসিস্ট করেছেন পাস। আর্সেনাল ও বার্সেলোনার সাবেক মিডফিল্ডার সেস ফাব্রেগাসের কোচিংয়ে দলটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন তিনি।
আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন পাস। স্কালোনির কোচিংয়ে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও অভিষেক হয়েছে তার। এখন পর্যন্ত আটটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
বলিভিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে অভিষেকেই অ্যাসিস্ট করেন পাস। আর একমাত্র গোলটি পান মাউরিতানিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতা প্রীতি ম্যাচে।

কোচ ও সাবেকদের চোখে পাস
“তার মধ্যে অনেক গুণ রয়েছে এবং আশা করি, সে উন্নতি করতে থাকবে। যখন শীর্ষ পর্যায়ে (লা লিগা) আমার অভিষেক হয়, তখন ওর জন্মও হয়নি। তার চিন্তাশক্তি দারুণ এবং খেলাটা নিখুঁতভাবে পড়তে পারে। আশা করি, সে এই পথ ধরেই এগিয়ে যাবে। মাঠে সে উপভোগ করে এবং আমার মনে হয়, সে এই দলে (আর্জেন্টিনা দল) স্বচ্ছন্দ্য অনুভব করে, কারণ আমরা বল পায়ে রেখে খেলি। সে এইভাবে খেলেই বড় হয়েছে।”
- লিওনেল মেসি, আর্জেন্টাইন মহাতারকা
“জাতীয় দলে ডাক পেয়ে সে ভীষণ খুশি হয়েছিল। তার জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। এটা বলা আমার কাজ নয়, তবে রেয়াল মাদ্রিদের কাছে যদি নিকো পাসকে ফেরানোর সুযোগ থাকে, আমি হলে দ্বিতীয়বার ভাবতাম না। আমি তার সামর্থ্য সম্পর্কে জানি, শুধু রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলাই নয়, নিজের খেলাকে আরও উঁচুতে নেওয়ার গুণ তার আছে।”
- লিওনেল স্কালোনি, আর্জেন্টিনা কোচ
“সে একজন স্পেশাল ফুটবলার, যাকে নিজের প্রতিভা মেলে ধরার স্বাধীনতা দিতে হবে, তাকে রোবট বানিয়ে ফেলা ঠিক হবে না, সে একজন চ্যাম্পিয়ন। তার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটুও চিন্তা করি না। কারণ আমি বুঝতে পারি, কখন একজন খেলোয়াড় সত্যিই ক্ষুধার্ত এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর মানসিকতা আছে, আর কখন কেউ শুধু ভালো ফর্ম উপভোগ করছে। বিনয়ের সঙ্গে (উন্নতি ধরে রাখতে পারলে) যতদূর চায় সে যেতে পারবে। প্রতিভা ও শারীরিক সক্ষমতা, দুটোই তার আছে।”
- সেস ফাব্রেগাস, কোমো কোচ
“তাকে খুব ভালোভাবে অনুসরণ করি, সে এই মুহূর্তে অত্যন্ত উঁচু মানের পারফরম্যান্স করছে। সে দারুণ ফর্মে আছে এবং মনে হচ্ছে আরও উন্নতি করবে। আর্জেন্টিনাকে অনেক আনন্দের উপলক্ষ এনে দেবে। সমস্যা হলো (রেয়াল) মাদ্রিদে এত বেশি ভালো খেলোয়াড় যে, স্রেফ বেঞ্চে বসিয়ে রাখার জন্য তাকে ফিরিয়ে আনা হলে সেটা তার উন্নতির জন্য সহায়ক হবে না। কোমোয় কাটানো সময়টা তার দারুণ কাজে দিয়েছে। সে এখন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এবং গত মৌসুমের চেয়ে তাকে আরও ধারাল দেখাচ্ছে; আমি তার জন্য সত্যিই খুব খুশি। বড় কোনো ক্লাবে নিজের দ্যুতি ছড়ানোর সময় তার আসবেই।”
- আনহেল দি মারিয়া, আর্জেন্টাইন তারকা
পাসের সম্ভাব্য বিশ্বকাপ অভিযান
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় এবারের বিশ্বকাপে ‘জে’ গ্রুপে পড়েছে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ হিসেবে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানকে পেয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
ক্যানসাস সিটিতে আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মুকুট ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। ডালাসে তাদের পরের ম্যাচ ২২ জুন, প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। একই মাঠে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হবে তারা, আগামী ২৮ জুন।